Image
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন রেল, সৌরবিদ্যুৎ, গ্রামীণ অবকাঠামো ও নগর উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ

একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন রেল, সৌরবিদ্যুৎ, গ্রামীণ অবকাঠামো ও নগর উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ
ফটো: সংগৃহিত

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সিটি করপোরেশনের সড়ক-ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, নৌযান সংগ্রহ এবং নারীদের দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতের প্রকল্প।

বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।

অর্থায়নের চিত্র

মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে—

  • সরকারি অর্থায়ন: ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা
  • প্রকল্প ঋণ: ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা
  • বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন: ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

১৩ প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য দিক

১. গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প—৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা

‘গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়’-এর দ্বিতীয় সংশোধনে ব্যয় আরও ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সংশোধনের পর প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। পুরো অর্থ সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে।

২. সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁয় গ্রামীণ অবকাঠামো—৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা

এই নতুন প্রকল্পের আওতায় তিন জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০ পর্যন্ত।

৩. বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি লোকোমোটিভ—২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা

রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনা হবে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটি জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

৪. রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র—২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা প্রকল্প ঋণ ও অনুদান এবং ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার টাকা সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে। বাস্তবায়নকাল সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে মার্চ ২০২৯।

৫. গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন—২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন প্রায় ২ হাজার ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন প্রায় ৩৮৮ কোটি ৫ লাখ টাকা।

৬. রংপুর সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা

রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ১২১ কোটি ৯৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮০ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

৭. রংপুরের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন—২১০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা

রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পুনর্বাসনে আরও একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ১৬৮ কোটি ৩৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ৪২ কোটি ৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

৮. বিআইডব্লিউটিসির ৪৩টি জলযান ও দুটি স্লিপওয়ে

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন হয়েছে। সংশোধনের ফলে ব্যয় বেড়ে ২ হাজার ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা হয়েছে এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

৯. প্যারিসে চ্যান্সারি ভবন সংস্কার—২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকা

ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয় করা চ্যান্সারি ভবনটি ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। পুরো অর্থ সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে।

১০. পঞ্চগড়ে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু—২০৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা

পঞ্চগড়ের ভজনপুর-পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে।

১১. থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক

প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনে ব্যয় ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯২৬ কোটি ১২ লাখ ৩২ হাজার টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে জুন ২০২৮ পর্যন্ত করা হয়েছে।

১২. সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন—১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা

নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে নতুন এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

১৩. ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন ১৮ ওয়ার্ডের উন্নয়ন—৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়ন ২৩৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

উন্নয়ন ব্যয়ের বড় অংশ অবকাঠামোয়

একনেকের এবারের অনুমোদনে দেশের নগর অবকাঠামো, গ্রামীণ যোগাযোগ, রেল ও নৌপরিবহন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন—বিভিন্ন খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রংপুর, গাজীপুর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া-নওগাঁর গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও নাগরিক সেবা উন্নয়নে ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে রামপালের ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখযোগ্য। আর ৩০টি নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রকল্পটি বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: একনেক সভার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সমসাময়িক প্রতিবেদন।

মন্তব্য / প্রেরক

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম গতিশীল করতে ১২ দফা নির্দেশনা

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম গতিশীল করতে ১২ দফা নির্দেশনা
ফটো: প্রতিনিধি

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের আত্মসাৎকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর। সম্প্রতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এমন নির্দেশনা দেন। সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমা বানু, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম মর্তুজা, মহাব্যবস্থাপক এ বি এম জাহিদ হোসেন, মো. আলা উদ্দিন এবং সঞ্চয় ও ঋণ বিতরণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতা রুহুল আমীন উপস্থিত ছিলেন। সভায় মহাব্যবস্থাপক মো. আলা উদ্দিন ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সভার নির্দেশনাগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম আরো গতিশীল এবং সুশৃঙ্খল করতে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বৈঠকে একগুচ্ছ কঠোর ও গুরুত্বপূর্ণ

নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক কার্যালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি

শাখার কার্যক্রমের মনিটরিং জোরদার করতে জেলা বা আঞ্চলিক কার্যালয়ের জনবল বাড়াতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য আঞ্চলিক প্রশিক্ষক ও নির্দিষ্ট মডিউল তৈরি করে দ্রুত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করার

নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শৃঙ্খলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যেকোনো ধরনের অসততা ও অসদুপায় থেকে বিরত রাখতে দ্রুত নির্দেশনা প্রদান এবং সামাজিক

আমার বাড়ি আমার খামার

যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

ঋণ মনিটরিং ও জুম মিটিং

শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ কমাতে মনিটরিং ও সুপারভিশন জোরদার করতে হবে। সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি নিয়মিত জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে শাখা পর্যায়ে প্রয়োজনীয়

দিকনির্দেশনা দিতে হবে।

আইনগত ব্যবস্থা ও পুনর্গঠন

অনাদায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাবসমূহ চিহ্নিত করে ব্যাংকের প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করে পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন, অবলোপন, মৃত্যুঝুঁকি আচ্ছাদন তহবিল ও মুনাফা মওকুফসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও মূল্যায়ন

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের প্রতিটি শাখার বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রাকে মাসভিত্তিক ভাগ করে দিতে হবে এবং মাঠ সহকারীদের মধ্যে তা বণ্টন করতে হবে। মাঠকর্মী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে তা পরবর্তী মাসের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে এবং

এক্ষেত্রে শাখা ও জেলা কার্যালয়কে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

আত্মসাৎ রোধে কঠোর পদক্ষেপ

অভ্যাসগত অর্থ আত্মসাৎকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বছরভিত্তিক আত্মসাতের তথ্য, শ্রেণিকৃত ঋণের তথ্য ও সার্টিফিকেট মামলার তথ্য পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করতে হবে। আত্মসাৎকারীদের প্রতি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে বিশেষ সার্কুলার জারি করতে হবে।

সঠিক প্রতিবেদন দাখিল

দে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঠভিত্তিক পরিদর্শন সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল বন্ধ করে বাস্তব ও সঠিক তথ্যের মাধ্যমে মাঠের প্রকৃত চিত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন

নিশ্চিত করতে হবে।

ঋণ বিতরণ ও অডিট প্রক্রিয়া

ঋণ বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে লিজেন্ড ও লোন ট্র্যাকিং সিস্টেমের সঠিক মনিটরিং এবং স্পেশালাইজড অডিট জোরদার করতে হবে। ঋণ বিতরণ, পুনর্গঠন, অবলোপন, ক্রয় প্রক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ অডিটের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা, সুশাসন ও যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।

তথ্য সুরক্ষা ও এমআইএস

প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যাদির গোপনীয়তা রক্ষা, দৈনিক খাতের তথ্য এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) সঠিক পরিচালনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমা বানু আমার দেশকে বলেন, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশনার আলোকে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্তব্য / প্রেরক

টানা ৭ দিন হিলি স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু

টানা ৭ দিন হিলি স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু
ফটোঃ প্রতিনিধি

হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শ্বারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে টানা ৭ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকার পর আজ থেকে আবারও আমদানি রপ্তানি শুরু হয়েছে। আমদানি রপ্তানি শুরু হয় বন্দরে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। আসতে শুরু করেছে দূর দূরান্ত থেকে পাইকার পত্ররা।

আজ শনিবার বেলা ১২ টায় হিলি সীমান্ত দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করাই শুরু হয়েছে আমদানি রপ্তানি বানিজ্য।

হিলি আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, হিন্দু ধর্মালম্বীদের শ্বারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে হিলিস্থলবন্দর দিয়ে ১৭ অক্টোবর ( শনিবার) থেকে ২৩ অক্টোবর শুক্রবার পর্যন্ত টানা ৭ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ ছিল। আজ (শনিবার) থেকে যথারীতি নিয়ম অনুযায়ী আমদানি রপ্তানি চালু হয়েছে।

এদিকে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকলেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দু-দেশের মাঝে পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক ছিল ।

 

মন্তব্য / প্রেরক

অর্থনৈতিক সংস্কারে নিজস্ব পরিকল্পনা তুলে ধরছে বাংলাদেশ, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় অংশ নিতে ব্যাংককে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল

অর্থনৈতিক সংস্কারে নিজস্ব পরিকল্পনা তুলে ধরছে বাংলাদেশ, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান  আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় অংশ নিতে ব্যাংককে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল
ফটো: সংগৃহিত

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নিজস্ব সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরছে বাংলাদেশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভাকে কেন্দ্র করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এ সভায় অংশ নিচ্ছে। প্রতিনিধি দলে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।

নিজস্ব বাস্তবতার ভিত্তিতে সংস্কার পরিকল্পনা

অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও নীতিগত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরবে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ে নীতিগত সমন্বয়ের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

সংস্কার আলোচনায় ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য

সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরায় চালু করা, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলার বিষয়ও রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এসব পরিকল্পনার সুফল নির্ভর করবে বাস্তবায়নের অগ্রগতি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা, আর্থিক খাতের সুশাসন এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের ওপর।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা

অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করা এবং জ্বালানি ব্যয়ের চাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনীতিসংশ্লিষ্টরা।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দেশের অর্থনীতিতে সহায়ক হতে পারে। তবে ঋণ ও সংস্কারসংক্রান্ত শর্তের পাশাপাশি দেশের স্বার্থ, আর্থিক সক্ষমতা এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

ঢাকামোড়২৪.কম-এর পর্যবেক্ষণ: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নয়, বরং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকক বৈঠকের আলোচনাগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা এখন দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন।

মন্তব্য / প্রেরক

ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, আর্থিক সংকট কাটাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের তাগিদ

ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, আর্থিক সংকট কাটাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের তাগিদ
ফটো: সংগৃহিত

দেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং কাঠামোগত সংস্কারের জন্য আগামী পাঁচ থেকে আট বছর জাতীয় বাজেট থেকে বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

শনিবার রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। খবর জাগো নিউজের।

গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক অনিয়মের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাঁর মতে, এই অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হলে সামাজিক সহায়তা ও বড় অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।

অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

ব্যাংক খাতের আর্থিক দুর্বলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ঋণ বিতরণ, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

অন্যদিকে, ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বিপুল সরকারি অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হলে জাতীয় বাজেটের অন্যান্য খাতের ব্যয় পরিকল্পনার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, খেলাপি ঋণ আদায় এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রয়োজন জবাবদিহি ও কার্যকর সংস্কার

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শুধু সরকারি অর্থের জোগান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার। একই সঙ্গে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

সব মিলিয়ে, ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রস্তাবিত অর্থের প্রয়োজনীয়তা, অর্থায়নের উৎস এবং পুনর্গঠনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে এ উদ্যোগের সম্ভাব্য প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।

সূত্র: জাগো নিউজ, ১০ অক্টোবর ২০২৬।

মন্তব্য / প্রেরক

সাথে সংযুক্ত থাকুন

নিউজলেটার

নিউজলেটার বিবরণ

আর্কাইভ

please_select_a_date