Image
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

ডিএসএলআর ক্যামেরা খুঁজছেন? কেনার আগে জেনে নিন ফিচার ও দাম

ডিএসএলআর ক্যামেরা খুঁজছেন? কেনার আগে জেনে নিন ফিচার ও দাম

ফ্রেমবন্দি মুহূর্তগুলোকে প্রাণবন্ত করে তুলতে ডিএসএলআর ক্যামেরার কোনো জুড়ি নেই। যে কোনো মুহূর্ত ফ্রেমবন্দি করার সময় সৃজনশীলতা চর্চায় স্বাধীনতার স্বাদ দেয় এই ডিজিটাল ক্যামেরাগুলো। কারিগরি সরঞ্জামের দিক থেকে অন্যান্য ক্যামেরাগুলোকে ছাপিয়ে যাওয়ায় প্রত্যেক ফটোগ্রাফিপ্রেমীর স্বপ্ন থাকে এরকম একটি ক্যামেরা সঙ্গে রাখার।

ছবি তোলার সেরা অভিজ্ঞতা লাভের পাশাপাশি উচ্চ-রেজ্যুলেশন সেন্সর এবং বহুমুখী লেন্সগুলোর কারণে দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে ক্যামেরাগুলোর। তাই এমন একটি যন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে প্রয়োজন সুচিন্তিত বিনিয়োগের। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে নজর দেওয়া উচিৎ ক্যামেরা সংক্রান্ত কিছু কারিগরি বিষয়ে। সেই বিষয়গুলোর সম্যক ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি চলুন, বর্তমান বাজারের জনপ্রিয় কয়েকটি ডিএসএলআর ক্যামেরার দাম ও ফিচার দেখে নেওয়া যাক।

সেন্সর
ক্যামেরার সেন্সর হলো একটি ইলেক্ট্রনিক চিপ, যা আলো ক্যাপচার করে ভিউফাইন্ডারের মাধ্যমে তাকে ফটোগ্রাফে রূপান্তরিত করে। সেন্সর প্রধানত ৩ ধরনের- ফুল-ফ্রেম, ক্রপ বা এপিএস-সি (অ্যাডভান্স্ড ফটো সিস্টেম-টাইপ সি) এবং মিডিয়াম ফর্মেট।

ফুল-ফ্রেম দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে যথাক্রমে ৩৬ ও ২৪ মিলিমিটার। এই সেন্সরের ক্যামেরাগুলো বিস্তৃত টোনাল পরিধিতে বেশ ভালো কাজ করে। অর্থাৎ এগুলোতে আলোকিত বা অন্ধকারাচ্ছান্ন পরিবেশের ছবিগুলো বেশ দক্ষতার সঙ্গে ধারণ করা সম্ভব। ফুল-ফ্রেম ক্যামেরাতে কোনো ক্রপ ফ্যাক্টর থাকে না। এর মানে ভিউফাইন্ডারের মধ্য দিয়ে সামনে যা দেখা যায় অনেকটা অবিকল ঠিক তাই রেকর্ড করা যায়।

এন্ট্রি ও মিড-লেভেল ক্যামেরাগুলোতে সাধারণত ক্রপ সেন্সরই বেশি থাকে। পূর্ণ-ফ্রেম থেকে তুলনামূলকভাবে ছোট ও হাল্কা এই সেন্সরগুলোর পরিমাপ ২৩ দশমিক ৫ x ১৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার। ক্রপ সেন্সর তার পূর্ব-নির্ধারিত পরিসীমা দিয়ে রেকর্ডকৃত ছবির নির্দিষ্ট অংশকে তুলে ধরে। ফলে অনেক দূর থেকে নির্দিষ্ট কোনো বস্তুর ছবি নেওয়ার ক্ষেত্রে এগুলো দারুণভাবে ফোকাস করতে পারে। তাই এই সেন্সরগুলো বন্যপ্রাণী বা ক্রীড়া ফটোগ্রাফির জন্য উত্তম।

৩টির মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল হলো মিডিয়াম ফরম্যাট সেন্সর, যার পরিমাপ ৫৩ দশমিক ৪ x ৪০ মিলিমিটার। সেন্সর বড় হওয়ার কারণে মিডিয়াম ফরম্যাটের ক্যামেরায় বেশি মেগাপিক্সেল থাকে। এতে করে বাস্তব দৃশ্যের রঙ ও আলো-আধারীর খেলার সঙ্গে এই ক্যামেরায় তোলা ছবির পার্থক্য কদাচিৎ ধরা যায়।

তবে মিডিয়াম ফরম্যাটের একটা বড় অসুবিধা হলো ধীরগতির বার্স্ট মুড এবং ফোকাস। অর্থাৎ দ্রুত গতিতে চলমান কোনো বস্তুর শট নেওয়ার ক্ষেত্রে এই সেন্সরের ক্যামেরাগুলো যথেষ্ট বিড়ম্বনায় ফেলতে পারে।

মেগাপিক্সেল
লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র রঙের বিন্দু একত্রে মিশে তৈরি করে একটি ডিজিটাল ছবি। এই বিন্দুগুলোর নাম পিক্সেল। ২২-মেগাপিক্সেলের একটি ক্যামেরায় ধারণকৃত একটি ছবিতে থাকে ২২ মিলিয়ন পিক্সেল। আপাত দৃষ্টে মনে হতে পারে যত বেশি মেগাপিক্সেল, ছবির রেজ্যুলেশন তত বেশি। তবে এটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। সর্বোচ্চ মানের ছবির জন্য পিক্সেলের সংখ্যার সঙ্গে সেন্সরের আকার সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া জরুরি।

৫০ মেগাপিক্সেলের একটি স্মার্টফোনের ক্যামেরায় যে পরিমাণ পিক্সেল থাকে, তা ৫০ মেগাপিক্সেলের একটি মিডিয়াম ফরম্যাটের ক্যামেরার তুলনায় অনেক কম। কেননা স্মার্টফোনের ক্যামেরার সেন্সর অনেক ছোট। আর সেই ছোট জায়গার মধ্যেই একসঙ্গে থাকে ৫০ মিলিয়ন পিক্সেল। এর ফলে সেন্সরের আলো ধরে রাখার ক্ষমতা কম থাকায় ছবি ক্যাপচারের সময় ফ্ল্যাশ এবং শব্দের আধিক্য থাকে।

অন্যদিকে বড় সেন্সরে পিক্সেলের জন্য যথেষ্ট জায়গা থাকায় ছবির টোনালের গুণগত মান ভালো থাকে, তথা বাস্তব রঙগুলো ছবিতে নিখুঁত ভাবে ফুটে উঠে।

লেন্স
কোনো বস্তুর ছবি তোলার পর ক্যামেরার লেন্সের ভেতরে যে বিন্দুতে বস্তুটির প্রতিবিম্ব তৈরি হয় তাকে ছবির ফোকাল বিন্দু বলা হয়। এই বিন্দু থেকে লেন্সের কেন্দ্রের মধ্যবর্তী দূরত্ব লেন্সের ফোকাল দৈর্ঘ্য নামে পরিচিত। এই দূরত্বটি লেন্সের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কেননা এর উপর ভিত্তি করে লেন্সের প্রধান দুইটি শ্রেণী রয়েছে। একটি হচ্ছে প্রাইম, এবং অন্যটি জুম লেন্স।

প্রাইম লেন্সের একটি নির্দিষ্ট ফোকাল দৈর্ঘ্য থাকে। এখানে অ্যাপারচার বেশি হওয়ায় ভালো মানের ছবি পাওয়া যায়। যে অংশের মধ্য দিয়ে আলো ক্যামেরায় প্রবেশ করে, সেটিই লেন্সের অ্যাপারচার। এর পরিধি যত বেশি হয়, তত বেশি আলো ক্যামেরার সেন্সরে পৌছতে পারে। ফলশ্রুতিতে ছবিটি বেশি এক্সপোজার পায়।

অপরদিকে জুম লেন্সে একাধিক ফোকাল দৈর্ঘ্য থাকে। বহুমুখী এই একটি লেন্স থাকলে ক্যামেরার জন্য একাধিক লেন্সের প্রয়োজন পড়ে না।

ফোকাল দৈর্ঘ্যে ৮ থেকে শুরু করে ২ হাজার মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ছোট ফোকাল দৈর্ঘ্যের লেন্সগুলো ছোট বড় প্রাকৃতিক দৃশ্য ও স্থাপত্য ফটোগ্রাফির জন্য ভালো। আর দীর্ঘ ফোকাল দৈর্ঘ্য খেলাধুলা বা বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফির জন্য উপযুক্ত।

আইএসও সংবেদনশীলতা
আলোর প্রতি ক্যামেরার সংবেদনশীলতাকে বোঝাতে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (আইএসও)-এর সেট করা কিছু সাংখ্যিক মান রয়েছে। এগুলোকে সংক্ষেপে আইএসও বলা হয়। আইএসও সংখ্যা বেশি হওয়া মানে কম আলোতেই ক্যামেরাটি ছবি তুলতে সক্ষম। আইএসও ঘরের ভেতরে ছবি তোলার সময় ফ্ল্যাশের প্রয়োজনীয়তা কমায় এবং ছবিকে বাস্তবিক করে তুলতে পারে। তবে আইএসও’কে পরিবেশে বিদ্যমান আলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রাখা আবশ্যক। কেননা বেশি আইএসওর কারণে অনেক সময় ছবি নষ্ট হয়ে যায়।

যেমন রাতে বা কম আলোতে খালি চোখে যা দেখা যায়, তা ক্যাপচার করতে ১ হাজার ৬০০ আইএসও যথেষ্ট। তাই ডিএসএলআর বাছাইয়ের সময় আইএসওর রেঞ্জের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

অটোফোকাস সিস্টেম ও বার্স্ট রেট
একটি ভালো ফোকাসিং সিস্টেম স্থির এবং চলমান বিষয়গুলোতে আলাদাভাবে ফোকাস করার সুবিধা থাকে। উপযুক্ত ফোকাসিং সিস্টেম মানে প্রতি সেকেন্ডে ফ্রেম সংখ্যা বেশি (এফপিএস) হওয়া, বেশি ফোকাস পয়েন্ট এবং অটোফোকাস (এএফ) সিস্টেম। মূলত খেলাধুলা এবং অ্যাকশন ফটোগ্রাফি করার সময় কম সময়ে অনেকগুলো শট নেওয়ার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে এএফ সিস্টেম থাকলে অনেক দুর্দান্ত শট হারিয়ে যাওয়া থেকে রেহাই মিলে।

এফপিএস ক্যামেরার বার্স্ট রেটকে প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে জানা যায় ক্যামেরাটি প্রতি সেকেন্ডে কতগুলো ফ্রেম শুট করতে সক্ষম। খেলাধুলা বা অ্যাকশন ছবির পাশাপাশি বেশি বার্স্ট রেট থাকা পোর্ট্রেইট ছবি ধারণের জন্যও ভালো।

শাটার স্পিড
ছবি ক্যাপচারের সময় আলোকে প্রবেশ করতে দেওয়ার জন্য ক্যামেরার শাটার উন্মুক্ত হয়। শাটার খোলা থাকার সময়কে কম-বেশি করে ছবিটি কেমন দেখাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই সময়টির আরও একটি নাম আছে, যা এক্সপোজার টাইম নামে পরিচিত। শাটারের গতি পরিমাপ করা হয় এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশ হিসেবে। যেমন, শাটার গতি ১/২ হাজার মানে- শাটারটি এক সেকেন্ডের ২ হাজার ভাগের ১ ভাগের জন্য খোলা থাকে। ভগ্নাংশের নিচের সংখ্যাটি যত বেশি হয়, শাটারও তত দ্রুত গতি সম্পন্ন হয়।

টেকসই কাঠামো
প্রতিকূল পরিবেশে ছবি তোলার জন্য ডিএসএলআর-এর গঠনটি মজবুত হওয়া অপরিহার্য। নানা ধরণের মজবুত উপকরণ দিয়ে তৈরি একটি ডিএসএলআর ধুলাবালি, আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রার তারতম্য সহ্য করতে সক্ষম হয়। এতে করে ক্যামেরাটি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কম পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিশ্চিন্তে ফটোগ্রাফি করা যায়।

ব্যাটারির আয়ুষ্কাল
ছবি প্রক্রিয়াকরণের জন্য নানা ধরণের ফাংশন থাকায় একটি ডিএসএলআর ক্যামেরার যথেষ্ট পাওয়ারের দরকার হয়। তাই ছবি তোলার সময় ক্যামেরা যেন আকস্মিক ভাবে বন্ধ হয়ে না যায়, তার জন্য প্রথমেই একটি ভালো মানের ব্যাটারি নেওয়া উত্তম। অধিকাংশ ক্যামেরা আজকাল লিথিয়াম আয়নের মতো রিচার্জেবল ব্যাটারি ব্যবহার করে। এই ব্যাটারিগুলো ক্যামেরা সক্রিয় থাকার জন্য পর্যাপ্ত সময় ধরে শক্তির যোগান দিতে পারে।

ব্র্যান্ডের খ্যাতি
একটি ক্যামেরার কোন কোন বিষয়গুলো খুটিয়ে দেখতে হয় সে ব্যাপারে অনেকেই অনভিজ্ঞ থাকতে পারেন। বিশেষ করে নতুনদের জন্য এই খুটিনাটি যাচাই করে দেখাটা বেশ কষ্টসাধ্য। এই বিড়ম্বনা থেকে এক নিমেষেই মুক্তির উপায় হতে পারে ক্যামেরাটির ব্র্যান্ড কতটা সুপ্রতিষ্ঠিত সেদিকে নজর দেওয়া।

প্রসিদ্ধ ব্র্যান্ডগুলো বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ভাবে স্বীকৃত হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, ক্যাটলগসহ বিজ্ঞাপনগুলো কারিগরি দিক থেকে সুবিধাগুলোর বিস্তারিত বিবরণে সমৃদ্ধ থাকে। সেই সঙ্গে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ গাইডলাইনেরও ব্যবস্থা রাখে খ্যাতিমান ব্র্যান্ডগুলো। এছাড়া ফার্মওয়্যার আপডেট ও বিক্রয়-পরবর্তী সেবার মতো বিভিন্ন ধরণের গ্রাহক পরিষেবার সুবিধা তো আছেই।

ক্যানন EOS 4000D
১৮ মেগাপিক্সেল এপিএস-সি সেন্সর সমৃদ্ধ এই ক্যামেরার দাম ৪২ হাজার ৪০০ টাকা। আনুভূমিক ও উল্লম্ব ভাবে সেন্সর প্রায় ২২ দশমিক ৩ মিলিমিটার x ১৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার। লেন্স মাউন্টের জন্য আছে ইএফ (ইলেক্ট্রো ফোকাস) অথবা (ইএফ-এস ইলেক্ট্রো ফোকাস- শর্ট ব্যাক ফোকাস)। আইএসও এইচ: ১২৮০১ পর্যন্ত প্রসারণযোগ্য। শাটার অন-অফ সময় ৩০ থেকে ১/৪ হাজার সেকেন্ডে নামিয়ে আনা যায়। ৬ দশমিক ৮ সেন্টিমিটারের এলসিডি মনিটরের ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল উল্লম্বভাবে প্রায় ১২০ ডিগ্রি এবং আনুভূমিকভাবে প্রায় ১৩০ ডিগ্রি। শক্তিকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে রিচার্জেবল লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি। বিক্রয় পরবর্তী সার্ভিসের সময়সীমা সর্বোচ্চ ৩ বছর।

নিকন D5300
বর্তমানে ২৪ মেগাপিক্সেলের এই ডিএসএলআরটির দাম ৪৩ হাজার টাকা। এতে রয়েছে এপিএস-সি সেন্সর এবং থ্রিডি ট্র্যাকিংসহ ৩৯ পয়েন্ট এএফ সিস্টেম। ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৬০০ পর্যন্ত সম্প্রসারণযোগ্য আইএসও। এলসিডি মনিটরের পুরুত্ব ৩ দশমিক ২ ইঞ্চি। শাটার স্পিড ৩০ সেকেন্ড থেকে ১/৪ হাজার সেকেন্ড-এ বাড়ানো যায়। বিল্ট-ইন ওয়াইফাই এবং জিপিএসের পাশাপাশি আছে ইউএসবি ২ এবং মিনি টাইপ সি এইচডিএমআই। আরও আছে ফুল এইচডি ভিডিও ক্যাপচার সুবিধা। যে কোনো সমস্যায় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১ বছর পর্যন্ত ফ্রি সার্ভিস পাওয়া যাবে।

ক্যানন 2000D
২৪ দশমিক ১ মেগাপিক্সেলের এই ডিএসএলআরটির মূল্য ৪৬ হাজার টাকা। সেন্সরের আকার প্রায় ২২ দশমিক ৩ মিলিমিটার x ১৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার। শাটারের স্পিড ৩০ থেকে ১/৪ হাজার সেকেন্ড।

আইএসও এইচ: ১২৮০১ পর্যন্ত প্রসারিত করা যায়। লেন্স মাউন্ট ইএফ/ইএফ-এস। ৭ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এলসিডি মনিটরে ভিউইং অ্যাঙ্গেল রয়েছে প্রায় ১৭০ ডিগ্রি। এছাড়াও ক্যামেরাটি ফুল এইচডি ভিডিও ক্যাপচারের সুবিধা দেয়। মডেলটির জন্য সার্ভিস ওয়ারেন্টি ৩ বছর।

নিকন Coolpix A1000
ওয়াইফাই, ইউএসবি, ব্লুটুথ এবং এইচডিএমআই আউটপুট সম্বলিত ১৬ মেগাপিক্সেলের এই ক্যামেরার দাম ৫০ হাজার টাকা। সিমস টাইপ সেন্সরের আকার ১/২ দশমিক ৩ ইঞ্চি। অপটিক্যাল জুম ক্ষমতা ৩৫গুণ এবং ডিজিটাল জুম ৪গুণ পর্যন্ত। দ্রুতি গতিতে চলমান কোনো বস্তুর শট নেওয়ার জন্য আছে কনট্রাস্ট-ডিটেক্ট এএফ। ১০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সম্প্রসারণযোগ্য আইএসও এবং এক্সপোজার টাইম ১ থেকে ১/২ হাজার সেকেন্ডে উন্নীত করা সম্ভব। ৩ ইঞ্চি ওয়াইড ভিউইং অ্যাঙ্গেল এলসিডি ডিস্প্লে। সমগ্র ডিভাইসের পাওয়ার হাউস একটি রিচার্জেবল লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি। বিক্রয়-পরবর্তী সার্ভিস ওয়ারেন্টি ৩ বছর।

নিকন D3500
৩ ইঞ্চির ওয়াইড ভিউয়িং অ্যাঙ্গেলের এলসিডি স্ক্রিনের এই ডিএসএলআরটির মূল্য ৫০ হাজার টাকা।

সেন্সরের আকার ২৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার x ১৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং রেজ্যুলেশন ২৪ দশমিক ২ মেগাপিক্সেল। আইএসও কমপক্ষে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৬০০। এক্সপোজার টাইম ৩০ থেকে সর্বনিম্ন ১/৪ হাজার সেকেন্ডে কমিয়ে আনা যায়। D3500-এর বিশেষত্বের মধ্যে রয়েছে ওয়াইফাই, ৪ দশমিক ১ ব্লুটুথ, ইউএসবি, টাইপ সি মিনি-পিন এইচডিএমআই, এবং বিল্ট-ইন মাইক্রোফোন। ভিডিওগ্রাফির জন্য আছে ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ডের বৈশিষ্ট্য। দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকার জন্য পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহে নিবেদিত রয়েছে ১টি রিচার্জেবল লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি।

ক্যানন EOS 250D
ব্লুটুথ এবং ওয়াই-ফাই সমৃদ্ধ এই মডেলটির বর্তমান বাজার মূল্য ৬০ হাজার টাকা। ক্রপ সেন্সরের রেজ্যুলেশন ২৪ দশমিক ১ মেগাপিক্সেল। আইএসও সর্বোচ্চ এইচ: ৫১২০০ পর্যন্ত বাড়ানো যায়। এক্সপোজার টাইম ৩০ থেকে ১/৪ হাজার সেকেন্ডে উন্নীত করা সম্ভব। ৭ দশমিক ৭ সেন্টিমিটার এলসিডি মনিটরটি টাচস্ক্রিনের। লেন্স মাউন্ট হিসেবে আছে শুধুমাত্র ইএফ। ডিএসএলআরটির আরও রয়েছে ফোরকে ভিডিও ক্যাপচারের বৈশিষ্ট্য। আর অন্যান্যগুলোর মতো এতেও পাওয়ার হাউস হিসেবে রয়েছে রিচার্জেবল লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি। তবে EOS 250D-এর জন্য ফ্রি পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে ১ বছর।

শেষাংশ
ডিএসএলআর ক্যামেরা কেনার ক্ষেত্রে প্রথমেই সেন্সর, মেগাপিক্সেল ও লেন্সের মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করা জরুরি। মূলত ঠিক কোন ধরণের বিষয় নিয়ে ফটোগ্রাফি করা হবে তা নির্ধারণ করে ক্যামেরা কেনার প্রতি অগ্রসর হওয়া উত্তম। তবে যারা ফটোগ্রাফির প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য ক্যানন ও নিকনের এই মডেলগুলো উপযুক্ত হতে পারে। এছাড়া এগুলোর মাধ্যমে একদম নতুনরাও ক্যামেরার কারিগরি বিষয়গুলো চর্চা শুরু করতে পারে।

মন্তব্য / প্রেরক

আজকের রাশিফল (২২ জুন, ২০২৬) অনুযায়ী ১২টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য দিনটি কেমন যেতে পারে, তার একটি সাধারণ পূর্বাভাস নিচে দেওয়া হলো:

আজকের রাশিফল (২২ জুন, ২০২৬) অনুযায়ী ১২টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য দিনটি কেমন যেতে পারে, তার একটি সাধারণ পূর্বাভাস নিচে দেওয়া হলো:
ফটো: ইন্টারনেট

মেষ রাশি (Aries)

  • দিনটি কেমন: আজ কর্মক্ষেত্রে আপনার কাজের প্রশংসা পাবেন। আর্থিক দিক থেকে দিনটি শুভ, তবে আবেগের বশে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

  • পরামর্শ: পরিবারের বড়দের পরামর্শ মেনে চলুন।

বৃষ রাশি (Taurus)

  • দিনটি কেমন: ব্যবসায়ীরা নতুন অংশীদারিত্বের সুযোগ পেতে পারেন। শেয়ার বাজারে বা কোনো সম্পত্তিতে বিনিয়োগের জন্য দিনটি ইতিবাচক।

  • পরামর্শ: কাজের ব্যস্ততার মাঝেও স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখুন।

মিথুন রাশি (Gemini)

  • দিনটি কেমন: আজ কর্মস্থলে নতুন কোনো দায়িত্ব পেতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং আটকে থাকা কোনো কাজ সম্পন্ন হতে পারে।

  • পরামর্শ: স্পষ্ট কথা বলার সময় একটু সতর্ক থাকুন, যেন কেউ কষ্ট না পায়।

কর্কট রাশি (Cancer)

  • দিনটি কেমন: আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আজকের দিনটি খুব একটা ভালো নয়, তাই ঋণ দেওয়া বা নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। পারিবারিক পরিবেশ শান্ত থাকবে।

  • পরামর্শ: অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে চলতে ধ্যান বা যোগব্যায়াম করতে পারেন।

সিংহ রাশি (Leo)

  • দিনটি কেমন: প্রেমের ক্ষেত্রে আজকের দিনটি খুবই রোমান্টিক কাটতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার ভালো সময়। কর্মক্ষেত্রে আপনার নেতৃত্ব গুণের বিকাশ ঘটবে।

  • পরামর্শ: অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস যেন অহংকারে রূপ না নেয়।

কন্যা রাশি (Virgo)

  • দিনটি কেমন: জমি বা বাড়ি কেনাবেচার জন্য দিনটি অনুকূল। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন। দাম্পত্য জীবনে মধুরতা বজায় থাকবে।

  • পরামর্শ: আইনি কোনো বিষয়ে তাড়াহুড়ো করবেন না।

তুলা রাশি (Libra)

  • দিনটি কেমন: আজ ছোটখাটো ভ্রমণের যোগ রয়েছে যা আপনাকে মানসিক প্রফুল্লতা দেবে। ভাইবোনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। নতুন কোনো কাজের আইডিয়া মাথায় আসতে পারে।

  • পরামর্শ: নিজের অলসতাকে আজ প্রশ্রয় দেবেন না।

বৃশ্চিক রাশি (Scorpio)

  • দিনটি কেমন: ব্যাংক ব্যালেন্স বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতে করা কোনো বিনিয়োগ থেকে ভালো রিটার্ন আসতে পারে। সুস্বাদু খাবারের যোগ রয়েছে।

  • পরামর্শ: কথাবার্তায় সংযম রাখুন, নাহলে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে।

ধনু রাশি (Sagittarius)

  • দিনটি কেমন: আজকের দিনটি আপনার জন্য বেশ ইতিবাচক। আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকবে, যার ফলে কঠিন কাজও সহজে সমাধান করতে পারবেন। নতুন পোশাক বা গ্যাজেট কেনার সম্ভাবনা আছে।

  • পরামর্শ: ভাগ্যের ওপর ভরসা না করে নিজের পরিশ্রমে বিশ্বাস রাখুন।

মকর রাশি (Capricorn)

  • দিনটি কেমন: আজ খরচের মাত্রা একটু বাড়তে পারে, তাই বাজেট বজায় রাখুন। দূর কোনো দেশে যোগাযোগের বা ভ্রমণের সুযোগ আসতে পারে।

  • পরামর্শ: অযথা কোনো বিবাদে জড়াবেন না, নিজের কাজে মনোযোগ দিন।

কুম্ভ রাশি (Aquarius)

  • দিনটি কেমন: আয়ের নতুন উৎস তৈরি হতে পারে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা বা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির আলোচনা হতে পারে।

  • পরামর্শ: বড় ভাই বা বন্ধুদের সাথে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ এড়িয়ে চলুন।

মীন রাশি (Pisces)

  • দিনটি কেমন: কর্মজীবনে বড় কোনো পরিবর্তন বা নতুন চাকরির সুযোগ আসতে পারে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য দিনটি বিশেষ শুভ। সমাজে আপনার সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

  • পরামর্শ: ক্যারিয়ারের বিষয়ে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অভিজ্ঞ কারও সাথে পরামর্শ করে নিন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: রাশিফল হলো গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে একটি সাধারণ পূর্বাভাস। আপনার বাস্তব জীবনের পরিস্থিতি আপনার কর্ম ও সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

মন্তব্য / প্রেরক

দিনাজপুরে ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধন

দিনাজপুরে ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধন
ফটো: প্রতিনিধি

বুধবার দিনাজপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২দিনব্যাপী দিনাজপুর সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ- ২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন- ফেস্টুন ও ফিতা কেটে (৪৭ তম বিজ্ঞান মেলা, দশম বিজ্ঞান বিষয়ক অলিম্পিয়াড ও কুইজ প্রতিযোগিতার )এর উদ্বোধন করেন দিনাজপুর সদর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। এসময় তিনি বলেন, আমরা বিজ্ঞান মেলা দেখি, কিন্তু বিজ্ঞানকে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করি না। অথচ এই মেলাগুলোর ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও উৎসাহ দিলে তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের জন্য বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক এগিয়ে গেছে। তারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্ভাবন করছে। এই প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পরিচর্যা ও দিকনির্দেশনা দিতে পারলে দেশ উন্নয়নের পথে আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে বিকশিত করতে হবে। বিজ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভেতরে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনাকে খুঁজে বের করে তা বিকাশে সহায়তা করাই একজন শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব। অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং তাদের কাজের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বড় পরিসরে করার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এড. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস. এম.হাবিবুল হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তমালিকা পাল। উক্ত মেলায় দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ উদ্যোগ স্টলে অংশ নেয়। মেলা উদ্বোধন শেষে অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন স্টল(৩২টি) ঘুরে দেখেন এবং স্টলের ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মোঃ বোরহান উদ্দিন, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহমেদ, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ, সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার রায়। এছাড়াও শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় ও উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নির্মল কুমার রায়।

মন্তব্য / প্রেরক

ইতিহাসের রেকর্ড ভাঙলেন ৪ নভোচারী: পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে আর্টেমিস-২

ইতিহাসের রেকর্ড ভাঙলেন ৪ নভোচারী: পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে আর্টেমিস-২
ফটো: ইন্টারনেট

টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র: মানুষ এখন মহাকাশে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গতকাল ৬ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে আর্টেমিস-২ মিশনের ৪ জন নভোচারী পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রম করে মানব ইতিহাসের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তারা এখন পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০৬,৭৭১ কিলোমিটার (২৫২,৭৫৬ মাইল) দূরে অবস্থান করছেন।

রেকর্ড ভাঙা সেই মুহূর্ত

১৯৭০ সালে 'অ্যাপোলো-১৩' মিশন পৃথিবী থেকে ৪ লক্ষ ১৭১ কিলোমিটার দূরে গিয়ে যে রেকর্ড গড়েছিল, আর্টেমিস-২ নভোচারীরা তা ভেঙে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসে 'সবচেয়ে দূরে ভ্রমণকারী মানব' হিসেবে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন।

নভোচারীরা এখন কোথায়?

১ এপ্রিল কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উড্ডয়নের পর আজ মিশনের সপ্তম দিনে নভোচারীরা চাঁদের 'ফার সাইড' বা অন্ধকার অংশে অবস্থান করছেন। তাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কিছু বিশেষ তথ্য:

  • চাঁদের কাছাকাছি: তারা চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৬,৪৪০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে উড়ে গিয়েছেন।

  • সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ: চাঁদের পেছনে থাকাকালীন তারা একটি বিরল 'সৌরগ্রহণ' প্রত্যক্ষ করেছেন, যা পৃথিবী থেকে দেখা সম্ভব ছিল না।

  • যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সময়: চাঁদের পেছনে থাকা অবস্থায় তারা প্রায় ৪০ মিনিট পৃথিবীর সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন (Loss of Signal) ছিলেন, যা একটি পূর্বপরিকল্পিত রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ছিল।

নভোচারীদের প্রতিক্রিয়া

কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন মিশন কন্ট্রোলকে রেডিও বার্তায় জানান,

"খালি চোখে চাঁদের এমন দৃশ্য দেখা সত্যি অকল্পনীয়। আমরা কেবল রেকর্ড গড়ার জন্য আসিনি, আমরা এসেছি আগামীর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে।"

পরবর্তী ধাপ: ফিরে আসা

চাঁদকে প্রদক্ষিণ শেষ করে এখন তাদের মহাকাশযান 'ওরিয়ন' (Orion) পৃথিবীর দিকে ফিরতে শুরু করেছে। নাসা (NASA) জানিয়েছে, আগামী ১০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে নভোচারীরা প্রশান্ত মহাসাগরে ল্যান্ড করবেন। দ্রুতগতির এই প্রত্যাবর্তনের সময় মহাকাশযানটিকে প্রায় ২৫,০০০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ এবং তীব্র তাপ সহ্য করতে হবে।

মিশনের ৪ নভোচারী: ১. রিড ওয়াইজম্যান (কমান্ডার) ২. ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট) ৩. ক্রিস্টিনা কচ (মিশন স্পেশালিস্ট) ৪. জেরেমি হ্যানসেন (মিশন স্পেশালিস্ট)

এই মিশনের সফল সমাপ্তি আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে মানুষের চাঁদে নামার (আর্টেমিস-৩) পথ আরও সুগম করবে।

মন্তব্য / প্রেরক

বিরামপুরের টেক যোদ্ধা ‘মোঃ শাকের সজিব’ঃ এক যুগান্তকারী সফটওয়্যার ডেভেলপার ও তরুণদের আশার আলো।

বিরামপুরের টেক যোদ্ধা ‘মোঃ শাকের সজিব’ঃ  এক যুগান্তকারী সফটওয়্যার ডেভেলপার ও তরুণদের আশার আলো।

প্রচলিত পথে না হেঁটে যিনি নিজেই নিজের পথ তৈরি করেছেন, তিনি হলেন মোঃ শাকের সজিব। দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলা থেকে উঠে আসা এই ২৭ বছর বয়সী তরুণ এখন একজন সফল সফটওয়্যার ডেভেলপার, ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় তরুণদের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।

২০১৮ সালে, যখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট বা ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানত না কেউই, তখন সজিব একাই হাতে নেন এই প্রযুক্তির যাত্রা। কোন প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই তিনি ইউটিউব, স্ট্যাক ওভারফ্লো এবং বিভিন্ন অনলাইন ফোরাম থেকে নিজে নিজেই শিখতে শুরু করেন।

তার বাবা, মোঃ সাইফুল ইসলাম, একজন স্থানীয় চাল ব্যবসায়ী। পরিবারের সীমিত আর্থিক সামর্থ্য এবং এলাকার সীমাবদ্ধ সুযোগ-সুবিধা কখনো তাকে থামাতে পারেনি।

দক্ষতা ও সেবা

বর্তমানে সজিব এর দক্ষতা রয়েছে C#, C++, Java, Python, PHP ও JavaScript প্রোগ্রামিং ভাষায়। তিনি কাজ করছেন আধুনিক ফ্রেমওয়ার্ক ও টুলস যেমনঃ Android SDK, .NET, Laravel, React ও Qt C++।

এই প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তিনি তৈরি করছেনঃ

  • ডেস্কটপ সফটওয়্যার (C#, C++, .NET)
  • অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন (Java, Android SDK)
  • ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন (Laravel, PHP, React, JavaScript)
  • অটোমেশন বট ও ডিজিটাল মার্কেটিং টুল (Python, JavaScript)
  • বিজনেস প্রমোশন ও ব্র্যান্ডিং সেবা

বৈশ্বিক মানের ফ্রিল্যান্সিং

২০১৯ সালে Fiverr ও Upwork-এ যাত্রা শুরু করে আজ তিনি একাধিক ৫-তারকা রেটিং পাওয়া সফল ফ্রিল্যান্সার। বর্তমানে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করছেন এবং প্রতি মাসে তার আয় ১ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল সহায়তা

সজিব শুধু আন্তর্জাতিক কাজেই সীমাবদ্ধ নন। তিনি বিরামপুর ও আশে পাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এর জন্য তৈরি করছেন কাস্টম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার—যা ডেক্সটপ, ওয়েব ও অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে চলে। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের হিসাব-নিকাশ, কাস্টমার ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাক্ট ট্র্যাকিং আরও দক্ষতার সাথে করতে পারছেন।

উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন অধ্যায়ঃ শ্রুতি মটোরস

২০২৪ সালে তিনি নিজের নতুন উদ্যোগ শ্রুতি মটোরস নামে একটি অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের দোকান চালু করেন। এটির মাধ্যমে তিনি স্থানীয়ভাবে গাড়ির যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে নতুন একটি ব্যবসার সুযোগ তৈরি করেছেন।

সমাজসেবা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন

সফল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সজিব সামাজিক দিকটিও গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তিনি এখন নিজের উপজেলা থেকে কয়েকজন তরুণকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখাচ্ছেন এবং তৈরি করছেন নতুন ফ্রিল্যান্সার, যারা নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারবে।

“আমি চাই আমাদের উপজেলায় বেকার শব্দটি যেন বিলুপ্ত হয়ে যায়। প্রতিটি তরুণ যেন নিজেকে একজন দক্ষ প্রযুক্তিবিদ বা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, প্রযুক্তিই পারে আমাদের এলাকাকে আত্মনির্ভর করে তুলতে।”

বার্তাঃ

সজিব আমাদের দেখিয়েছেন, কোনো কিছু না থাকলেও আত্মবিশ্বাস আর চেষ্টা থাকলে সাফল্য সম্ভব। একজন তরুণ কিভাবে নিজের উপজেলা থেকেই আন্তর্জাতিক মানের কাজ করে, সমাজে অবদান রাখতে পারে—তার প্রকৃত উদাহরণ তিনি।

মন্তব্য / প্রেরক

সাথে সংযুক্ত থাকুন

নিউজলেটার

নিউজলেটার বিবরণ

আর্কাইভ

please_select_a_date