অন্তর্বর্তী সরকার অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার করছে; মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। ব্যাংক ঋণের চাপ কমিয়ে বৈদেশিক ধারে জোর দেওয়া এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় নীতি পরিবর্তন করা হচ্ছে। সংশোধিত ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমছে ৩৯ হাজার কোটি টাকা আর বৈদেশিক ঋণে বাড়ছে ১৪ হাজার কোটি টাকা।
বেশিমাত্রায় বিদেশি ঋণ নিয়ে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনা হচ্ছে। ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও তারল্য সংকট থেকে ব্যাংকগুলোকে রক্ষা ও কৃচ্ছ সাধনে সাশ্রয়ী অর্থ ব্যয় করতে সরকার ঋণের নীতিতে পরিবর্তন আনছে।
সম্প্রতি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ কম এবং বিদেশি ঋণ ১৪ হাজার কোটি টাকা বেশি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
অর্থ বিভাগের বাজেট শাখার সংশ্লিষ্টদের মতে, ডলারের জোগান এতে বাড়বে যদি বিদেশ থেকে বেশিমাত্রায় ঋণ করা যায়। কারণ, ডলার সংকট এখনো কাটেনি। বিদেশি ঋণে জোর দেওয়ার পেছনে এটিও একটি কারণ।
সাধারণত অর্থবছরের শুরুতে সরকার একটি বাজেট ঘোষণা করে। এর মধ্যে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেশি ধরা হলেও কম ধরা হয় আয়ে। যে কারণে ঘাটতি পূরণ করতে সরকার দেশের ভেতর ও বিদেশ থেকে ঋণ করে থাকে। এ বছর ঘাটতি পূরণে দেশি ও বিদেশি মোট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। বাজেট নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারের প্রত্যাশা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট বৈদেশিক ঋণ ৯৫ হাজার কোটি এবং ব্যাংক ঋণ ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা। অর্থনৈতিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল বৈঠকে তা সংশোধন করা হয়। এতে বৈদেশিক ঋণের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা বেড়ে ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৯৯ হাজার কোটি টাকায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে জানান, অন্তর্বর্তী সরকার অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার করছে। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নিচ্ছে না। এর বাইরে নানা উদ্যোগ নেওয়ার পর বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। ফলে শুরুতে যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ব্যাংক ঋণের, সেটির প্রয়োজনীয়তা কমছে। ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমানো এটি একটি কারণ। আর এটি করা হলে বেসরকারি খাতে ঋণ সরবরাহ বাড়বে, যা বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদহার বেশি, ঋণের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সে তুলনায় বৈদেশিক ঋণের সুদহার কম। যে কারণে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়েছে।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। বিবিএস-এর হিসাবে গেল নভেম্বরে গড় মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৩৮ এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশে উঠেছে। এটি নিয়ন্ত্রণের নিয়ামক হিসাবে ব্যাংক ঋণসহ সার্বিক ব্যয় কমানোর পথে হাঁটছে সরকার।
জুলাই-অক্টোবর-চার মাসে রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংকসহ সঞ্চয়পত্র, বন্ড মিলে ঋণ করেছে ১৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে নিয়েছে ১৫ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। কিন্তু গত বছর একই সময়ে নেওয়া হয়েছিল মাত্র ৫ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজস্ব আহরণ খুব বেশি সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে ছিল। বন্দরগুলো প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়ে। অর্থনীতির এ মন্থর গতির কারণে শুল্ক ও কর আদায়ে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি পড়েছে। আয় কমে যাওয়ায় এ বছর সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়ে যায়। যদিও গত বছর এ সময়ে ঋণ না করে উলটো পরিশোধ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা। ফলে অর্থবছরের মাঝামাঝিতে এসে বর্তমান সরকার দেশের ভেতর থেকে ঋণ করা কমিয়ে আনে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক খাত ছাড়াও এ বছর সঞ্চয়পত্র থেকে একই সময়ে ১৪ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয়। আইএমএফ-এর ঋণের শর্ত পালন করতে গিয়ে গত অর্থবছরের একই সময়ে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ না নিয়ে ২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাংক খাতসহ অভ্যন্তরীণ ঋণের চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার কম নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
এদিকে জোর দেওয়া হচ্ছে বৈদেশিক ঋণে। এরই মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাজেট সহায়তা হিসাবে ৬০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী জানান, প্রতিবছর ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেয় বিশ্বব্যাংক। এবার সংশোধন করে আরও ৭২ কোটি ডলার বেশি দেবে। বিশ্বব্যাংক দেশের গ্যাস খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
Read_more
- ‘ছদ্মবেশে’ বাজার পরিদর্শনে উপদেষ্টা আসিফ
- সরকারি ৪ মেডিকেলে নতুন অধ্যক্ষ
- আদানির বকেয়া ১৭ কোটি ডলার এ মাসেই পরিশোধ করবে সরকার
- ছলচাতুরি নয়, অবিলম্বে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করুন: মির্জা আব্বাস
- ৯ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে
- 'ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের সঙ্গে সব মামলা বাতিল হবে'
- এখন জনগণের প্রত্যাশা ও করণীয়
- আন্তর্জাতিক আদালতে ড. ইউনূসসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
- সবার সঙ্গে বৈঠক করে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেবেন ড. ইউনূস
- ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব
- ধর্ম-বর্ণ-মতের ঊর্ধ্বে আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য : ড. ইউনূস
- ভারতের জনগণকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশের ১৪৫ নাগরিকের বিবৃতি
- শিথিলতার সুযোগে সরকার উৎখাতের চেষ্টা হচ্ছে : ফরহাদ মজহার
- সাবেক প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল সম্পদেও ‘লাল’
- দিল্লি থেকে দূতাবাস ঢাকা অথবা প্রতিবেশী অন্য দেশে স্থানান্তর করুন
- অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী ভারত
- হাসিনার সরব হওয়াকে যেভাবে দেখছে সরকার, বিএনপি ও জামায়াত
- অন্য দেশ থেকে আলু-পেঁয়াজ কেনার কথা ভাবছে বাংলাদেশ, চিন্তায় ভারত
- নেচারের সেরা ১০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় ড. ইউনূস
- বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করবে : তারেক রহমান
- শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিকভাবে পার্বত্য অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে হবে
- বাজার সিন্ডিকেটের কব্জায় অন্তর্বর্তী সরকারও?
- ঢাকায় আসছেন পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট
- ভারত-পাকিস্তানের কিছু ইস্যুর কারণে সার্ক সক্রিয় হচ্ছে না
- ইউক্রেন থেকে দেশে পৌঁছাল ৫২ হাজার টন গম
- অন্তর্বর্তী সরকার উন্নত সুশাসিত দেশ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধান উপদেষ্টা
- ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
- পূর্ব তিমুরে ২০০-৩০০ বাংলাদেশির বসবাস
- প্রেমিকের হাতে হাত মধুমিতার, দিলেন বিশেষ বার্তা
- আকিজ গ্রুপে নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও চাকরি
- স্কুলে ভর্তি চলবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত, ভর্তি ফি সর্বোচ্চ কত?
- বাংলাদেশের জন্য আইএমএফের ঋণের ছাড় ১০ ফেব্রুয়ারি
- বাংলাদেশের জন্য আইএমএফের ৬৪ কোটি ডলার ঋণ ছাড় ১০ ফেব্রুয়ারি
- নির্বাচনের পর নিজের কাজে ফিরে যাব : প্রধান উপদেষ্টা
- আগে একদল সড়কে দুর্নীতি করত এখন করছে অন্যদল: উপদেষ্টা নাহিদ
- আশ্বস্ত করছি বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দেবে না: প্রধান উপদেষ্টা
- হাসিনা পালিয়ে দিল্লিতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক তলানিতে
- সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি এস আলমের
- কমিশন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চাইলেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা
- ভবিষ্যতে এলাকাভিত্তিক আর কোনো বৈষম্য থাকবে না : আসিফ মাহমুদ
- রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থপরতার কারণে দেশ পিছিয়ে আছে: জামায়াত আমির
- ব্যাপক দুর্নীতি দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে
- পিলখানা হত্যাকাণ্ড : নিরপেক্ষ থেকে ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করা হবে
- ফায়ার ফাইটাররা যখন আগুন নেভাচ্ছিল পুলিশ কেন রাস্তা বন্ধ করেনি?
- হাসিনার দালালরা অপকর্মের ফাইল পুড়িয়ে দিল
- অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে যে মূল্যায়ন অলি আহমদের
- রাজনৈতিক দলগুলোকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত: শারমীন এস মুরশিদ
- সেতু নয় যেন মরণফাঁদ, ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ
- সরবরাহ বাড়াতে আদানির কাছে আরও বিদ্যুৎ চায় সরকার
মন্তব্য / প্রেরক
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম গতিশীল করতে ১২ দফা নির্দেশনা
-
স্টাফ রিপোর্টার, কবির হোসেন শান্ত
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের আত্মসাৎকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর। সম্প্রতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এমন নির্দেশনা দেন। সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমা বানু, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম মর্তুজা, মহাব্যবস্থাপক এ বি এম জাহিদ হোসেন, মো. আলা উদ্দিন এবং সঞ্চয় ও ঋণ বিতরণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতা রুহুল আমীন উপস্থিত ছিলেন। সভায় মহাব্যবস্থাপক মো. আলা উদ্দিন ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সভার নির্দেশনাগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম আরো গতিশীল এবং সুশৃঙ্খল করতে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বৈঠকে একগুচ্ছ কঠোর ও গুরুত্বপূর্ণ
নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক কার্যালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি
শাখার কার্যক্রমের মনিটরিং জোরদার করতে জেলা বা আঞ্চলিক কার্যালয়ের জনবল বাড়াতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য আঞ্চলিক প্রশিক্ষক ও নির্দিষ্ট মডিউল তৈরি করে দ্রুত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করার
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শৃঙ্খলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যেকোনো ধরনের অসততা ও অসদুপায় থেকে বিরত রাখতে দ্রুত নির্দেশনা প্রদান এবং সামাজিক
আমার বাড়ি আমার খামার
যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।
ঋণ মনিটরিং ও জুম মিটিং
শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ কমাতে মনিটরিং ও সুপারভিশন জোরদার করতে হবে। সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি নিয়মিত জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে শাখা পর্যায়ে প্রয়োজনীয়
দিকনির্দেশনা দিতে হবে।
আইনগত ব্যবস্থা ও পুনর্গঠন
অনাদায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাবসমূহ চিহ্নিত করে ব্যাংকের প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করে পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন, অবলোপন, মৃত্যুঝুঁকি আচ্ছাদন তহবিল ও মুনাফা মওকুফসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও মূল্যায়ন
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের প্রতিটি শাখার বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রাকে মাসভিত্তিক ভাগ করে দিতে হবে এবং মাঠ সহকারীদের মধ্যে তা বণ্টন করতে হবে। মাঠকর্মী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে তা পরবর্তী মাসের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে এবং
এক্ষেত্রে শাখা ও জেলা কার্যালয়কে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
আত্মসাৎ রোধে কঠোর পদক্ষেপ
অভ্যাসগত অর্থ আত্মসাৎকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বছরভিত্তিক আত্মসাতের তথ্য, শ্রেণিকৃত ঋণের তথ্য ও সার্টিফিকেট মামলার তথ্য পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করতে হবে। আত্মসাৎকারীদের প্রতি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে বিশেষ সার্কুলার জারি করতে হবে।
সঠিক প্রতিবেদন দাখিল
দে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঠভিত্তিক পরিদর্শন সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল বন্ধ করে বাস্তব ও সঠিক তথ্যের মাধ্যমে মাঠের প্রকৃত চিত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন
নিশ্চিত করতে হবে।
ঋণ বিতরণ ও অডিট প্রক্রিয়া
ঋণ বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে লিজেন্ড ও লোন ট্র্যাকিং সিস্টেমের সঠিক মনিটরিং এবং স্পেশালাইজড অডিট জোরদার করতে হবে। ঋণ বিতরণ, পুনর্গঠন, অবলোপন, ক্রয় প্রক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ অডিটের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা, সুশাসন ও যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।
তথ্য সুরক্ষা ও এমআইএস
প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যাদির গোপনীয়তা রক্ষা, দৈনিক খাতের তথ্য এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) সঠিক পরিচালনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমা বানু আমার দেশকে বলেন, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশনার আলোকে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্তব্য / প্রেরক
টানা ৭ দিন হিলি স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু
-
হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শ্বারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে টানা ৭ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকার পর আজ থেকে আবারও আমদানি রপ্তানি শুরু হয়েছে। আমদানি রপ্তানি শুরু হয় বন্দরে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। আসতে শুরু করেছে দূর দূরান্ত থেকে পাইকার পত্ররা।
আজ শনিবার বেলা ১২ টায় হিলি সীমান্ত দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করাই শুরু হয়েছে আমদানি রপ্তানি বানিজ্য।
হিলি আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, হিন্দু ধর্মালম্বীদের শ্বারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে হিলিস্থলবন্দর দিয়ে ১৭ অক্টোবর ( শনিবার) থেকে ২৩ অক্টোবর শুক্রবার পর্যন্ত টানা ৭ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ ছিল। আজ (শনিবার) থেকে যথারীতি নিয়ম অনুযায়ী আমদানি রপ্তানি চালু হয়েছে।
এদিকে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকলেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দু-দেশের মাঝে পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক ছিল ।
মন্তব্য / প্রেরক
অর্থনৈতিক সংস্কারে নিজস্ব পরিকল্পনা তুলে ধরছে বাংলাদেশ, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় অংশ নিতে ব্যাংককে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল
-
অনলাইন ডেস্ক:
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নিজস্ব সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরছে বাংলাদেশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভাকে কেন্দ্র করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এ সভায় অংশ নিচ্ছে। প্রতিনিধি দলে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।
নিজস্ব বাস্তবতার ভিত্তিতে সংস্কার পরিকল্পনা
অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও নীতিগত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরবে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ে নীতিগত সমন্বয়ের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
সংস্কার আলোচনায় ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য
সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরায় চালু করা, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলার বিষয়ও রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এসব পরিকল্পনার সুফল নির্ভর করবে বাস্তবায়নের অগ্রগতি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা, আর্থিক খাতের সুশাসন এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের ওপর।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা
অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করা এবং জ্বালানি ব্যয়ের চাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনীতিসংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দেশের অর্থনীতিতে সহায়ক হতে পারে। তবে ঋণ ও সংস্কারসংক্রান্ত শর্তের পাশাপাশি দেশের স্বার্থ, আর্থিক সক্ষমতা এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকামোড়২৪.কম-এর পর্যবেক্ষণ: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নয়, বরং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকক বৈঠকের আলোচনাগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা এখন দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন।
মন্তব্য / প্রেরক
ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, আর্থিক সংকট কাটাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের তাগিদ
-
ডিজিটাল ডেস্ক :
দেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং কাঠামোগত সংস্কারের জন্য আগামী পাঁচ থেকে আট বছর জাতীয় বাজেট থেকে বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
শনিবার রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। খবর জাগো নিউজের।
গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক অনিয়মের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাঁর মতে, এই অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হলে সামাজিক সহায়তা ও বড় অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।
অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
ব্যাংক খাতের আর্থিক দুর্বলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ঋণ বিতরণ, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
অন্যদিকে, ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বিপুল সরকারি অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হলে জাতীয় বাজেটের অন্যান্য খাতের ব্যয় পরিকল্পনার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, খেলাপি ঋণ আদায় এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রয়োজন জবাবদিহি ও কার্যকর সংস্কার
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শুধু সরকারি অর্থের জোগান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার। একই সঙ্গে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
সব মিলিয়ে, ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রস্তাবিত অর্থের প্রয়োজনীয়তা, অর্থায়নের উৎস এবং পুনর্গঠনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে এ উদ্যোগের সম্ভাব্য প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।
সূত্র: জাগো নিউজ, ১০ অক্টোবর ২০২৬।
মন্তব্য / প্রেরক
সাম্প্রতিক
নিউজলেটার
নিউজলেটার বিবরণ