Image
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

তিশা টয়া সাফা সুনিধির মাদক সম্পৃক্ততা মিলেছে যেভাবে

তিশা টয়া সাফা সুনিধির মাদক সম্পৃক্ততা মিলেছে যেভাবে

মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগে ১৭ অক্টোবর ঢাকা বিমানবন্দরে গ্রেফতার হন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সাবেক ছাত্র অরিন্দম রায় দীপ।তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিং পরীক্ষা করে বেরিয়ে আসে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নাট্যাভিনেত্রী ও মডেলকন্যার নাম।তারা হলেন- আনাতোনি কেলি সাফা ওরফে সাফা কবির, মুমতাহিনা চৌধুরী ওরফে টয়া, তানজিন তিশা ও সংগীত শিল্পী সুনিধি নায়েক।

বর্তমানে দেশের শোবিজ অঙ্গনে যাদের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। এদের মধ্যে আনাতোনি কেলি সাফা ওরফে সাফা কবির এবং মুমতাহিনা চৌধুরী ওরফে টয়ার বিরুদ্ধে মাদক সম্পৃক্ততার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া নাট্যাঙ্গনের আরেক জনপ্রিয় মুখ তানজিন তিশা এবং সংগীত শিল্পী সুনিধি নায়েকের মাদক সম্পৃক্ততা ঘিরে বিশেষ অনুসন্ধান চালাচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স)। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, মাদকসহ গ্রেফতার হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে তথ্য-প্রমাণসহ সাফা, টয়া, তিশা এবং সুনিধির নাম বেরিয়ে আসে। একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তারা নিয়মিত মাদক সংগ্রহ করে আসছিলেন। ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অরিন্দম রায় দীপকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নারকোটিক্সের সহকারী পরিচালক রাহুল সেন যুগান্তরকে বলেন, দীপকে গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে আমরা কয়েকজন প্রথম সারির অভিনেত্রী ও মডেলের মাদক সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছি। এ বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নারকোটিক্স বলছে, মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সাবেক ছাত্র দীপের ওপর বিশেষ নজরদারি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তার গতিবিধি অনুসরণের ধারাবাহিকতায় ১৭ অক্টোবর ঢাকা বিমানবন্দরে গ্রেফতার হন দীপ। এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সিসা, এমডিএমএ, এলএসডি ও কুসসহ বেশ কিছু মাদক উদ্ধার করা হয়। পরে নারকোটিক্সের একটি বিশেষায়িত টিম দীপকে ২ দিনের রিমান্ডে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, মাদক ব্যবসার বিষয়ে মৌখিক স্বীকারোক্তির একপর্যায়ে দীপের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিং পরীক্ষা করা হয়। এতে জনপ্রিয় কয়েকজন অভিনেত্রীর মাদক সম্পৃক্ততার তথ্য মেলে। এমনকি তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া মাদকের অর্ডারসংক্রান্ত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিং রেকর্ডও পাওয়া যায়।

এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, দীপের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাফা, টয়া, তিশা এবং সুনিধি নায়েকের নামে সেভ করা কয়েকটি নম্বর থেকে নিয়মিত মাদকের অর্ডার দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে নম্বরগুলো যাচাইয়ের জন্য ফোন নম্বরের রেজিস্ট্রেশন রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। এতে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট নম্বরগুলো সাফা কবির এবং টয়ার নামেই রেজিস্ট্রেশনকৃত। তবে তানজিন তিশার নম্বরটির রেজিস্ট্রেশন রয়েছে তার মা উম্মে সালমার নামে।

যুগান্তরের হাতে আসা কয়েকটি চ্যাটিং রেকর্ডে দেখা যায়, ২৩ এপ্রিল সাফা কবির তার মোবাইল নম্বর থেকে ৩টি এমডিএমএ অর্ডার দেন। এজন্য দীপের হোয়াটসঅ্যাপে তিনি সংক্ষেপে লেখেন ‘ই’ দিতে পারবা আমাকে ৩টা।’ পালটা বার্তায় দীপ লেখেন দাঁড়াও বলি। সাফা লেখেন ‘ওকে’। এরপর দীপ লেখেন কিভাবে নিবা? যাওয়ার পথে? সাফা লেখেন ‘আমি চেষ্টা করব।’ এছাড়া ৫ সেপ্টেম্বর আরেক চ্যাটিংয়ে মাদকের অর্ডার দেন অভিনেত্রী টয়া। তিনিও সাংকেতিক ভাষায় লেখেন ‘ই’ লাগবে ৫টা। ফিরতি বার্তায় দীপ লেখেন ‘ফর বাংলা ফ্রুট?’ (সম্প্রতি কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত প্রাইভেট পার্টি)। এরপর টয়া লেখেন ‘ইয়াপ (ইয়েস)।’

মাদক বিক্রির এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আরও কয়েকজন অভিনেত্রী ও সংগীত শিল্পীর চ্যাটিং পাওয়া যায়। এদের অন্যতম হলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা এবং সংগীত শিল্পী সুনিধি নায়েক। চ্যাটিংয়ে সুনিধি নায়েক কয়েকটি ব্র্যান্ডের এমডিএমের প্যাকেট শেয়ার করে অর্ডার দেন।

নারকোটিক্স বলছে, ভারতীয় নাগরিক সুনিধি নায়েক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। বাংলাদেশের নামকরা সংগীত শিল্পী এবং কোক স্টুডিওর অন্যতম উদ্যোক্তা শায়ান চৌধুরী ওরফে অর্ণবকে বিয়ে করে তিনি ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তবে সম্প্রতি অর্ণবের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়েছে এমন কথা বিভিন্ন মিডিয়ায় শোনা যায়।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, দীপ গ্রেফতারের পরপরই সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ তাদের মোবাইল ফোন থেকে গোপন চ্যাটিং রেকর্ড মুছে ফেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে তারা পুরোপুরি সফল হননি। গ্রেফতারের পর তাৎক্ষণিকভাবে দীপের মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এতে মাদক কেনাবেচাসংক্রান্ত চ্যাটিং রেকর্ড মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি।

সূত্র জানায়, বর্তমানে রাজধানীর গুলশান এবং বনানীকেন্দ্রিক ধণাঢ্য পরিবারের সন্তানদের অনেকেই এমডিএম, এলএসডি এবং কুশ নামের উচ্চ আসক্তি সম্পন্ন মাদকের দিকে ঝুঁকছে। চোরাইপথে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং থাইল্যান্ডসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ থেকে এসব মাদকের চালান আসছে। স্ল্যাপচ্যাট, মেসেঞ্জার বা হোয়্যাটসঅ্যাপ গ্রুপে এগুলো বিক্রি করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গোপনীয়তার জন্য বিভিন্ন সাংকেতিক নামে এসব মাদক বিক্রি করা হয়ে থাকে। যেমন এমডিএম ‘ই’ নামে, এলএসডি ‘এসিড’ এবং এক ধরনের তরল গাঁজা টিএসসি নামে কেনাবেচা হয়। ইলেকট্রিক সিগারেটের মতো ভেপ আকারে তরল গাঁজা সেবন করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক দুলাল কৃষ্ণ সাহা যুগান্তরকে বলেন, এমডিএমএ পরীক্ষাগারে তৈরি এক ধরনের কৃত্রিম ওষুধ। এটি অনেক দেশে এস্টাসি বা সুখানুভূতির মাদক হিসাবে পরিচিত। এটি ইয়াবার উপকরণ মেথাএমফিটামিনের মতোই অতি উত্তেজক মাদক। এটি মানবদেহে এমন একটি শক্তিশালী প্রভাব তৈরি করে যাতে সময় এবং উপলব্ধি জ্ঞানের বিচ্যুতি ঘটে। তবে অনেক সময় এটি শান্তি, আনন্দ, সহানুভূতি এবং এক ধরনের আত্মবিশ্বাসের বর্ধিত অনুভূতি তৈরি করে।

এদিকে এসব মাদক সেবনের নেতিবাচক দিকও কম নয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি মানুষের জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ পুরোপুরি বিনষ্ট করে দেয়। এছাড়া ধীরে ধীরে কিডনি ও লিভার নষ্ট হয়ে যায়।

বক্তব্য : মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানার জন্য বুধবার রাতে অভিনেত্রী মুমতাহিনা চৌধুরী টয়ার মোবাইলে কল করা হলে তিনি বলেন, অরিন্দম রায় দীপ নামের কাউকে তিনি চেনেন না। কোনো দিন তার সঙ্গে পরিচয়ও হয়নি। একপর্যায়ে পালটা প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আপনারা আমার বিরুদ্ধে এতবড় গুরুতর অভিযোগ কোথায় পেলেন। আমি অবশ্যই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে বিষয়টি জানতে চাইব। এছাড়া বক্তব্য জানার জন্য সাফা কবির ও তানজিন তিশার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।

মন্তব্য / প্রেরক

ঘোড়াঘাটে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেফতার

ঘোড়াঘাটে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেফতার
ফটো: সংগৃহিত

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি বিক্রি ও ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৬০ লাখ টাকা লেনদেনের ঘটনায় প্রতারণা, টাকা আত্মসাৎ, চাঁদা নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক মোঃ উজ্জ্বল মিয়া (৪১) এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রিফাত কবীর (২৩) ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, রিফাত কবীর ২০২২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য মিশরে যান। ২০২৫ সালে দেশে ফিরে নিজ এলাকায় উজ্জ্বল মিয়ার সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে উজ্জ্বল মিয়া নিজেকে গরুর খামার ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে ঘোড়াঘাটে গরুর খামার এবং ঢাকার বিভিন্ন গরু ব্যবসায়ীর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কথা জানান।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোড়াঘাট থানাধীন সাগরপুর মৌজার ৫৭ শতক জমি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রির চুক্তি হয়। এর মধ্যে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করে বাকি ১২ লাখ টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জমিটি দলিল করে নেন উজ্জ্বল মিয়া। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বকেয়া টাকা পরিশোধ করেননি তিনি।

পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। রিফাত কবীরের দাবি, গত ৮ মার্চ থেকে ২ মে ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পূবালী ব্যাংকের একটি হিসাব থেকে উজ্জ্বল মিয়ার সোনালী ব্যাংকের দুটি হিসাবে মোট ৪৮ লাখ টাকা পাঠান তিনি। এ সংক্রান্ত ব্যাংক লেনদেনের কাগজপত্র তাঁর কাছে রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ৮ জুন সকালে ওসমানপুর বাজারে উজ্জ্বল মিয়ার সঙ্গে দেখা হলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তিনি ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং অবশিষ্ট টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেন। এ সময় স্ট্যাম্পে জমির বায়নানামা, গরু ক্রয়ের বায়নানামা ও দায় স্বীকারোক্তিমূলক অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করা হয় বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।

তবে পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ না করে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ ও তালবাহানা করতে থাকেন উজ্জ্বল মিয়া। একপর্যায়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে রাস্তাঘাটে পেলে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন রিফাত। জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে তিনি ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
এ ছাড়া একই দিন দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হুমায়ুন রাইস মিল থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সময় তাঁর পথরোধ করে লাঠি দিয়ে আঘাত করে মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় মোঃ সানোয়ার হোসেন রতন, মোঃ শফিকুল ইসলাম ও লিয়ন রহমানসহ কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রিফাত কবীরের দাবি, জমি ও ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করা অর্থ ফেরত না দিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। পাশাপাশি চাঁদা নিয়েছে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউর রহমান রেজা বলেন, আমার কথা হচ্ছে কেউ যদি অপরাধ করে সে যেই দলের হোক তাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, প্রতারণার মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।



মন্তব্য / প্রেরক

একদিনে চার পদোন্নতি: বিতর্কিত আমলা নজরুল ইসলাম ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের সুর

একদিনে চার পদোন্নতি: বিতর্কিত আমলা নজরুল ইসলাম ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের সুর
ফটো: সংগৃহিত

ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর নিজেকে ‘বৈষম্যের শিকার’ দাবি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে একদিনে চার দফায় পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম এখন বহুমুখী কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সিন্ডিকেট গঠন, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য এবং রাজউকের বিধি লঙ্ঘন করে রাজধানীতে বহুতল ভবন নির্মাণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসন ও আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে গড়া এই সাম্রাজ্যের জাল ছড়িয়ে রয়েছে ঢাকা, কুমিল্লা ও বুড়িচং জুড়ে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের সুযোগ নিয়ে নাটকীয়ভাবে সচিব পদে আসীন হন। অভিযোগ রয়েছে, সচিব হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন নামসর্বস্ব সমিতি ও সংগঠনের ব্যানারে সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষ ব্যবহার করে সভা-মিলনমেলা চালিয়ে যান।

এ বিষয়ে প্রশাসনিক মহলের দাবি, তাঁর পদোন্নতির প্রতিটি ধাপের আদেশ, গ্রেড এবং এর পেছনের প্রশাসনিক ভিত্তি কী ছিল—তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা জরুরি।

নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তাঁর কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত তোফায়েলকে ঘিরে রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আর্টসের ছাত্র হয়েও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ উপায়ে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তোফায়েলের ছোট ভাই হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট আমলের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে আড্ডা এবং ক্ষমতার পালাবদলে খোলস পাল্টে জামায়াত সংশ্লিষ্টতা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। বুড়িচংয়ে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় একটি হত্যাকাণ্ডে তোফায়েলের নাম এলেও পরবর্তীতে তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

এছাড়া শিক্ষা ভবনের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কবির আহমেদের মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি এবং নিজের এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বদলি করানোর ঘটনায় তো তোলপাড় শুরু হয়েছে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের এই এলাকায় ২৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত বহুতল ভবনটিতে রাজউকের ‘ফার’ (FAR) এবং সেটব্যাক নীতি লঙ্ঘন করা হয়েছে। অকুপেন্সি সনদ নেওয়ার আগেই বসবাস শুরু করার অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালে রাজউক অভিযান চালিয়ে অবৈধ অংশ ভেঙে দিলেও নজরুল ইসলাম সচিব হওয়ার পর পুনরায় নির্মাণকাজ শেষ করা হয় বলে অভিযোগ। ২০১৭ সাল থেকে দুদকের তদন্ত ও রাজউকের জরিমানা অমান্য করে পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে এই ভবনে।

অভিযোগ উঠেছে, নজরুল ইসলামকে ঘিরে গড়ে ওঠা বলয়ের সদস্যরা অল্প সময়ে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট পদে থেকেও নিয়ম ভেঙে ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ পেয়েছেন। ঘুষ দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক পদ বাগিয়ে নিয়ে উত্তরা, বসুন্ধরা ও কুমিল্লায় স্কুল, হাসপাতাল ও প্লটের মালিক হয়েছেন। খিলক্ষেতের স্টক এক্সচেঞ্জে চাকরি করলেও সাবেক সচিবের প্রভাব খাটিয়ে একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন এবং তদবির বাণিজ্য চালিয়েছেন। পাশাপাশি ‘কনটেক ডেভেলপার’, ‘কনফিডেন্স গ্রুপ’ এবং ‘বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’সহ বিভিন্ন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে আবাসন ব্যবসা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজউকের বিধি লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীরা। সাধারণ ক্রেতা ও সচেতন মহলের দাবি—রাজউকের বিতর্কিত ভবনগুলোর নকশা যাচাই, সম্পদ অর্জনের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রমাণিত অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জনস্বার্থে এই দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র দ্রুত জাতির সামনে আসুক—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

মন্তব্য / প্রেরক

যৌতুকের মামলার মধ্যেই স্বামীর গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ, সংসার ফিরে পেতে চান প্রথম স্ত্রী

যৌতুকের মামলার মধ্যেই স্বামীর গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ, সংসার ফিরে পেতে চান প্রথম স্ত্রী
ফটো: প্রতিনিধি

দিনাজপুরের খানসামায় স্ত্রী ও নয় বছরের কন্যাসন্তান থাকা সত্ত্বেও গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে আবু সাইদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি ও তা না পেয়ে প্রথম স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্ত্রীর দায়ের করা মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অভিযুক্ত আবু সাইদ দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার লাটেরহাট তুলশীপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর প্রথম স্ত্রী আক্তারিনা (৩৪) খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের যুগীরঘোপা গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্ত্রী আক্তারিনার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন আবু সাইদ। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে নিরুপায় হয়ে ২০২৪ সালে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন আক্তারিনা। মামলাটি দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলা দায়েরের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন আবু সাইদ। পরবর্তী সময়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তিনি আদালতে হাজির হন। তবে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন তিনি।
বিষয়টি জানতে পেরে আক্তারিনা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে যান। সেখানে গিয়ে স্বামীকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি। যদিও দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন আবু সাইদ। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই বিয়ের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও রয়েছেন। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আবু সাইদ সেখান থেকে পালিয়ে যান এবং পরবর্তী সময়ে প্রথম স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আক্তারিনা বলেন, ‘আমি ও আমার স্বামী দুজনেই দুটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করি। আমাদের নয় বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমার স্বামী পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে মারধর করেন। সংসার টিকিয়ে রাখতে অনেকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বাধ্য হয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলার পর আমার স্বামী গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সংসার শুরু করেন। অথচ তিনি বিষয়টি অস্বীকার করছেন। তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও রয়েছে। আমরা সেখানে গিয়ে তাঁকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পাই। এরপর থেকে তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এত কিছুর পরও আমি আমার স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে সংসার করতে চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু সাইদের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী আক্তারিনা তাঁর ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের ও সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য / প্রেরক

ঢাকায় হত্যার পর নীলফামারীর ডিমলায় পুঁতে রাখা হয় কলেজছাত্রের মরদেহ। নিখোঁজের ২০ দিন পর উদ্ধার, এআই ভিডিও বানিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ

ঢাকায় হত্যার পর নীলফামারীর ডিমলায় পুঁতে রাখা হয় কলেজছাত্রের মরদেহ। নিখোঁজের ২০ দিন পর উদ্ধার, এআই ভিডিও বানিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ
ফটো: সংগৃহিত

ঢাকায় নিখোঁজের প্রায় ২০ দিন পর রাকিবুল ইসলাম (১৯) নামে এক কলেজছাত্রের মরদেহ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ঢাকায় হত্যার পর মরদেহটি নীলফামারীর ডিমলায় এনে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, নিহত রাকিবুল ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুরের বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছিল।

পুলিশের দাবি, রাকিবুলকে হত্যার পর তার মরদেহ ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বসুনিয়াপাড়া গ্রামের একটি বসতভিটার এলাকায় মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিব জীবিত আছেন—এমন ভিডিও তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভিডিও দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে।

পুলিশের তদন্তে ঢাকার ঘটনার সঙ্গে ডিমলায় মরদেহ গোপন করার যোগসূত্র বেরিয়ে আসে। পরে অভিযান চালিয়ে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং মুক্তিপণের অর্থ কীভাবে নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনাটি নীলফামারীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: পুলিশ ও আজ ৭ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন।

মন্তব্য / প্রেরক

সাথে সংযুক্ত থাকুন

নিউজলেটার

নিউজলেটার বিবরণ

আর্কাইভ

please_select_a_date