Image
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

পাঁচ ব্যাংকের ১২শ কোটি হাওয়া

পাঁচ ব্যাংকের ১২শ কোটি হাওয়া
বিনিয়োগ ১৩৭৫ কোটি

২০১৯ সালে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান বেস্ট হোল্ডিংসে ১ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকসহ পাঁচ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ম লঙ্ঘন করে তাদের সহযোগিতা করেছে। রাজনৈতিক চাপের এই বিনিয়োগে ব্যাংকগুলো জনগণের আমানত থেকে ১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা লোকসান করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেস্ট হোল্ডিংসে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ৫০০ কোটি, জনতা ব্যাংক ৫০০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ৩৭৫ কোটি, রূপালী ব্যাংক ৩০০ কোটি ও বেসরকারি খাতের এনসিসি ব্যাংক বিনিয়োগ করে ১০০ কোটি টাকা। এসব অর্থ দিয়ে ব্যাংকগুলো মোট ২৭ কোটি ৩০ লাখ ৭৭ হাজার শেয়ার ক্রয় করে। এতে ১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকার লোকসান গুনেছে এসব ব্যাংক, যা জনগণের আমানতের অপচয়।

তথ্য বলছে, পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী নাফিস সারাফাত প্রভাব খাটিয়ে এসব বিনিয়োগ বের করে নিয়েছেন। ব্যাংকগুলো ক্ষতি জেনেও বেস্ট হোল্ডিংসে বিনিয়োগে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সূত্র। আর এ ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকে বিনিয়োগের বিষয়ে অবহিত করে চিঠি পাঠানোর পর তড়িঘড়ি করে এসব বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে ঝুঁকিতে পড়ে সাধারণ মানুষের আমানত।

তথ্য বলছে, বেস্ট হোল্ডিংসে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম সরকারি ব্যাংক হিসেবে বিনিয়োগ করে রূপালী ব্যাংক। প্রাইভেট প্লেসমেন্ট শেয়ারে প্রজেক্ট এসপিভির মাধ্যমে প্রতি শেয়ার ৫৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৬৫ টাকা দরে মোট ৪ কোটি ৬১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫০টি শেয়ার ক্রয় করা হয়। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ৩০০ কোটি টাকা অনুমোদন করে রূপালী ব্যাংক। ওই সময় ব্যাংকটি ৬৫ টাকা দরে শেয়ার ক্রয় করলেও বর্তমানে এই শেয়ারের দর নেমে এসেছে ১৯ টাকা ৮০ পয়সায়। এতে রূপালী ব্যাংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় ২০৯ কোটি টাকা।

২০১৯ সালে জুনভিত্তিক প্রকাশিত বেস্ট হোল্ডিংসের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত মূলধন ছিল ১ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। একই সময় প্রতিষ্ঠানটির দায় ছিল ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের ফাইন্যান্সিয়াল লেভারেজ অত্যন্ত বেশি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ব্যাংকের আমানতকে ঝুঁকি তৈরি করেছে রূপালী ব্যাংক। বেস্ট হোল্ডিংসে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি সার্কুলার-১৫ এর নির্দেশনা অমান্য করেছে রূপালী ব্যাংক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারসুমা আলমকে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।

তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৬৬২তম সভায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান বেস্ট হোল্ডিংসের অনুকূলে শেয়ার ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাইভেট প্লেসমেন্ট শেয়ারে প্রজেক্ট এসপিভির মাধ্যমে প্রতি শেয়ার ৫৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৬৫ টাকা দরে মোট ৭ কোটি ৬৯ লাখ ২৩ হাজার ১০০টি শেয়ার ক্রয় করা হয়। এজন্য একই মাসের ১৫ তারিখে প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদন করে সোনালী ব্যাংক। ওই সময় ব্যাংকটি ৬৫ টাকা দরে শেয়ার ক্রয় করলেও বর্তমানে এই শেয়ারের দর নেমে এসেছে ১৯ টাকা ৮০ পয়সায়। এতে সোনালী ব্যাংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে ৩৪৮ কোটি টাকা।

বেস্ট হোল্ডিংসের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের কাছে ১৫ কোটি ৮৬ লাখ শেয়ার এবং অবশিষ্ট ২৬ কোটি ৩৩ লাখ শেয়ার অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে বিক্রয় করা হয়। কিন্তু দুর্বল আর্থিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে অভিহিত মূল্যের অতিরিক্ত ৫৫ টাকা করে প্রিমিয়াম প্রদানপূর্বক প্লেসমেন্ট শেয়ারে বিনিয়োগ করায় ব্যাংকের ৪২৩ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এর পরও বেস্ট হোল্ডিংসে বিনিয়োগের পূর্বে সার্বিক বিষয় উল্লেখ করে ৫৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৬৫ টাকা দরে ক্রয়ের অনুমতির জন্য অনাপত্তি পত্র চাওয়া হলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনাপত্তি পত্র প্রদান করা হয়েছে। ফলে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও অনাপত্তি প্রদান করায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তার দায় এড়াতে পারে না।

তথ্য বলছে, ২০১৭ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত সোনালী ব্যাংকের ৫০৯তম সভায় বেস্ট হোল্ডিংসে বিনিয়োগের বিষয়ে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ঋণ প্রস্তাব উঠেছিল। কিন্তু সে সময় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা প্রস্তাবটি অনুমোদনে অসম্মতি জানান। এ ক্ষেত্রে তৎকালীন বোর্ড প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।

ওই পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বেস্ট হোল্ডিংসের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটি লাভজনক নয়। প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন অনুমোদিত মূলধন ছিল ৬০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ১ কোটি ৮ লাখ টাকা। এত কম মূলধনের বিপরীতে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়া ইক্যুইটি অংশগ্রহণও নগণ্য। বেস্ট হোল্ডিংসের হোটেল লা মেরিডিয়ানে ২০১৬ সালের জুনভিত্তিক হিসাবে পুনর্মূল্যায়ন রিজার্ভ ১ হাজার ৬২২ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ইক্যুইটিতে পুনর্মূল্যায়ন রিজার্ভ বিবেচনায় না আনলে ঋণাত্মক রিটেইনড আর্নিংসহ ইক্যুইটি ঋণাত্মক। অন্যদিকে, তাদের ঋণ অনেক বেশি। হোটেল লা মেরিডিয়েনের সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ১২৬ কোটি টাকা। ওই সময় ব্যাংককে বলা হয়, হোটেলের আয়ের প্রবাহ দ্বারা ইস্যু করা বন্ড ও বন্ডের সুদ পরিশোধ করা হবে। কিন্তু ঋতু পরিবর্তন বা রাজনৈতিক অবস্থা পরিবর্তন হলে হোটেল ব্যবসা ঝুঁকিপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচ্য বলে উল্লেখ করে সোনালী ব্যাংকের বোর্ড।

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত মর্টগেজ করা সম্পত্তি রাজউকের লিজহোল্ড প্রোপার্টি, যা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির কাছে সিন্ডিকেট ঋণের বিপরীতে মর্টগেজকৃত। এমন অবস্থায় প্রস্তাবিত বন্ডে বিনিয়োগ করা অর্থ প্রাপ্তির পর ওই মর্টগেজ পে-অফ করে রাজউকের অনুমতি সাপেক্ষে তা বন্ডের বিপরীতে ১৮০ দিনের মধ্যে রি-মর্টগেজ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালের জুনভিত্তিক হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির নিট ব্যয়-পরবর্তী ক্ষতি ৭৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং রিটেইন আর্নিং ৪৪ কোটি টাকা ঋণাত্মক। কিন্তু নতুন আবেদনে ক্ষতির পরিবর্তে ২ কোটি ১৭ টাকা লাভ, রিটেইন আর্নিং ৩৬ কোটি টাকা ধনাত্মক উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনকে অতিরঞ্জিত করে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালো দেখানো হয়েছে।

আর ২০১৯ সালের জুনভিত্তিক হিসাবে স্থিতিভিত্তিক মোট পুনর্মূল্যায়ন রিজার্ভের পরিমাণ ১ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ইক্যুইটি পুনর্মূল্যায়ন রিজার্ভ বিবেচনায় না আনলে ঋণের হার ১৯৬ শতাংশ, যা বিনিয়োগ অনুকূল নয়। পুনর্মূল্যায়ন রিজার্ভ বিবেচনায় না আনলে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ৪৩ টাকা। ফলে প্রতি শেয়ারে ৬৫ টাকা করে বিনিয়োগের যৌক্তিকতা নেই।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শওকত আলী কালবেলাকে বলেন, ওই সময় কেন এই বিনিয়োগ করা হয়েছে জানা নেই। এতে ব্যাংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এই লোকসান কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে কাজ করবে সোনালী ব্যাংক।

সোনালী ব্যাংকের সমপরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে জনতা ব্যাংকও। একইভাবে প্রভাব খাটিয়ে এসব ঋণ অনুমোদন করা হয়েছিল। বর্তমানে ব্যাংকটিকেও এসব ঋণের ৩৪৮ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, আমি মাত্রই এখানে দায়িত্ব নিয়েছি। এখনো সব তথ্য আমার কাছে নেই। বোর্ড সভা থাকায় তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারেননি।

ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম ব্যাংকটির ট্রেজারি বিভাগের প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। ট্রেজারি প্রধান মোখলেসুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ওই সময় প্রতিষ্ঠানটি তাদের অডিটেড ভেল্যু দেখিয়ে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করেছিল ৮৫ টাকা। কিন্তু ব্যাংক সার্বিক বিষয় বিবেচনায় তা কমিয়ে ৬৫ টাকায় বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর কমে যায়। এতে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে ব্যাংককে। তবে লোকসান কমাতে ব্যাংক কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া একমাত্র বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে ২০১৯ সালে বেস্ট হোল্ডিংসে বিনিয়োগ করেছিল এনসিসি ব্যাংক। ব্যাংকটির প্রায় শতকোটি টাকা লোকসানের বিষয়ে জানতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামসুল আরেফিনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তথ্য বলছে, বেস্ট হোল্ডিংসে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর অনুকূলে সব সম্পত্তির ওপর চার্জ সৃষ্টি করার কথা ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। এমনকি বিনিয়োগের ওপর ১০ শতাংশ হারে সুদ আদায় করার কথা থাকলেও তা আদায় হয়নি, যা আইনের লঙ্ঘন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র হুসনে আর শিখা কালবেলাকে বলেন, এসব বিনিয়োগে ব্যাংকগুলো কোনো অনিয়ম করেছে কি না, সেটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক খতিয়ে দেখবে। যদি অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য / প্রেরক

বিরামপুরকে জেলা বাস্তাবায়ন ও নাগরিক দূর্ভোগ নিরসনে স্মারকলিপি প্রদান

বিরামপুরকে জেলা বাস্তাবায়ন ও নাগরিক দূর্ভোগ নিরসনে স্মারকলিপি প্রদান
ফটোঃ প্রতিনিধি

বিরামপুরকে জেলা বাস্তাবায়ন ও প্রথম শ্রেণির বিরামপুর পৌর নাগরিকদের দূর্ভোগ নিরসন ও শহরের শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবিতে সোমবার ২ নভেম্বর দুপুরে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বিরামপুর পেশাজীবি ঐক্য ফ্রন্টের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম সরকার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোছাঃ তানজিনা খাতুনের নিকট এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এসময় তার সাথে ছিলেন, বিরামপুর পেশাজীবি ঐক্য ফ্রন্টের সদস্য সচিব ও বিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মাহমুদুল হক মানিক, দিনাজপুর দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক লায়ন মোজাম্মেল হক, সাবেক ভিপি গোলাম মোর্শেদ সৈকত, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম, হাফিজ উদ্দিন সরকার, মোবারক আলী, ফরিদ হোসেন, মানিক চৌধুরী, মাজহারুল ইসলাম তানিম।
স্মারকলিপিতে জানানো হয়, বিরামপুর শহরের উভয় পাশে এবং ঢাকামোড়ে অটোরিক্সা, মিশুক, টেম্পু, ভ্যান ও বাসের অবৈধ স্ট্যান্ড অপসারণ, যানজট নিরসন, অটোরিক্সার ভাড়া নির্ধারণ, শব্দ দুষন নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করণ, ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, এবং সপ্তাহে দু’দিন পৌর কার্যালয়ে প্রশাসকের কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানানো হয়।
দাবির প্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোছাঃ তানজিনা খাতুন বলেন, অচিরেই ঢাকামোড় ও হাসপাতাল মোড় সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।

মন্তব্য / প্রেরক

নীলফামারীর ইজতেমায় লক্ষাধিক মুসল্লির জুমার নামাজ আদায় দারোয়ানি টেক্সটাইল মাঠে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা, শনিবার আখেরি মোনাজাত

নীলফামারীর ইজতেমায় লক্ষাধিক মুসল্লির জুমার নামাজ আদায় দারোয়ানি টেক্সটাইল মাঠে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা, শনিবার আখেরি মোনাজাত
নীলফামারীর দারোয়ানি টেক্সটাইল মাঠে জেলা ইজতেমায় জুমার নামাজে অংশ নিয়েছেন বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। ছবি: সংগৃহীত।

উত্তরের জেলা নীলফামারীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে চলছে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে জুমার নামাজ আদায় করতে সমবেত হন লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।

জেলার সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কসংলগ্ন দারোয়ানি টেক্সটাইল মাঠে আয়োজিত এ ইজতেমায় নীলফামারী ছাড়াও ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে মুসল্লিরা অংশ নেন। জুমার নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি মূল মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।

 

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মুসল্লিদের অংশগ্রহণ

এবারের ইজতেমায় বিদেশি মুসল্লিদেরও অংশগ্রহণ রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, সুদান ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা এতে অংশ নিয়েছেন।

ইজতেমায় দ্বীনের দাওয়াত, মানবকল্যাণ, ধর্মীয় জীবনযাপন এবং আখিরাতের প্রস্তুতি বিষয়ে বয়ান পেশ করা হচ্ছে।

নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও সাদাপোশাকের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি মুসল্লিদের সার্বিক সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

শনিবার আখেরি মোনাজাত

আয়োজকদের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ জেলা ইজতেমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

আখেরি মোনাজাতে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি এবং মানবকল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য / প্রেরক

নবাবগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

নবাবগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
ফটোঃ প্রতিনিধি

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

এ মাসিক সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফ উদ্দিন, নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ মো. ইকবাল হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শুভ্রত্ব কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দীপক কুমার বণিক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন জুয়া,
মাদক, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ নানা সামাজিক সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় হয়। মাসিক সভায় বক্তারা উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

মন্তব্য / প্রেরক

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, ঘোড়াঘাটে যুবদলের ৫ শতাধিক তালবীজ রোপণ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, ঘোড়াঘাটে যুবদলের ৫ শতাধিক তালবীজ রোপণ
ফটো: প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা নিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা যুবদল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে উপজেলার ২ নম্বর পালশা ইউনিয়নের পশ্চিম পালশা সড়কের পাশে পাঁচ শতাধিক তালবীজ রোপণ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

আয়োজকেরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব এমন উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

তালগাছ প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় তালগাছের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও জনসচেতনতা রয়েছে। সড়কের পাশে রোপণ করা এসব তালবীজ যথাযথ পরিচর্যায় বেড়ে উঠলে ভবিষ্যতে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।

ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মোফাজ্জল হোসেন প্রধান বলেন, ‘যুবসমাজ দেশের শক্তি। দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই যুবদলের অন্যতম অঙ্গীকার। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিম পালশা সড়কে পাঁচ শতাধিক তালবীজ রোপণের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই। আমরা চাই, এ উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম পরিবেশ রক্ষায় আরও সচেতন ও উদ্বুদ্ধ হোক।’

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জহরুল ইসলাম শান্ত বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইনি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সড়কে পাঁচ শতাধিক তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, গাছ লাগানো শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবনেতা বাবলু মিয়া, মাসুদুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুজন প্রধান, ২নং পালশা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি
জোবায়ের হোসেন এবং স্বেচ্ছাসেবক নেতা সাইদুল এরশাদসহ যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

মন্তব্য / প্রেরক

সাথে সংযুক্ত থাকুন

নিউজলেটার

নিউজলেটার বিবরণ

আর্কাইভ

please_select_a_date