ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সাতটি সরকারি কলেজকে আলাদা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার দাবিতে আন্দোলন করছে কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি— এই সাতটি কলেজকে একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে না পারলে, তারা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। আন্দোলনকারীরা শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিয়ে একটি ‘বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিশন’ গঠন করার দাবি জানাচ্ছেন, তা না হলে তারা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে, অর্থাৎ গত ৩১ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাত কলেজের জন্য একটি আলাদা প্রশাসনিক ব্যবস্থা থাকবে, যেখানে কলেজগুলোর জন্য আলাদা রেজিস্ট্রারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাও থাকবেন। তবে, শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আরও স্পষ্টভাবে নিজেদের দাবির প্রতি সরকারের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, এই সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়েছেন, যা শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করেছে। এখন তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসভিত্তিক আন্দোলনে মনোযোগ দিয়েছেন। তাদের দাবি— সরকার যদি দ্রুত এবং কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তারা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
এদিকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন। ২০১৭ সালে, যখন এই সাতটি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসে, তখনও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের সংস্কারের দাবিতে সরব ছিলেন। তাদের অভিযোগ—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করেও তারা ন্যায্য সুবিধা পাচ্ছেন না। এর চেয়ে বড় অভিযোগ করে তারা বলেন, কলেজগুলোর অবকাঠামো ও শিক্ষার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ, শিক্ষক, গবেষণাগার— কিছুই নেই। সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হয়নি, আর অনেক সময় ক্লাসও মিস হয়। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষার মান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
কবি নজরুল সরকারি কলেজের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী জাকারিয়া বারী একজন আন্দোলনকারী তিনি বলেন, “আমরা জানি না আমাদের অভিভাবক কে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন আন্দোলন করে, তাদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করে; কিন্তু আমাদের সঙ্গে কেউ কথা বলে না। চাকরির বাজারে আমাদের সার্টিফিকেটের মানও প্রশ্নবিদ্ধ।”
মূলত, ২০১৭ সালে সাতটি সরকারি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এগুলো হলো— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ। এর আগে, এই কলেজগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল।
এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করছেন। ২০১৯ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাত কলেজের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছিল। তখন কয়েকজন সাত কলেজের শিক্ষার্থীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে চেয়েছিলেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা শুরুতে শুধু সংস্কারের দাবি জানালেও, এখন বাস্তবতায় তারা অন্য কোনো উপায় দেখছেন না। তাদের দাবি— যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের দাবিগুলো মেনে নিত, তবে তারা এতদিন ধরে আন্দোলন করতে বাধ্য হতেন না। বর্তমানে, তারা স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন।
জাকারিয়া বারী বলেন, “আমরা সংস্কারের জন্য আন্দোলন করেছি, কিন্তু আমাদের সমস্যাগুলো অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এখন আমাদের কাছে একটাই দাবি, সাতটি কলেজের জন্য একটি স্বাধীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হোক।”
তবে এই দাবির বাস্তবতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন শিক্ষাবিদরা। তাদেরই একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী। তিনি বলেন, "সাতটি কলেজকে একটি আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা বাস্তবে খুবই কঠিন। বিশেষত, দেশের বর্তমান শিক্ষা কাঠামো এবং এই কলেজগুলোর অবকাঠামো পরিস্থিতি বিবেচনায়, এটি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না।"
তিনি আরও বলেন, "সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনার সিদ্ধান্ত তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ছিল। কিন্তু বাস্তবতা এখন আর সেটা সমর্থন করছে না।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহও বলেন, "সাতটি কলেজ নিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা সহজ কাজ নয়। দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও শিক্ষকের সংকট রয়েছে।"
এদিকে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ মনে করেন—সাত কলেজের জন্য কমিশন বা কমিটি গঠন করলে সেটা সমস্যার সমাধান হতে পারে। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় গঠন হলে তার জন্য সরকারের দিক থেকে নানা ধরনের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা প্রয়োজন হবে।
সামগ্রিকভাবে, সাত কলেজের স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের দাবির বাস্তবায়ন সহজ নয়। তবে, সরকারের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল শিক্ষার্থীদের দাবি ও সমস্যাগুলোর প্রতি সঠিক মনোযোগ দেওয়া। এই সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষাব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠবে, যা দেশের শিক্ষা খাতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর এস এম এ ফায়েজ বলেন, "আমরা যদি দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান করতে না পারি, তবে এর ফলাফল আরও খারাপ হতে পারে। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের যে সমস্যা তা এখনই সমাধান করা জরুরি।" সূত্র: বিবিসি
Read_more
- বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বৈষম্যবিরোধী নেতারা
- সবার সঙ্গে বৈঠক করে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেবেন ড. ইউনূস
- বুলেটের ভয় পাইনি, আমাদের ব্যালটের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই
- ৪ দিন বন্ধ থাকবে মেট্রোরেলের ঢাবি স্টেশন
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের গাড়ি ‘ছিনতাইকারীদের কবলে’
- অসুস্থ আবু সাঈদের বাবাকে হেলিকপ্টারে আনা হলো ঢাকায়
- আন্দোলনে গুলি করা ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- রাজবাড়ীতে আ.লীগ ও যুবলীগের ৪ নেতা গ্রেপ্তার
- বিশ্বাসঘাতকতা করলে ড. ইউনূসকেও ছেড়ে কথা বলব না : সারজিস
- জলসায় গিয়ে নিখোঁজ, লিচু বাগানে মিলল স্কুলছাত্রীর লাশ
- রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন
- হাসিনার ৩ মাস ৫ দিন পর যেভাবে দেশ ছাড়েন কাদের
- যে কারণে সব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়নি
- আর কোনো ফ্যাসিস্টকে ক্ষমতায় বসাবেন না : ফয়জুল করিম
- শিক্ষার্থীদের কাছে নতুন বই কবে পৌঁছাতে পারে, জানালেন শিক্ষা উপদেষ্টা
- বাতিল হচ্ছে শেখ হাসিনার আমলের শিক্ষানীতি
- বেসরকারি শিক্ষকদের শূন্য পদে বদলির নীতিমালা জারি
- অবৈধ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে দিল্লির সব স্কুলে নির্দেশনা জারি
- ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল সার্বিয়া
- হাসিনাকে ফেরাতে ভারতকে চিঠি
- বিদেশি পিস্তল দিয়ে আন্দোলনে গুলি, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার
- তাবলীগের দুপক্ষকে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে সংলাপের আহ্বান
- সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতির খবর এএফপিতে, মুখ খুললেন হাসনাত
- যেখানেই অন্যায়, সিন্ডিকেট আর চাঁদাবাজি দেখব উপড়ে ফেলব : সারজিস
- সচিবালয়ে আগুন : হুঁশিয়ারি সারজিস আলমের
- ভুয়া চিঠিতে এমপিও’র চেষ্টা, কোটি টাকার লেনদেন
- ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অবস্থান
- ঢামেকের মর্গে পড়ে আছে গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছয়জনের মরদেহ
- পুলিশ এখনো মামলা বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে : হাসনাত আব্দুল্লাহ
মন্তব্য / প্রেরক
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার আমশড়া ফাজিল মাদ্রাসায় কেউ পাস করেনি ২১ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য : শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন
-
সিরাজগঞ্জ থেকে ফারুক আহমেদঃ
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় আমশড়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে এবারের আলিম পরীক্ষায় অংশ নেয়া ২১ জন শিক্ষার্থীর কেউই পাশ করতে পারেননি।শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
গত শনিবার ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই মাদ্রাসাটির এমন ফলাফল নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ,প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনিয়ম,শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি,পাঠদানে গাফিলতি,টাকার বিনিময়ে অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, নির্ধারিত সময়ের আগেই মাদ্রাসা ছুটি এবং পরিচালনা পর্ষদের দুর্বল ব্যবস্থাপনা,সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দুর্বল তদারকিসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত ও মাদ্রাসাটির পুরানো ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।স্থানীয়দের মতে,এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ফলাফলে সবাই উদ্বেগজনক।শিক্ষার মান উন্নয়ন, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবী জানিয়েছেন তারা।অন্যদিকে,প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাও: মিজানুর রহমান জানান,মাদ্রাসাটি প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ও পড়াশোনায় মনোযোগের ঘাটতি রয়েছে।শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে আসক্তি এবং অভিভাবকদের পর্যাপ্ত তদারকি ও সচেতনতার অভাবও ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ বলে তিনি মনে করেন।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী,এবারের আলিম পরীক্ষায় অংশ নেয়া ২১ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা,,,,জানান,শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানাতে বলা হয়েছে।কেন ফলাফল খারাপ হয়েছে,এমন প্রতিষ্ঠান প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিভাবে পরবর্তী ময়ে ফলাফল ভালো করা যায় সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেয়া হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান,পাঠদানের পরিবেশ উন্নয়ন,তদারকী জোরদার এবং ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মন্তব্য / প্রেরক
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে জিপিএ-৫ ও পাসের হারসহ সব সূচকে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এবার দিনাজপুর বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৫৩ জন শিক্ষার্থী।
-
দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে জিপিএ-৫ ও পাসের হারসহ সব সূচকে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এবার দিনাজপুর বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৫৩ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে মেয়ে ১৫৭০ জন ও ছেলে ১৩৮৩ জন। ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ১৮৭ জন বেশী। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এসব তথ্য জানা যায়। বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এ বছর বোর্ডের অধীনে আট জেলার ৬৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট এক লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে ৫১ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী পাশ করেছে। মোট পাশের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আর বোর্ড থেকে ২ হাজার ৯৫৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৩৮৩ জন এবং ছাত্রী পেয়েছে ১ হাজার ৫৭০ জন। মোট পাসের মধ্যে মেয়েদের পাসের হার ৫০ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং ছেলেদের পাসের হার ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ। মেয়েরা ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশী পাস করেছে।ফলাফলে আরও দেখা যায় বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগেও মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভাল করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। যার মধ্য মেয়েরা ৬৮ দশমিক ৫১ শতাংশ ও ছেলেরা ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ। যেখানে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ২ দশমিক ৬১ ও শতাংশ বেশী পাস করেছে। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। যার মধ্যে মেয়েরা ৪৫ দশমিক ৬০ শতাংশ ও ছেলেরা ৩৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। এখানে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশী পাস করেছে। আর বাণিজ্য বিভাগে পাসের হার ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। যার মধ্যে মেয়েরা ৩৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ ও ছেলেরা ৩৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। এই বিভাগেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ২ দশমিক ০৭ শতাংশ বেশী পাস করেছে। শনিবার দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত পরিসংখ্যানে বিষয়টি জানানো হয়।
মন্তব্য / প্রেরক
মেহেদী হায়দার চৌধুরীকে সভাপতি এবং এইচ. এম. নুরুজ্জামান মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধীন মাস্টার অব প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (এমপিএ) ২০২৬-২০২৭ এবং ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য তাদের নতুন ২১ সদস্যবিশিষ্ট এই কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ ভবনে অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ ফারুক মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সহ-সভাপতি: মোঃ জাকির হোসেন এফসিএস, মীর জাহাঙ্গীর আলম সরকার, যুগ্ম সম্পাদক: সৈয়দ আল হাদী,কোষাধ্যক্ষ: মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক: অনুপ কুমার রায়,প্রকল্প সম্পাদক: সাবরিনা ইসলাম পপি,সদস্যপদ উন্নয়ন সম্পাদক: আব্দুল আহাদ পাঠান, এফআইপিএ, এফএফএ, কল্যাণ সম্পাদক: মোঃ মনোয়ার হোসেন,আইসিটি সম্পাদক: পল্লব কুমার মহালানবিশ,আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক: রনি হালদার, ক্রীড়া সম্পাদক: মোঃ আলামিন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক: অমিত কুমার মল্লিক,দপ্তর সম্পাদক: মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা হলেন :মোঃ মোফাকখারুল ইসলাম পারভেজ,মোঃ ফয়েজ আহমেদ, মীর মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন, সরজিৎ কুমার সাহা,এম. এ. কুদ্দুস,মোহাম্মদ সোলায়মান উদ্দিন। কমিটি গঠনের পরে নেতৃবৃন্দ জানান, এই নতুন গতিশীল টিম অ্যাসোসিয়েশনকে নেতৃত্ব দেবে এবং হিসাববিজ্ঞান পেশাজীবীদের মধ্যে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে। নবগঠিত এই কমিটির মূল লক্ষ্য হলো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং করপোরেট নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। কমিটির সদস্যরা আর্থিক খাতে কর্মরত গ্র্যাজুয়েটদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন, পেশাদার নেটওয়ার্কিং এবং সম্মিলিত উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা আরো জানান, "আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি সক্রিয় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যা আমাদের অ্যালামনাইদের সহায়তা করার পাশাপাশি আমাদের প্রিয় বিভাগের উন্নয়নে অবদান রাখবে।" নেতৃবৃন্দ আরও জানান যে, আগামী মাসগুলোতে মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম, প্রফেশনাল ওয়ার্কশপ এবং নেটওয়ার্কিং ইভেন্টসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমপিএ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (MPA Alumni Association) প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের দায়িত্বে নিয়োজিত তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন এমপিএ কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার চৌধুরী। কমিশনের অন্য সম্মানিত সদস্যরা হলেন অ্যাকাউন্টিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাকসুদুর রহমান সরকার, এফসিএমএ (FCMA) এবং অধ্যাপক আমিরুস সালাত।
মন্তব্য / প্রেরক
বিরামপুরে মিড ডে মিলের পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন
-
মোঃ নজরুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি বিরামপুর দিনাজপুর
রংপুর বিভাগের নির্বাচিত একমাত্র বিরামপুর উপজেলার শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রবিবার (১ নভেম্বর) শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিল (কুপন) পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।
জানা গেছে, বিরামপুর উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিড ডে মিল প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। ঐ প্রকল্পের গতানুগতিক একই রকম খাদ্যে বৈচিত্র আনার জন্য শিশুদের পছন্দ মতো ৮ রকমের খাবারের সম্ভার নিয়ে এই পাইলট প্রকল্প শুরু করা হলো। দেশের ৮ বিভাগে ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ পাইলট প্রকল্পের আওতায় রংপুর বিভাগের বিরামপুর উপজেলার শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পাইলট প্রকল্পের জন্য বেছে নিয়ে সেখানে রবিবার প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এ পাইলট প্রকল্পে এখন থেকে মিড ডে মিল হিসাবে ডিম ও কলার পাশাপাশি শিশু শিক্ষার্থীরা তাদের কুপন জমা দিয়ে নির্ধারিত দোকান থেকে পছন্দ মতো খাদ্য বনরুটি, কিসমিচ, বাদাম, ড্রাইকেক, খেজুর ও বিস্কুট নিতে পারবেন। অভিভাবকদের প্রত্যাশা, প্রতিদিন ৩৫ টাকা মূল্যের বৈচিত্রময় এ খাবারের প্রতি শিশুরা আরো বেশি আগ্রহী হবে এবং বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতি বাড়বে।
উদ্বোধন উপলক্ষ্যে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ তানজিনা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুনা লায়লা, সহকারী শিক্ষা অফিসার নাজিম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মিঞা মোঃ শফিকুল আলম মামুন, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী রুবেল, পৌর বিএনপি’র সভাপতি হুমায়ুন কবীর, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজু, শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি লুৎফর রহমান, সহ-সভাপতি সানোয়ার হোসেন, ইএসডিও এনজিও’র স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জেলা ম্যানেজার শাহ মোঃ আমিনুল হক, প্রধান শিক্ষক আলী কবির রেজা, বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান প্রমূখ।
মন্তব্য / প্রেরক
সাম্প্রতিক
নিউজলেটার
নিউজলেটার বিবরণ