ছয় লক্ষ টাকা খরচে সব প্রক্রিয়া শেষে পেয়েছিলেন মালয়েশিয়ার ভিসা। ভেবেছিলেন প্রবাসে কাজ করে ঘুরবে ভাগ্যের চাকা। কিন্তু বিমানের টিকেট না পাওয়াসহ শেষ মুহুর্তের নানা জটিলতায় যাওয়া হয়নি স্বপ্নের গন্তব্যে। এখন রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করে ব্যাংকের ঋণ শোধ করছেন নওগাঁর সাব্বির আহমেদ।
ভিসা হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা আরেক কর্মী দিনাজপুরের মহসিন হোসেন। বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান, প্রবাসে পাড়ি জমাতে, ফসলি জমি বিক্রি করে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন। কিন্তু পূরণ হয়নি সেই আশা। বরং দেনা পরিশোধ করতে না পেরে প্রায় এক বছর আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি।
এমনকি রিক্রুটিং এজেন্সি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মহলে দেনদরবার করেও উদ্ধার করতে পারেননি খরচ হওয়া একটি টাকাও।
২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পর আন্দোলন-বিক্ষোভ করেও বিষয়টির কোনো সুরাহা করতে পারেননি এই কর্মীরা।
সব মিলিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটছে, বৈধ ভিসা পাওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা হাজারো কর্মীর।
(খবরঃ বিবিসি বাংলার সৌজন্যে)
মন্তব্য / প্রেরক
বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স): একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা
-
মোঃ রফিকুল ইসলাম সরকার
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক এবং শক্তিশালী সূচক হলো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। ২০২৪-২৫ এবং চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেলেও, প্রবাসীদের পাঠানো রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে স্থিতিশীল রাখতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
নিচে দেশের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রবাসী আয়ের উপর একটি বিস্তারিত রিপোর্ট উপস্থাপন করা হলো:
১. প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) প্রবাহের সাম্প্রতিক চিত্র
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশের ইতিহাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে এক অভূতপূর্ব রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সদ্য বিদায়ী মে ২০২৬-এ দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার (৩.৪২ বিলিয়ন ডলার)।
-
টানা ৬ মাস ৩ বিলিয়নের রেকর্ড: গত ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত টানা ছয় মাস ধরে প্রতি মাসে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।
-
চলতি অর্থবছরের অর্জন: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু (জুলাই ২০২৫) থেকে ১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশে মোট ৩৪.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.৬১% বেশি।
-
একক মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড: এর আগে গত বছরের (২০২৫) মার্চ মাসে দেশে রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা ছিল একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
২. শীর্ষ রেমিট্যান্স উৎস ও শ্রমবাজারের রূপান্তর
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার এবং রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখনো আমাদের প্রধান ভরসা হলেও দূরপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারও বড় হচ্ছে।
প্রধান উৎস দেশসমূহ
-
সৌদি আরব (শীর্ষস্থান): বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে সৌদি আরব তার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫-২৬ সময়ে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ৬৫% বৃদ্ধি পেয়ে ৫.০৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
-
যুক্তরাষ্ট্র (ইউএসএ): অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ২০% হ্রাস পেয়ে ৩.৪৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, ফলে শীর্ষ তালিকায় দেশটির অবস্থান কিছুটা পিছিয়েছে।
-
অন্যান্য দেশ: মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ৫০% প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এছাড়া কাতার, কুয়েত এবং ইতালি থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আয় আসছে।
জনশক্তি রপ্তানির বর্তমান অবস্থা
ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (BMET)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০.১১ লাখ কর্মসংস্থানের তুলনায় ২০২৫ সালে বিদেশে মোট কর্মসংস্থান প্রায় ১২% বৃদ্ধি পেয়ে ১১ লাখ ৩১ হাজার ১৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) বাজারে কর্মী যাওয়ার হার প্রায় ৭১% হ্রাস পেলেও মালদ্বীপ, কম্বোডিয়া, ইতালি এবং কিরগিজস্তানের মতো নতুন নতুন দেশ শীর্ষ ১০টি গন্তব্যের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে।
৩. ব্যাংকিং চ্যানেলের ভূমিকা ও শীর্ষ ব্যাংকসমূহ
প্রবাসীদের বৈধ পথে (ব্যাংকিং চ্যানেলে) টাকা পাঠানোর আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে আড়াই শতাংশ (২.৫%) সরকারি নগদ প্রণোদনা এবং হুন্ডি প্রতিরোধের কড়াকড়ি বড় ভূমিকা রেখেছে।
-
শীর্ষ সংগ্রাহক ব্যাংক: বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসছে। এর মধ্যে একক ব্যাংক হিসেবে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (গত মে মাসেই এককভাবে এসেছে ৫৯ কোটি ২১ লাখ ডলার)।
-
অন্যান্য সফল ব্যাংক: সার্বিক রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক।
৪. অর্থনীতিতে এর প্রভাব ও গুরুত্ব
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে: ২০২৬ সালের জুন মাসের শুরুতে দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এই রিজার্ভ শক্তিশালী করার পেছনে প্রধান অবদান প্রবাসীদের।
-
আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য রক্ষা: বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে, তার চেয়ে বেশি আমদানি করতে হয়। এই বাণিজ্য ঘাটতি (Trade Deficit) পূরণে রেমিট্যান্স সরাসরি কুশন হিসেবে কাজ করছে।
-
গ্রামীণ অর্থনীতি ও ভোগব্যয়: প্রবাসী আয় সরাসরি উৎপাদনশীল খাতে খুব বেশি বিনিয়োগ না হলেও, গ্রামীণ পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন ভোগব্যয়ের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার সচল রাখছে।
৫. বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয়
শ্রমবাজারকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে এবং রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখতে কিছু বিষয়ে দ্রুত নজর দেওয়া প্রয়োজন:
-
দক্ষ কর্মী তৈরি: আমাদের দেশ থেকে এখনো সিংহভাগ কর্মী 'অদক্ষ' বা 'আধা-দক্ষ' হিসেবে বিদেশে যান (যেমন নির্মাণ শ্রমিক বা পরিচ্ছন্নতা কর্মী)। এদের জায়গায় আইটি, নার্সিং, ড্রাইভিং বা টেকনিক্যাল কাজের জন্য দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দ্বিগুণ করা সম্ভব।
-
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ: প্রবাসীদের পাঠানো টাকা যাতে শুধু ভোগব্যয় বা জমি কেনায় শেষ না হয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (SME) বিনিয়োগ হতে পারে, সেজন্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সহায়তা ও বন্ডের সুবিধা আরও বাড়াতে হবে।
-
নতুন বাজার অনুসন্ধান: মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে পূর্ব ইউরোপ, এশিয়া-প্যাসিফিক ও আফ্রিকার উদীয়মান শ্রমবাজারগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে।
উপসংহার: সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্স বাংলাদেশের জন্য এক বড় আশার আলো। সঠিক অভিবাসন নীতি, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বৈধ পথের সুযোগ-সুবিধা আরও সহজ করার মাধ্যমে এই খাতকে দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধরে রাখা সম্ভব।
মন্তব্য / প্রেরক
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: শঙ্কায় রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও প্রবাসীদের ভবিষ্যৎ
-
মো: রফিবুল ইসলাম সরকার, সম্পাদক, ঢাকামোড়২৪.কম
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন আর কেবল কূটনীতির টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই; তা সরাসরি আঘাত হানছে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত কয়েক মিলিয়ন বাংলাদেশি ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ এখন ত্রিমুখী সংকটে—যুদ্ধের আতঙ্ক, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দেশে থাকা পরিবারের নিরাপত্তা।
১. রণক্ষেত্র যখন কর্মস্থল: আতঙ্কে প্রবাসীরা
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের ছায়া দীর্ঘ হচ্ছে। লেবানন, ইয়েমেন এবং আশেপাশের দেশগুলোতে কর্মরত প্রবাসীরা সরাসরি যুদ্ধের কবলে পড়েছেন। আকাশপথে হামলা এবং সীমান্ত উত্তেজনার কারণে অনেক প্রবাসী তাদের কর্মস্থল হারিয়ে ঘরবন্দি হয়ে আছেন।
-
জীবন ঝুঁকি: নিয়মিত বিমান হামলার সাইরেন আর বিস্ফোরণের শব্দে কাটছে প্রবাসীদের দিন।
-
যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা: অনেক এলাকায় ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দেশে থাকা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
২. রেমিট্যান্স প্রবাহে অস্থিরতা
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলো রেমিট্যান্স। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
| প্রভাবের খাত | বর্তমান পরিস্থিতি | সম্ভাব্য ফলাফল |
| মুদ্রাস্ফীতি | স্থানীয় মুদ্রার মান কমছে | প্রবাসীদের সঞ্চয় কমে যাচ্ছে |
| ব্যাংকিং চ্যানেল | অস্থিরতায় হুন্ডির প্রবণতা বাড়তে পারে | সরকারের রিজার্ভে টান পড়বে |
| চাকরি চ্যুতি | ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে | গণহারে শ্রমিক ফেরত আসার ঝুঁকি |
৩. জীবনযাত্রার ব্যয় ও মানসিক চাপ
যুদ্ধের অজুহাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী। আবাসন খরচ এবং খাবারের পেছনে বাড়তি ব্যয় করতে গিয়ে প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠাতে পারছেন না। একদিকে নিজের টিকে থাকার লড়াই, অন্যদিকে দেশে থাকা বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণের চিন্তা—এই দুইয়ের চাপে পিষ্ট হচ্ছেন আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা।
"এখানে কাজ নেই, বাইরে বের হওয়াও নিরাপদ নয়। জমানো টাকা শেষ হয়ে আসছে। দেশে টাকা পাঠানো তো দূরের কথা, নিজেরা কী খাবো তা নিয়ে চিন্তায় আছি।"
— রিয়াদ থেকে একজন বাংলাদেশি প্রবাসী
৪. সরকারের করণীয় ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন:
-
জরুরি প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা: যুদ্ধকবলিত এলাকা থেকে প্রবাসীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য ‘ইভাকুয়েশন প্ল্যান’ প্রস্তুত রাখা।
-
বিকল্প শ্রমবাজার: কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে ইউরোপ বা পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ করা।
-
মানসিক ও আর্থিক সহায়তা: ফিরে আসা প্রবাসীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
( তথ্য সহায়তায় : ইন্টারনেট )
উপসংহার: মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে ঘাম ঝরিয়ে যারা বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন, আজ তারা এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে তাকাচ্ছেন। যুদ্ধের এই দামামা থামবে কি না তা অনিশ্চিত, তবে আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে এই সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ।
মন্তব্য / প্রেরক
প্রবাসীদের এক নজরে অবদান (সংক্ষিপ্ত নিউজ প্রতিবেদন)
🇧🇩 অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকা: প্রবাসীদের অবদান
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে প্রবাসীরা আজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ২০২৫ এর তৃতীয় ত্রৈমাসিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ GDP‑এর 6.96% ছুঁয়েছে যা দেশের মুদ্রা মান স্থিতিশীল রাখতে ও আমদানি ব্যালেন্স মেনে চলতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে BB।
রেমিট্যান্স সঙ্কট কয়রে নেই
- ২০২৩‑২৪ অর্থবছরে প্রায় 23.9 বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে যা দেশের আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক ছিল escdu.orgmigrationpolicy.org।
- মার্চ ২০২৫ এ রেমিট্যান্স আয় ছিল 3.29 বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬৫% বেড়েছে Eurasia Review।
গরিব দমনে রেমিটেন্স ও সামাজিক উন্নয়ন
- বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, রেমিট্যান্স অভাব জনসংখ্যার প্রায় ৮‑১১ শতাংশ পর্যন্ত দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশে IMF।
- গ্রামীণ পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখেছে—বাড়ি নির্মাণ, শিশুদের পড়াশোনা ও স্বাস্থ্যসেবায় উন্নতি হয়েছে EconJournals।
নিয়ন্ত্রণ ও চ্যালেঞ্জ
- বাড়তি নির্ভরতা ও বৈদেশিক আর্থিক ঝুঁকিতে প্রবাসী পরিবারগুলো আক্রান্ত; পরিবারবর্গ প্রেরণ সংকট হলে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বলতার সম্মুখীন The Financial Express।
- সামাজিকভাবে বিভাজন ও পার্থক্য বাড়ছে—যারা রেমিট্যান্স পায় না, তারা প্রভাবিত হচ্ছে সমাজে সরাবেনার অভাবে The Financial Express।
মন্তব্য / প্রেরক
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রার পাদাংসিডিমপুয়ান শহরের জালান মাওয়ার এলাকার এক বাড়ি থেকে ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনায় মানব পাচারকারী এক দম্পতিকেও আটক করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সিন্ডো নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার পাদাংসিডিম পুয়ানের পুলিশ প্রধান একেবিপি উইরা প্রয়াতনা এক বিবৃতিতে জানান, আটক ওই দম্পতি তাদেরকে মালয়েশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় নিয়ে যান।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ ওই দম্পতির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১২ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ওই ১২ জনকে বাংলাদেশের একটি এজেন্সির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়া থেকে প্রথমে জলপথে মালাক্কা প্রণালীর মধ্যদিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর তাদের পাদাংসিডিমপুয়ানের জালান মাওয়ারের ওই বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে পাচারকারীরা প্রত্যেকের কাছে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। সেই সঙ্গে জানানো হয়, মুক্তিপণ দেওয়া হলে তাদের মুক্ত করে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
আটক দম্পতিকে ইন্দোনেশিয়ার মানব পাচারের অপরাধ সম্পর্কিত আইনে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই আইনে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
মন্তব্য / প্রেরক
সাম্প্রতিক
নিউজলেটার
নিউজলেটার বিবরণ