দেশের ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে দুর্দশায় পড়া ব্যাংকগুলোকে টাকার সঙ্কট মেটানোর চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল চারটি ব্যাংককে ৯৪৫ কোটি টাকা বিশেষ ব্যবস্থায় ধার দেয়ার ব্যবস্থা করেছে তারা। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের মাফিয়া ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রধান অর্থের জোগানদাতা সাইফুল আলম মাসুদ ওরফে এস আলম, নাসা গ্রুপের কর্ণধার ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার ও বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমানের দখলকরা ব্যাংকগুলোর নগদ অর্থের সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এসব ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকেও কোনো টাকা উত্তোলন করা যাচ্ছে না। একমাত্র ইসলামী ব্যাংক বাদে অন্য ব্যাংকগুলো শাখা থেকেও গ্রাহকদের তেমন টাকা দিতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে এসব ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে গঠিত নতুন পর্ষদকে সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে রাতারাতি আটটি ব্যাংকের মালিকানা দেয়া হয় মাফিয়া বনে যাওয়া এস আলম গ্রুপকে। এশিয়ার অন্যতম সেরা একটি ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক। ২০১৭ সালে একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এ ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডিকে তুলে নিয়ে তাদের এস আলমের কাছে শেয়ার হস্তান্তরে বাধ্য করা হয়।
একইভাবে দখলে নেয়া হয় সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। পাশাপাশি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকেরও মালিকানা নিয়ে নেয় তারা। পরে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকেরও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল তারা। এসব ব্যাংক থেকে গত সাত বছরে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা নামে-বেনামে বের করে নেয় এস আলম। ফলে এসব ব্যাংকগুলোর মধ্যে ছয়টির পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তাদের অনেক শাখায় লেনদেন করার মতো নগদ টাকাও নেই। আমানতকারীদের চাপে পড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন শাখা কর্মকর্তারা।
এ দিকে এক্সিম ব্যাংকের দখলে ছিলেন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার অন্যতম অর্থের জোগানদাতা ও আস্থাভাজন নাসা গ্রুপের প্রধান নজরুল ইসলাম মজুমদার। তিনি ১৭ বছর নানা কায়দায় এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ ধরে রাখা ও বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের (বিএবি) চেয়ারম্যানও ছিলেন। এক্সিম ব্যাংক থেকেও বিপুল অঙ্কের ঋণ নামে-বেনামে নিয়ে গেছে নাসা গ্রুপ। ব্যাংকের নতুন পর্ষদের একজন পরিচালক গতকাল জানিয়েছেন, এক্সিম ব্যাংকের ভেতরের অবস্থা খুবই নাজুক। এত দিন মজুমদার প্রভাব খাটিকে ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ম্যানেজ করে খেলাপি ঋণ কম দেখাত। কিন্তু প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৫০ শতাংশের বেশি।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পর দখল করা ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা আটটিসহ মোট ১১টি ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। পর্ষদ পুনর্গঠন করা অন্য তিন ব্যাংক হলো আইএফআইসি, ইউসিবি ও এক্সিম ব্যাংক। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের দখলে ছিল আইএফআইসি ব্যাংক, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংকের তারল্য সঙ্কট কাটিয়ে পুনরায় সক্ষমতা ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে। ওই সব দুর্বল ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গ্যারান্টি দিয়ে যেসব ব্যাংকে বাড়তি তহবিল রয়েছে তাদের মাধ্যমে নগদ অর্থ সরবরাহ করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল চার বাণিজ্যিক ব্যাংককে ৯৪৫ কোটি টাকা ধার হিসেবে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে দেশের কয়েকটি ব্যাংক। অর্থসহায়তা পাওয়া ব্যাংকগুলো হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির মানে হলো, কোনো কারণে কোনো ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই টাকা দেবে। আপাতত কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি টাকা না দিয়ে অন্য ব্যাংক থেকে ধারের ব্যবস্থা করছে। অর্থাৎ বাজারের টাকা এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে যাবে। ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি প্রভাব পড়বে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে চার ব্যাংককে ধার হিসেবে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে পাঁচটি ব্যাংক। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে দেয়া ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে সিটি ব্যাংক ২০০, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ৫০ ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৫০ কোটি টাকা দিয়েছে। সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকও ৩৫০ কোটি টাকা ধার পেয়েছে। ব্যাংকটিকে ধার দিয়েছে সিটি ব্যাংক ৩০০ কোটি ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৫০ কোটি টাকা। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে ২৫ কোটি দিয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক। ন্যাশনাল ব্যাংক পেয়েছে ২৭০ কোটি টাকার অর্থসহায়তা। ব্যাংকটিকে ধার দিয়েছে বেঙ্গল কমার্স ব্যাংক ২০ কোটি, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ৫০ কোটি ও সিটি ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭০০ কোটি টাকা ধার দিয়েছে সিটি ব্যাংক।
এর আগে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ধার দিতে সবল ১০ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও তাদের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
ব্যাংকগুলো হলো– রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, বেসরকারি খাতের ব্র্যাক, ইস্টার্ন, সিটি, শাহ্জালাল ইসলামী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, পূবালী, ঢাকা, ডাচ্-বাংলা ও ব্যাংক এশিয়া। বৈঠক শেষে জানানো হয়, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে দেওয়া ঋণের টাকা ফেরত চাইলে সবল ব্যাংকগুলোকে তিন দিনের মধ্যেই তা ফেরত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো ব্যাংক ঋণ দেয়ার জন্য কোনো টাকা নিতে পারবে না। কোন ব্যাংককে কত টাকার তারল্যসহায়তা দেয়া হবে, সেটি নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া দুই ব্যাংকের সমঝোতার ভিত্তিতে ঋণের সুদহার নির্ধারিত হবে। এসব শর্তে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ধার দিতে রাজি হয়েছে ১০ ব্যাংক।
মন্তব্য / প্রেরক
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম গতিশীল করতে ১২ দফা নির্দেশনা
-
স্টাফ রিপোর্টার, কবির হোসেন শান্ত
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের আত্মসাৎকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর। সম্প্রতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এমন নির্দেশনা দেন। সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমা বানু, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম মর্তুজা, মহাব্যবস্থাপক এ বি এম জাহিদ হোসেন, মো. আলা উদ্দিন এবং সঞ্চয় ও ঋণ বিতরণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতা রুহুল আমীন উপস্থিত ছিলেন। সভায় মহাব্যবস্থাপক মো. আলা উদ্দিন ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সভার নির্দেশনাগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম আরো গতিশীল এবং সুশৃঙ্খল করতে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বৈঠকে একগুচ্ছ কঠোর ও গুরুত্বপূর্ণ
নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক কার্যালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি
শাখার কার্যক্রমের মনিটরিং জোরদার করতে জেলা বা আঞ্চলিক কার্যালয়ের জনবল বাড়াতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য আঞ্চলিক প্রশিক্ষক ও নির্দিষ্ট মডিউল তৈরি করে দ্রুত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করার
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শৃঙ্খলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যেকোনো ধরনের অসততা ও অসদুপায় থেকে বিরত রাখতে দ্রুত নির্দেশনা প্রদান এবং সামাজিক
আমার বাড়ি আমার খামার
যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।
ঋণ মনিটরিং ও জুম মিটিং
শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ কমাতে মনিটরিং ও সুপারভিশন জোরদার করতে হবে। সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি নিয়মিত জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে শাখা পর্যায়ে প্রয়োজনীয়
দিকনির্দেশনা দিতে হবে।
আইনগত ব্যবস্থা ও পুনর্গঠন
অনাদায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাবসমূহ চিহ্নিত করে ব্যাংকের প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করে পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন, অবলোপন, মৃত্যুঝুঁকি আচ্ছাদন তহবিল ও মুনাফা মওকুফসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও মূল্যায়ন
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের প্রতিটি শাখার বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রাকে মাসভিত্তিক ভাগ করে দিতে হবে এবং মাঠ সহকারীদের মধ্যে তা বণ্টন করতে হবে। মাঠকর্মী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে তা পরবর্তী মাসের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে এবং
এক্ষেত্রে শাখা ও জেলা কার্যালয়কে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
আত্মসাৎ রোধে কঠোর পদক্ষেপ
অভ্যাসগত অর্থ আত্মসাৎকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বছরভিত্তিক আত্মসাতের তথ্য, শ্রেণিকৃত ঋণের তথ্য ও সার্টিফিকেট মামলার তথ্য পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করতে হবে। আত্মসাৎকারীদের প্রতি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে বিশেষ সার্কুলার জারি করতে হবে।
সঠিক প্রতিবেদন দাখিল
দে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঠভিত্তিক পরিদর্শন সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল বন্ধ করে বাস্তব ও সঠিক তথ্যের মাধ্যমে মাঠের প্রকৃত চিত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন
নিশ্চিত করতে হবে।
ঋণ বিতরণ ও অডিট প্রক্রিয়া
ঋণ বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে লিজেন্ড ও লোন ট্র্যাকিং সিস্টেমের সঠিক মনিটরিং এবং স্পেশালাইজড অডিট জোরদার করতে হবে। ঋণ বিতরণ, পুনর্গঠন, অবলোপন, ক্রয় প্রক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ অডিটের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা, সুশাসন ও যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।
তথ্য সুরক্ষা ও এমআইএস
প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যাদির গোপনীয়তা রক্ষা, দৈনিক খাতের তথ্য এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) সঠিক পরিচালনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমা বানু আমার দেশকে বলেন, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশনার আলোকে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্তব্য / প্রেরক
টানা ৭ দিন হিলি স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু
-
হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শ্বারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে টানা ৭ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকার পর আজ থেকে আবারও আমদানি রপ্তানি শুরু হয়েছে। আমদানি রপ্তানি শুরু হয় বন্দরে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। আসতে শুরু করেছে দূর দূরান্ত থেকে পাইকার পত্ররা।
আজ শনিবার বেলা ১২ টায় হিলি সীমান্ত দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করাই শুরু হয়েছে আমদানি রপ্তানি বানিজ্য।
হিলি আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, হিন্দু ধর্মালম্বীদের শ্বারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে হিলিস্থলবন্দর দিয়ে ১৭ অক্টোবর ( শনিবার) থেকে ২৩ অক্টোবর শুক্রবার পর্যন্ত টানা ৭ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ ছিল। আজ (শনিবার) থেকে যথারীতি নিয়ম অনুযায়ী আমদানি রপ্তানি চালু হয়েছে।
এদিকে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকলেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দু-দেশের মাঝে পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক ছিল ।
মন্তব্য / প্রেরক
অর্থনৈতিক সংস্কারে নিজস্ব পরিকল্পনা তুলে ধরছে বাংলাদেশ, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় অংশ নিতে ব্যাংককে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল
-
অনলাইন ডেস্ক:
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নিজস্ব সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরছে বাংলাদেশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভাকে কেন্দ্র করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এ সভায় অংশ নিচ্ছে। প্রতিনিধি দলে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।
নিজস্ব বাস্তবতার ভিত্তিতে সংস্কার পরিকল্পনা
অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও নীতিগত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরবে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ে নীতিগত সমন্বয়ের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
সংস্কার আলোচনায় ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য
সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরায় চালু করা, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলার বিষয়ও রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এসব পরিকল্পনার সুফল নির্ভর করবে বাস্তবায়নের অগ্রগতি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা, আর্থিক খাতের সুশাসন এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের ওপর।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা
অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করা এবং জ্বালানি ব্যয়ের চাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনীতিসংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দেশের অর্থনীতিতে সহায়ক হতে পারে। তবে ঋণ ও সংস্কারসংক্রান্ত শর্তের পাশাপাশি দেশের স্বার্থ, আর্থিক সক্ষমতা এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকামোড়২৪.কম-এর পর্যবেক্ষণ: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নয়, বরং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকক বৈঠকের আলোচনাগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা এখন দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন।
মন্তব্য / প্রেরক
ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, আর্থিক সংকট কাটাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের তাগিদ
-
ডিজিটাল ডেস্ক :
দেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং কাঠামোগত সংস্কারের জন্য আগামী পাঁচ থেকে আট বছর জাতীয় বাজেট থেকে বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
শনিবার রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। খবর জাগো নিউজের।
গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক অনিয়মের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাঁর মতে, এই অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হলে সামাজিক সহায়তা ও বড় অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।
অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
ব্যাংক খাতের আর্থিক দুর্বলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ঋণ বিতরণ, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
অন্যদিকে, ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বিপুল সরকারি অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হলে জাতীয় বাজেটের অন্যান্য খাতের ব্যয় পরিকল্পনার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, খেলাপি ঋণ আদায় এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রয়োজন জবাবদিহি ও কার্যকর সংস্কার
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শুধু সরকারি অর্থের জোগান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার। একই সঙ্গে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
সব মিলিয়ে, ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রস্তাবিত অর্থের প্রয়োজনীয়তা, অর্থায়নের উৎস এবং পুনর্গঠনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে এ উদ্যোগের সম্ভাব্য প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।
সূত্র: জাগো নিউজ, ১০ অক্টোবর ২০২৬।
মন্তব্য / প্রেরক
সাম্প্রতিক
নিউজলেটার
নিউজলেটার বিবরণ