দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে ব্যবহৃত বস্তুটি হওয়ায় ক্রমশ মূল্যবান হয়ে উঠছে স্মার্টফোনগুলো। বিশেষ করে পুনঃবিক্রয় মূল্য এবং জনপ্রিয়তার কারণে রীতিমতো সম্পদতুল্য বস্তু আইফোনগুলো। তাই ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই ফোনগুলো চুরি হওয়ার পরিমাণ। এই সমস্যার নিরসনে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের রয়েছে অত্যাধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। এই প্রতিরক্ষামূলক ফিচারগুলো চুরি করা ডিভাইস ব্যবহার বা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। ফলশ্রুতিতে, ব্যবহারকারীর ডেটাগুলোর চূড়ান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। চলুন, আইফোন চুরি প্রতিরোধে অ্যাপলের কয়েকটি কার্যকরী ফিচার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
অ্যাক্টিভেশন লক
ইন্টারনেটের মাধ্যমে অ্যাপলের তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা বা ক্লাউড সার্ভিসটি আইক্লাউড নামে পরিচিত। এখানে আইফোনকে একটি অনন্য অ্যাপল আইডির সঙ্গে লিংক করা হয়। যখন ডিভাইসে থাকা ফাইন্ড মাই আইফোন ফিচারকে সক্রিয় করা হয়, তখন তার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায় অ্যাক্টিভেশন লক। এর ফলে চুরির পর ডিভাইসটি পুরো ফর্মেট দেয়া বা রিসেট করা হলেও, আসল মালিকের অ্যাপল আইডি ও পাসওয়ার্ড ছাড়া ফোন খোলা যাবে না। সঙ্গত কারণেই কল করা বা এসএমএস পাঠানোসহ বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের মতো কাজগুলো করা সম্ভব হবে না। এতে করে বিক্রয়ের জন্য একের পর এক হাত বদল হলেও প্রান্তিক গ্রাহক পর্যায়ে ফোনটি আর বিক্রয় উপযোগী থাকে না।
ফেস ও টাচ আইডি
মুখের ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ আইফোন আনলক করার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়গুলোর শীর্ষে রয়েছে। এখান ফেস আইডি মূলত উন্নত ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যবহারকারীর জন্য একটি অনন্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করে। বিষয়টি টাচ আইডির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেখানে আঙ্গুলের ছাপও প্রতিটি মানুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাই কোনোভাবে পিন কোড বা পাসওয়ার্ড যোগাড় করা সম্ভব হলেও এই বায়োমেট্রিক তথ্যগুলোর অভাবে ফোনটি আনলক করা দুষ্কর হয়ে পড়ে।
ফাইন্ড মাই নেটওয়ার্ক
অ্যাপলের এই উদ্ভাবনী ব্যবস্থাটি হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া আইফোন খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কার্যকর। এমনকি অফলাইনে থাকলেও এই ট্র্যাকিং সিস্টেমটি চালু থাকে। অবশ্য এখানে ব্লুটুথ অন থাকার প্রয়োজন হয়। ফাইন্ড মাই নেটওয়ার্ক প্রধানত কাছাকাছি থাকা অ্যাপল ডিভাইসের ব্লুটুথ সংকেত ব্যবহার করে হারিয়ে যাওয়া আইফোনের অবস্থান চিহ্নিত করে। এই বেনামী ও এন্ক্রিপ্ট করা সংকেতগুলো চোরের অলক্ষ্যেই ফোনের অবস্থানটি আসল মালিককে জানিয়ে দিতে পারে।
দূর থেকে ডেটা মুছে ফেলা
এখানে আগে থেকে আইফোনে ফাইন্ড মাই আইফোন অ্যাপটি চালু বা আইক্লাউডের সঙ্গে ফোনকে লিংক করে রাখতে হয়। এতে করে পরবর্তীতে চুরি হলে ব্যবহারকারীরা দূর থেকেই ডিভাইসে থাকা যাবতীয় সংবেদনশীল তথ্য মুছে ফেলতে পারে। ফলে কোনোভাবে ফোনের নিরাপত্তা বূহ্য ভাঙা সম্ভব হলেও ফোনের আসল মালিকের গোপনীয়তাগুলো প্রকাশিত হয় না। ফোনের ডেটা নিয়মতি আইক্লাউডে ব্যাকআপ রাখা হলে, ডিভাইস পুনরুদ্ধারের পর সেই মুছে ফেলা তথ্যগুলোও ফিরে পাওয়া যেতে পারে।
টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (টুএফএ)
পিন কোড বা পাসওয়ার্ডের ওপর নিরাপত্তার অতিরিক্ত স্তর যোগ করে এই টুএফএ সিস্টেম। এই পদ্ধতিতে অ্যাপল আইডিতে সফলভাবে সাইন ইন করার জন্য ডিভাইসে নিবন্ধিত ফোন নম্বরে একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হয়। ফলে অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড জেনে যাওয়ার পরেও যাচাইকরণ কোড ছাড়া অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা সম্ভব হয় না। এই পদ্ধতিটি আইক্লাউড ও আইটিউন্সসহ অন্যান্য অ্যাপল পরিষেবাগুলোকে অননুমোদিত লগইন থেকে বিরত রাখে।
সিকিউর ইন্ক্লেভ
বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি তথ্যচুরির মতো সাইবার অপরাধগুলোতেও ব্যবহৃত হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। ফলে প্রায় ক্ষেত্রে পেশাদার হ্যাকারদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারকারীরা। এই পেশাদার চৌর্যবৃত্তি থেকে সাধারণ আইফোন ব্যবহারকারীকে নিরাপত্তা দিতেই ডিজাইন করা হয়েছে সিকিউর ইন্ক্লেভের। এটি অনেকটা ব্যক্তিগত লকারের মতো কাজ করে, যেখানে সংরক্ষিত থাকে ফেস আইডি, টাচ আইডি এবং অ্যাপল পে-এর মতো বায়োমেট্রিক তথ্যাদি। প্রত্যেকটি গোপনীয় তথ্য এখানে এমনভাবে এন্ক্রিপ্ট করা থাকে যে আপাত অবস্থায় এগুলোকে কোনো পাসকোড বলে মনে হয় না। ফলে হ্যাকিংয়ের জন্য এগুলো খুঁজে বের করাটাই যথেষ্ট কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। অবশ্য এই প্রচেষ্টাটি একেবারে ব্যর্থ হয় না; তবে তাতে অনেক বেশি সময় লাগে। আর এই সময়টি অ্যাপলের ট্র্যাকিং সিস্টেম কাজে লাগিয়ে ফোনের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য যথেষ্ট।
পরিশিষ্ট
আইফোন চুরি প্রতিরোধে এই নিরাপত্তা ফিচারগুলো সামগ্রিকভাবে ডিভাইসের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলে। অ্যাক্টিভেশন লক, টুএফএ, এবং ফেস ও টাচ আইডি আইফোনকে অননুমোদিত অ্যাক্সেস থেকে রক্ষা করে। অপরদিকে ফাইন্ড মাই নেটওয়ার্ক ও রিমোট ডেটা ইরেজ ফোন চুরির পরেও ডেটা পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। এগুলোর মধ্যে প্রায় সবগুলো ফিচারই আইফোন এক্স ও এর পরবর্তী মডেলগুলোতে পাওয়া যায়। তবে টাচ আইডি আইফোন ৬ থেকে ৮ এবং আইফোন এসই-এর ২য় প্রজন্ম ও তার পরবর্তী মডেলগুলোতে রয়েছে। উপরন্তু, সিকিউর এন্ক্লেভ ফিচারটি রয়েছে আইফোন ৫এসসহ তার পরবর্তী ভার্সনগুলোতে।
মন্তব্য / প্রেরক
আজকের রাশিফল (২২ জুন, ২০২৬) অনুযায়ী ১২টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য দিনটি কেমন যেতে পারে, তার একটি সাধারণ পূর্বাভাস নিচে দেওয়া হলো:
-
ইন্টারনেট:
মেষ রাশি (Aries)
-
দিনটি কেমন: আজ কর্মক্ষেত্রে আপনার কাজের প্রশংসা পাবেন। আর্থিক দিক থেকে দিনটি শুভ, তবে আবেগের বশে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
-
পরামর্শ: পরিবারের বড়দের পরামর্শ মেনে চলুন।
বৃষ রাশি (Taurus)
-
দিনটি কেমন: ব্যবসায়ীরা নতুন অংশীদারিত্বের সুযোগ পেতে পারেন। শেয়ার বাজারে বা কোনো সম্পত্তিতে বিনিয়োগের জন্য দিনটি ইতিবাচক।
-
পরামর্শ: কাজের ব্যস্ততার মাঝেও স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখুন।
মিথুন রাশি (Gemini)
-
দিনটি কেমন: আজ কর্মস্থলে নতুন কোনো দায়িত্ব পেতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং আটকে থাকা কোনো কাজ সম্পন্ন হতে পারে।
-
পরামর্শ: স্পষ্ট কথা বলার সময় একটু সতর্ক থাকুন, যেন কেউ কষ্ট না পায়।
কর্কট রাশি (Cancer)
-
দিনটি কেমন: আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আজকের দিনটি খুব একটা ভালো নয়, তাই ঋণ দেওয়া বা নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। পারিবারিক পরিবেশ শান্ত থাকবে।
-
পরামর্শ: অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে চলতে ধ্যান বা যোগব্যায়াম করতে পারেন।
সিংহ রাশি (Leo)
-
দিনটি কেমন: প্রেমের ক্ষেত্রে আজকের দিনটি খুবই রোমান্টিক কাটতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার ভালো সময়। কর্মক্ষেত্রে আপনার নেতৃত্ব গুণের বিকাশ ঘটবে।
-
পরামর্শ: অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস যেন অহংকারে রূপ না নেয়।
কন্যা রাশি (Virgo)
-
দিনটি কেমন: জমি বা বাড়ি কেনাবেচার জন্য দিনটি অনুকূল। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন। দাম্পত্য জীবনে মধুরতা বজায় থাকবে।
-
পরামর্শ: আইনি কোনো বিষয়ে তাড়াহুড়ো করবেন না।
তুলা রাশি (Libra)
-
দিনটি কেমন: আজ ছোটখাটো ভ্রমণের যোগ রয়েছে যা আপনাকে মানসিক প্রফুল্লতা দেবে। ভাইবোনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। নতুন কোনো কাজের আইডিয়া মাথায় আসতে পারে।
-
পরামর্শ: নিজের অলসতাকে আজ প্রশ্রয় দেবেন না।
বৃশ্চিক রাশি (Scorpio)
-
দিনটি কেমন: ব্যাংক ব্যালেন্স বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতে করা কোনো বিনিয়োগ থেকে ভালো রিটার্ন আসতে পারে। সুস্বাদু খাবারের যোগ রয়েছে।
-
পরামর্শ: কথাবার্তায় সংযম রাখুন, নাহলে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে।
ধনু রাশি (Sagittarius)
-
দিনটি কেমন: আজকের দিনটি আপনার জন্য বেশ ইতিবাচক। আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকবে, যার ফলে কঠিন কাজও সহজে সমাধান করতে পারবেন। নতুন পোশাক বা গ্যাজেট কেনার সম্ভাবনা আছে।
-
পরামর্শ: ভাগ্যের ওপর ভরসা না করে নিজের পরিশ্রমে বিশ্বাস রাখুন।
মকর রাশি (Capricorn)
-
দিনটি কেমন: আজ খরচের মাত্রা একটু বাড়তে পারে, তাই বাজেট বজায় রাখুন। দূর কোনো দেশে যোগাযোগের বা ভ্রমণের সুযোগ আসতে পারে।
-
পরামর্শ: অযথা কোনো বিবাদে জড়াবেন না, নিজের কাজে মনোযোগ দিন।
কুম্ভ রাশি (Aquarius)
-
দিনটি কেমন: আয়ের নতুন উৎস তৈরি হতে পারে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা বা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির আলোচনা হতে পারে।
-
পরামর্শ: বড় ভাই বা বন্ধুদের সাথে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ এড়িয়ে চলুন।
মীন রাশি (Pisces)
-
দিনটি কেমন: কর্মজীবনে বড় কোনো পরিবর্তন বা নতুন চাকরির সুযোগ আসতে পারে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য দিনটি বিশেষ শুভ। সমাজে আপনার সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
-
পরামর্শ: ক্যারিয়ারের বিষয়ে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অভিজ্ঞ কারও সাথে পরামর্শ করে নিন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: রাশিফল হলো গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে একটি সাধারণ পূর্বাভাস। আপনার বাস্তব জীবনের পরিস্থিতি আপনার কর্ম ও সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।
মন্তব্য / প্রেরক
বুধবার দিনাজপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২দিনব্যাপী দিনাজপুর সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ- ২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন- ফেস্টুন ও ফিতা কেটে (৪৭ তম বিজ্ঞান মেলা, দশম বিজ্ঞান বিষয়ক অলিম্পিয়াড ও কুইজ প্রতিযোগিতার )এর উদ্বোধন করেন দিনাজপুর সদর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। এসময় তিনি বলেন, আমরা বিজ্ঞান মেলা দেখি, কিন্তু বিজ্ঞানকে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করি না। অথচ এই মেলাগুলোর ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও উৎসাহ দিলে তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের জন্য বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক এগিয়ে গেছে। তারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্ভাবন করছে। এই প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পরিচর্যা ও দিকনির্দেশনা দিতে পারলে দেশ উন্নয়নের পথে আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে বিকশিত করতে হবে। বিজ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভেতরে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনাকে খুঁজে বের করে তা বিকাশে সহায়তা করাই একজন শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব। অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং তাদের কাজের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বড় পরিসরে করার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এড. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস. এম.হাবিবুল হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তমালিকা পাল। উক্ত মেলায় দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ উদ্যোগ স্টলে অংশ নেয়। মেলা উদ্বোধন শেষে অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন স্টল(৩২টি) ঘুরে দেখেন এবং স্টলের ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মোঃ বোরহান উদ্দিন, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহমেদ, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ, সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার রায়। এছাড়াও শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় ও উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নির্মল কুমার রায়।
মন্তব্য / প্রেরক
ইতিহাসের রেকর্ড ভাঙলেন ৪ নভোচারী: পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে আর্টেমিস-২
-
ডিজিটাল ডেস্ক: | ৭ এপ্রিল, ২০২৬
টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র: মানুষ এখন মহাকাশে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গতকাল ৬ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে আর্টেমিস-২ মিশনের ৪ জন নভোচারী পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রম করে মানব ইতিহাসের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তারা এখন পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০৬,৭৭১ কিলোমিটার (২৫২,৭৫৬ মাইল) দূরে অবস্থান করছেন।
রেকর্ড ভাঙা সেই মুহূর্ত
১৯৭০ সালে 'অ্যাপোলো-১৩' মিশন পৃথিবী থেকে ৪ লক্ষ ১৭১ কিলোমিটার দূরে গিয়ে যে রেকর্ড গড়েছিল, আর্টেমিস-২ নভোচারীরা তা ভেঙে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসে 'সবচেয়ে দূরে ভ্রমণকারী মানব' হিসেবে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন।
নভোচারীরা এখন কোথায়?
১ এপ্রিল কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উড্ডয়নের পর আজ মিশনের সপ্তম দিনে নভোচারীরা চাঁদের 'ফার সাইড' বা অন্ধকার অংশে অবস্থান করছেন। তাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কিছু বিশেষ তথ্য:
-
চাঁদের কাছাকাছি: তারা চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৬,৪৪০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে উড়ে গিয়েছেন।
-
সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ: চাঁদের পেছনে থাকাকালীন তারা একটি বিরল 'সৌরগ্রহণ' প্রত্যক্ষ করেছেন, যা পৃথিবী থেকে দেখা সম্ভব ছিল না।
-
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সময়: চাঁদের পেছনে থাকা অবস্থায় তারা প্রায় ৪০ মিনিট পৃথিবীর সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন (Loss of Signal) ছিলেন, যা একটি পূর্বপরিকল্পিত রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ছিল।
নভোচারীদের প্রতিক্রিয়া
কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন মিশন কন্ট্রোলকে রেডিও বার্তায় জানান,
"খালি চোখে চাঁদের এমন দৃশ্য দেখা সত্যি অকল্পনীয়। আমরা কেবল রেকর্ড গড়ার জন্য আসিনি, আমরা এসেছি আগামীর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে।"
পরবর্তী ধাপ: ফিরে আসা
চাঁদকে প্রদক্ষিণ শেষ করে এখন তাদের মহাকাশযান 'ওরিয়ন' (Orion) পৃথিবীর দিকে ফিরতে শুরু করেছে। নাসা (NASA) জানিয়েছে, আগামী ১০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে নভোচারীরা প্রশান্ত মহাসাগরে ল্যান্ড করবেন। দ্রুতগতির এই প্রত্যাবর্তনের সময় মহাকাশযানটিকে প্রায় ২৫,০০০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ এবং তীব্র তাপ সহ্য করতে হবে।
মিশনের ৪ নভোচারী: ১. রিড ওয়াইজম্যান (কমান্ডার) ২. ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট) ৩. ক্রিস্টিনা কচ (মিশন স্পেশালিস্ট) ৪. জেরেমি হ্যানসেন (মিশন স্পেশালিস্ট)
এই মিশনের সফল সমাপ্তি আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে মানুষের চাঁদে নামার (আর্টেমিস-৩) পথ আরও সুগম করবে।
মন্তব্য / প্রেরক
বিরামপুরের টেক যোদ্ধা ‘মোঃ শাকের সজিব’ঃ এক যুগান্তকারী সফটওয়্যার ডেভেলপার ও তরুণদের আশার আলো।
-
মোঃ রফিকু ইসলাম সরকার
প্রচলিত পথে না হেঁটে যিনি নিজেই নিজের পথ তৈরি করেছেন, তিনি হলেন মোঃ শাকের সজিব। দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলা থেকে উঠে আসা এই ২৭ বছর বয়সী তরুণ এখন একজন সফল সফটওয়্যার ডেভেলপার, ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় তরুণদের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।
২০১৮ সালে, যখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট বা ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানত না কেউই, তখন সজিব একাই হাতে নেন এই প্রযুক্তির যাত্রা। কোন প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই তিনি ইউটিউব, স্ট্যাক ওভারফ্লো এবং বিভিন্ন অনলাইন ফোরাম থেকে নিজে নিজেই শিখতে শুরু করেন।
তার বাবা, মোঃ সাইফুল ইসলাম, একজন স্থানীয় চাল ব্যবসায়ী। পরিবারের সীমিত আর্থিক সামর্থ্য এবং এলাকার সীমাবদ্ধ সুযোগ-সুবিধা কখনো তাকে থামাতে পারেনি।
দক্ষতা ও সেবা
বর্তমানে সজিব এর দক্ষতা রয়েছে C#, C++, Java, Python, PHP ও JavaScript প্রোগ্রামিং ভাষায়। তিনি কাজ করছেন আধুনিক ফ্রেমওয়ার্ক ও টুলস যেমনঃ Android SDK, .NET, Laravel, React ও Qt C++।
এই প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তিনি তৈরি করছেনঃ
- ডেস্কটপ সফটওয়্যার (C#, C++, .NET)
- অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন (Java, Android SDK)
- ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন (Laravel, PHP, React, JavaScript)
- অটোমেশন বট ও ডিজিটাল মার্কেটিং টুল (Python, JavaScript)
- বিজনেস প্রমোশন ও ব্র্যান্ডিং সেবা
বৈশ্বিক মানের ফ্রিল্যান্সিং
২০১৯ সালে Fiverr ও Upwork-এ যাত্রা শুরু করে আজ তিনি একাধিক ৫-তারকা রেটিং পাওয়া সফল ফ্রিল্যান্সার। বর্তমানে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করছেন এবং প্রতি মাসে তার আয় ১ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল সহায়তা
সজিব শুধু আন্তর্জাতিক কাজেই সীমাবদ্ধ নন। তিনি বিরামপুর ও আশে পাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এর জন্য তৈরি করছেন কাস্টম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার—যা ডেক্সটপ, ওয়েব ও অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে চলে। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের হিসাব-নিকাশ, কাস্টমার ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাক্ট ট্র্যাকিং আরও দক্ষতার সাথে করতে পারছেন।
উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন অধ্যায়ঃ শ্রুতি মটোরস
২০২৪ সালে তিনি নিজের নতুন উদ্যোগ শ্রুতি মটোরস নামে একটি অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের দোকান চালু করেন। এটির মাধ্যমে তিনি স্থানীয়ভাবে গাড়ির যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে নতুন একটি ব্যবসার সুযোগ তৈরি করেছেন।
সমাজসেবা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন
সফল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সজিব সামাজিক দিকটিও গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তিনি এখন নিজের উপজেলা থেকে কয়েকজন তরুণকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখাচ্ছেন এবং তৈরি করছেন নতুন ফ্রিল্যান্সার, যারা নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারবে।
“আমি চাই আমাদের উপজেলায় বেকার শব্দটি যেন বিলুপ্ত হয়ে যায়। প্রতিটি তরুণ যেন নিজেকে একজন দক্ষ প্রযুক্তিবিদ বা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, প্রযুক্তিই পারে আমাদের এলাকাকে আত্মনির্ভর করে তুলতে।”
বার্তাঃ
সজিব আমাদের দেখিয়েছেন, কোনো কিছু না থাকলেও আত্মবিশ্বাস আর চেষ্টা থাকলে সাফল্য সম্ভব। একজন তরুণ কিভাবে নিজের উপজেলা থেকেই আন্তর্জাতিক মানের কাজ করে, সমাজে অবদান রাখতে পারে—তার প্রকৃত উদাহরণ তিনি।
মন্তব্য / প্রেরক
সাম্প্রতিক
নিউজলেটার
নিউজলেটার বিবরণ