Image
  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ফটো: সংগৃহিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে পুনরায় শুরু হয়েছে। অধিবেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো বিভিন্ন আইন ও নীতিগত বিষয় নিয়ে নিবিড় পর্যালোচনা চালাচ্ছে। বিশেষ করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি আইনগত প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে কয়েকটি বিল সংশোধনের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করেছে। বর্তমান সংক্ষিপ্ত এই অধিবেশনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন ও পাসের প্রক্রিয়া চলছে।

গুম প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ

দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত করা এবং জোরপূর্বক গুম বা নিখোঁজ হওয়ার সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ প্রণয়নের জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়া আইনে গুমকে একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার ব্যয় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে কিংবা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নির্বাহ করা হবে।

তদন্তের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক

নতুন এই আইনের খসড়া ও এর কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর (যেমন টিআইবি) মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, গুমের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুতর অপরাধের তদন্তের ভার এককভাবে পুলিশের হাতে ন্যস্ত রাখায় এবং মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্তের পরিধি সীমিত করায় ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ও নিরপেক্ষ তদন্ত বাধাগ্রস্ত হতে পারে। খসড়া আইনে দায়মুক্তির সুযোগ রয়ে গেছে কি না—তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দল, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন নানা কর্মসূচি ও র‍্যালি পালন করেছে। এসব কর্মসূচি থেকে অতীতের প্রতিটি গুমের নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় সংসদে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও মানবাধিকারের প্রশ্নটি বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

মন্তব্য / প্রেরক

জাতীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত দিন, সংসদ অধিবেশন পুনরায় শুরু : জন্মাষ্টমী ঘিরে সম্প্রীতির বার্তা, আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

জাতীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত দিন, সংসদ অধিবেশন পুনরায় শুরু : জন্মাষ্টমী ঘিরে সম্প্রীতির বার্তা, আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
ফটো: সংগৃহিত

দেশের জাতীয় রাজনীতি, সংসদীয় কার্যক্রম, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও দুর্যোগ প্রস্তুতি—বিভিন্ন ইস্যুতে আজ বৃহস্পতিবার দিনভর ছিল নানা গুরুত্বপূর্ণ তৎপরতা।

পুনরায় শুরু জাতীয় সংসদের অধিবেশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আজ বিকেল ৩টা ৪ মিনিটে পুনরায় শুরু হয়েছে। স্পিকার ব্যারিস্টার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।

সংসদে আজ খাদ্যশস্যের মজুত ও দেশের খাদ্য পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই।

জন্মাষ্টমীতে সম্প্রীতির বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আজ রাজধানীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ধর্মীয় পরিচয়ের বিভাজনের পরিবর্তে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এবং প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

আগামীকাল শুক্রবার সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালিত হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের দাবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত সময়ের তুলনায় দেশের সামগ্রিক অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুলিশ বাহিনীকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

দুর্যোগ মোকাবিলায় এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির উদ্যোগ

ভূমিকম্পসহ বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকের একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রপ্তানি ও জ্বালানি খাতে বড় খবর

আজকের অর্থনৈতিক আলোচনায় ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (IsDB) প্রকল্পটিতে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের চুক্তি করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ এ খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

নারীদের অনলাইন হয়রানি বন্ধে বৈশ্বিক উদ্যোগ

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের হয়রানি ও অনলাইন সহিংসতা মোকাবিলায় বাংলাদেশ একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বাংলাদেশ কাজ করছে।

মন্তব্য / প্রেরক

সংসদে ব্যস্ততা, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে তৃতীয় অধিবেশন, সেপ্টেম্বরেই স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল

সংসদে ব্যস্ততা, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে তৃতীয় অধিবেশন, সেপ্টেম্বরেই স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল
ফটো : প্রতিকি

জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে ব্যস্ততা বেড়েছে। একই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ফলে সংসদীয় কার্যক্রম, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দেশের বিভিন্ন জেলার উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি—এই তিন বিষয় এখন জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

গত ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। প্রথম দিনের কার্যসূচিতে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোকপ্রস্তাব, প্রশ্নোত্তর, জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ, বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব এবং আইন প্রণয়ন কার্যাবলি রাখা হয়।

১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে অধিবেশন

কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। সরকারি ছুটির দিন এবং ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন বসার কথা রয়েছে।

সংসদের এই অধিবেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর ফলে সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে সংসদে জবাবদিহিতা এবং আলোচনার পরিধিও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সেপ্টেম্বরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও প্রস্তুতি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত এবং সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, স্থানীয় সরকারের প্রথম ধাপের নির্বাচন অক্টোবরে আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আগস্টে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছিল কমিশন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ভোটার তালিকা, নির্বাচনী এলাকার প্রস্তুতি, আচরণবিধি এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী পরিবেশ আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৬৪ জেলার উন্নয়ন তদারকিতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ

এদিকে দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকির জন্য ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে ২৭ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

নতুন এই দায়িত্ব বণ্টনের ফলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলায় সরকারি কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়ের ভূমিকা পালন করবেন।

সরকারের এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে জেলা পর্যায়ে সরকারি কার্যক্রমের তদারকি ও সমন্বয় জোরদার করা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং জনসেবার মান বাড়ানোর বিষয়গুলো সামনে এসেছে।

তিন দিকেই নজর

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের চলমান অধিবেশন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং জেলা পর্যায়ে সরকারি কর্মকাণ্ডের তদারকি—এই তিনটি কার্যক্রম একই সময়ে এগিয়ে যাওয়ায় দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ততা বাড়ছে।

একদিকে সংসদে আইন প্রণয়ন ও সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হবে, অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম সরাসরি তদারকির দায়িত্ব পাওয়ায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডও বাড়বে।

সব মিলিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহ দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), নির্বাচন কমিশন ও সরকারি প্রজ্ঞাপন।

মন্তব্য / প্রেরক

সংসদে বাজেট আলোচনা: কর রেয়াত, দেশীয় শিল্প রক্ষা ও অর্থ পাচার রোধে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ ঐতিহাসিক সংশোধনী প্রস্তাব

সংসদে বাজেট আলোচনা: কর রেয়াত, দেশীয় শিল্প রক্ষা ও অর্থ পাচার রোধে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ ঐতিহাসিক সংশোধনী প্রস্তাব
ফটো: কালেকটেড

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন আজ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাণবন্ত কার্যদিবস পার করেছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)-এর সভাপতিত্বে সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

আজকের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ প্রধান সারির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

১. এই বাজেট ‘জীবনবান্ধব’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রস্তাবিত বাজেটকে সাধারণ মানুষের জন্য ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ (Life-centric budget) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী আমলের মেগা প্রজেক্টের নামে লুটপাট ও ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেলেও, বর্তমান সরকার জনগণের ওপর বোঝা না চাপিয়ে স্বস্তি দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।

  • নিত্যপণ্যে কর প্রত্যাহার: প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যে দেশের ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে প্রায় সব ধরনের শুল্ক ও কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। যার ফলে বিগত বছরগুলোর মতো এবার বাজেট ঘোষণার পর বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেনি।

  • করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাব: মধ্যবিত্ত ও সাধারণ চাকুরিজীবীদের স্বস্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমান ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করার জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতি অনুরোধ জানান। পাশাপাশি আগামী ২০৩০-৩১ কর বছরের মধ্যে এটি ধাপে ধাপে ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার রূপরেখা দেন।

  • কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রত্যাহার: জনমনে তৈরি হওয়া অসন্তোষ ও সিভিল সোসাইটির দাবির মুখে বিতর্কিত ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’ সংক্রান্ত বিধানটি বাজেট থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।

  • অর্থ পাচার রোধ ও পাচারকৃত টাকা ফেরত: দেশের অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর।

২. স্থানীয় শিল্প, ফ্রিল্যান্সার ও চিংড়ি চাষে শুল্ক ছাড়ের মেগা প্রস্তাব

তরুণ প্রজন্ম ও দেশীয় শিল্পকে চাঙা করতে প্রধানমন্ত্রী সংসদে বেশ কিছু যুগান্তকারী সংশোধনীর প্রস্তাব তোলেন:

  • ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড: দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তরুণ উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা তরুণদের নতুন কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখবে।

  • চিংড়ি শিল্প ও মৎস্য খাত: চিংড়ি রপ্তানি ও উৎপাদন বাড়াতে অ্যাকুয়া ফিড, ভিটামিন, মিনারেলসহ সব ধরনের আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • স্থানীয় ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প: বৈদ্যুতিক তার উৎপাদনকারী শিল্পের জন্য আমদানি করা তামার (Copper) ওপর ১০% রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহার এবং স্থানীয় এলইডি ল্যাম্প ও প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড বিল্ডিং প্রস্তুতকারকদের শুল্ক সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

  • বিজ্ঞাপনে ভ্যাট হ্রাস: গুগল, ফেসবুক বা আন্তর্জাতিক মাধ্যমে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে ভ্যাট ১৫% থেকে কমিয়ে ৫% করার প্রস্তাব দেন, যাতে ব্যবসায়ীরা হুন্ডির আশ্রয় না নিয়ে বৈধ চ্যানেলে লেনদেন করেন।

৩. সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য ও অর্থবিলের সংশোধনী

আজকের অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখেন। তিনি করের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর যেন কোনো চাপ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত সাইকেলের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাবটি সতর্কতার সাথে বিবেচনা করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া অর্থবিলের সংশোধনীর ওপরে আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ বিরোধী ও সরকারি দলের অন্যান্য সংসদ সদস্যরা ব্যাংক খাতের সংস্কার, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দেশের সার্বিক সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে নিজ নিজ বক্তব্য ও দাবি তুলে ধরেন।

৪. লোডশেডিং ও অন্যান্য বিলের আপডেট

সংসদ অধিবেশনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী জানান, নতুন দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোদমে চালু হওয়ায় দেশজুড়ে লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এছাড়া আজকের অধিবেশনে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত সংশোধনী বিলের রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদকের নোট: আগামীকাল ৩০ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে আজকের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর এই জনবান্ধব ও শিল্পবান্ধব সংশোধনীর প্রস্তাবগুলো অর্থমন্ত্রী চূড়ান্ত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য / প্রেরক

সংসদ অধিবেশন: বাজেট বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সরকার প্রস্তুত — সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

সংসদ অধিবেশন: বাজেট বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সরকার প্রস্তুত — সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
ফটো: কালেকটেড

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা আজও অব্যাহত রয়েছে। অধিবেশনে অংশ নিয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, এবারের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে প্রশংসা ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তবে বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এর কার্যকর বাস্তবায়ন, আর সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনকল্যাণমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বাজেট প্রণয়ন করেছে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এ বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বাজেট প্রণয়ন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এর যথাযথ বাস্তবায়ন আরও গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক এবং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।"

বিগত সরকারের আমলের সমালোচনা করে ফারজানা শারমীন বলেন, গত দেড় থেকে দুই দশকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে প্রশাসনিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, "এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি রাতারাতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তবে বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।"

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শক্তিশালী করা এবং জনগণের কল্যাণে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

এদিকে সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা অংশ নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন। বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা আগামী কার্যদিবসেও অব্যাহত থাকবে বলে সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে।

মন্তব্য / প্রেরক

সাথে সংযুক্ত থাকুন

নিউজলেটার

নিউজলেটার বিবরণ

আর্কাইভ

please_select_a_date