ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুমকি দিয়েছিলেন, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় তাহলে বৈরুত এবং দক্ষিণ লেবাননকে আরেক গাজায় পরিণত করা হবে। কিন্তু হিজবুল্লাহ নয়, নেতানিয়াহু নিজেই যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন অঞ্চলটিতে। বিগত ১৮ বছরের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে জড়াল ইসরায়েল।
দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহকে সরিয়ে দিয়ে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের ৬০ হাজার বাসিন্দাকে তাদের নিজ বাড়িতে ফেরত আনার জন্য ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করেছে। এ বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা আমাদের অস্তিত্বের জন্য লড়াই করছি। আমরা একত্র হয়ে আমাদের শত্রুদের পরাজিত করব।’
কিন্তু লেবাননের গভীরে ব্যাপক অভিযান চালানো ছাড়া ইসরায়েল কীভাবে এই লক্ষ্য অর্জন করবে তা নিশ্চিত নয়। যদিও ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংসের দাবি করেছে, কিন্তু বিশ্লেষকদের আশঙ্কা সামগ্রিকভাবে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর কাছ থেকে ২০০৬ সালের চেয়েও বড় ধাক্কা খাবে। সেবার ইসরায়েল মাঝপথে যুদ্ধ বন্ধ করে লেবানন থেকে সেনা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের আঞ্চলিক নিরাপত্তার পরিচালক এমিল হোকায়েম বলেছেন, ‘এই যুদ্ধ ২০০৬ সালের তুলনায় আরও গভীর, কঠিন এবং দীর্ঘতর হতে চলেছে। এটিতে খুবই ভয়াবহ হতে চলেছে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’
ইসরায়েল হিজবুল্লাহর সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছে এবং তাদের বেশ কয়েকজন সেনা হতাহত হয়েছে। এই বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, ইসরায়েলি সেনাদের জন্য এই লড়াই অনেক কঠিন হবে। এ ছাড়া এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্য একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুও করে দিতে পারে। কারণ, এরই মধ্যে হিজবুল্লাহর সবচেয়ে বড় মিত্র ইরান গত মঙ্গলবার ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো এই যুদ্ধের চূড়ান্ত আঞ্চলিক উদ্দেশ্য প্রকাশ করেনি। লেবাননে উদ্বেগ আছে যে, এই আক্রমণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি দখলদারত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এই বিষয়টি নির্ভর করছে, ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করতে লেবাননের কতটা গভীরে যেতে চায় এবং যেতে পারবে তার ওপর।
ব্রিটিশ ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি এমআই-৬ এর সাবেক প্রধান স্যার জন সয়ার্স বলেন, ‘কেবল আকাশ পথে হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করা কঠিন। কারণ, (ইসরায়েলের) উত্তরে বেকা উপত্যকায় হিজবুল্লাহর ব্যাপক অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র আছে। যার জন্য ইসরায়েল পদাতিক সেনাদের অনেক গভীরে প্রবেশ করতে হবে।’
চলমান যুদ্ধের সঙ্গে ২০০৬ সালের ৩৪ দিনের যুদ্ধের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য আছে। সে সময় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে অভিযান চালিয়ে দুই ইসরায়েলি সৈন্যকে বন্দী করে। পরে ইসরায়েল লেবানন ত্যাগ করে চলে যায়। তবে এবারের যুদ্ধ শুরুর আগে, ইসরায়েল প্রায় এক বছর ধরে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে বেশ কয়েকটি শক্ত ধাক্কা দিয়েছে। ইসরায়েল হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করে দিয়েছে, গোষ্ঠীটির প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যা করেছে। গোষ্ঠীটির যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ইসরায়েল প্রায় ১ হাজার লেবানিজকে হত্যা করেছে।
কিন্তু নিজ মাটিতে হিজবুল্লাহকে সামনাসামনি মোকাবিলা করা অন্য বিষয়। এই বিষয়টি ইসরায়েলের আকাশ যুদ্ধের অর্জনকে ম্লান করে দিতে পারে। এ বিষয়ে এমিল হোকায়েম বলেন, ‘হিজবুল্লাহ সম্ভবত ইসরায়েলকে তাদের নিজ মাটিতে ডেকে আনতে চায়। কারণ, সেখানে তাদের গুণগত সুবিধা, উন্নত প্রস্তুতি, নমনীয় কাঠামো এবং ভূ-কৌশলগত জ্ঞান আছে। তবে দক্ষিণে এখনো হিজবুল্লাহর জয়ের সক্ষমতা ও কমান্ড বজায় আছে কি না, সেটাই প্রশ্ন।’
ইসরায়েল ১৯৮২ সালে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর টানা ১৮ বছর সেখানে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সহায়তায়। কিন্তু হিজবুল্লাহর ক্রমাগত আক্রমণের মুখে এক চোরাবালিতে আটকে যায় ইসরায়েল। পরে ২০০০ সালে তারা সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে।
এরপর থেকেই হিজবুল্লাহই এই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এরপর ২০০৬ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে আবারও যুদ্ধে জড়ায় তারা। ইসরায়েলি থিংক-ট্যাংক বেগিন-সাত সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের একজন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আদো হেখটের মতে, তারপর থেকেই অঞ্চলটিতে হিজবুল্লাহ কৌশলগত প্রতিরক্ষা কাঠামো দাঁড় করিয়েছে। নিজস্ব রণকৌশল ঠিক করেছে। হিজবুল্লাহর তিনটি আঞ্চলিক কমান্ড আছে। যার একেকটির সক্ষমতা একটি পূর্ণাঙ্গ পদাতিক ডিভিশনের সমান। এই তিনটি কমান্ডই স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম।
দক্ষিণ লেবানন মূলত একাধিক গিরিখাত, খাঁড়া চূড়া বিশিষ্ট একটি এলাকা। যেখানে সামরিক চলাচল খুবই কঠিন। আর যেসব পথে সহজে চলাচল করা সম্ভব সেগুলোতে হিজবুল্লাহ ব্যাপকভাবে মাইন পেতে রেখেছে। একই সঙ্গে পাহাড়ের তলদেশে টানেলের বিশাল নেটওয়ার্কও তৈরি করেছে।
আদো হেখট বলেন, ‘ইসরায়েলি হামলা এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর কৌশলগত আর্টিলারি ও উচ্চতর কমান্ড অধিদপ্তরের কিছু সদস্যকে হত্যা করতে পেরেছে, দক্ষিণ কমান্ডেরও ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তবে তাদের সামগ্রিক আকারের তুলনায় এই সংখ্যা খুবই নগণ্য।’
তবে হিজবুল্লাহকে মোকাবিলার জন্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনীও (আইডিএফ) দীর্ঘ সময় পেয়েছে। ২০০৬ সালের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা হিজবুল্লাহর কমান্ড কাঠামো এবং এর সামরিক সম্পদের একটি বিশদ গোয়েন্দা চিত্র তৈরি করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গাজায় দীর্ঘ এক বছর ধরে যুদ্ধ করে ইসরায়েলি সেনারা ক্লান্ত। গাজায় আইডিএফ হামাসকে ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, গাজার মতো ছোট এলাকায় হিজবুল্লাহর চেয়ে আকারে অনেক ছোট হামাসকেই যখন ইসরায়েল হারাতে পারেনি। তখন তার চেয়ে কঠিন ভূমি বৈচিত্র্যের এলাকায় হামাসের চেয়ে কয়েকগুণ শক্তিশালী হিজবুল্লাহকে তারা কীভাবে হারাবে তাই দেখার বিষয়।
আইডিএফ বলেছে, তারা হিজবুল্লাহ অবকাঠামো—যেমন টানেল, অস্ত্র এবং গোলাবারুদ ধ্বংস করার জন্য সীমান্তের কাছাকাছি লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইসরায়েল লেবাননের বাসিন্দাদের সীমান্তের কাছাকাছি প্রায় ৩০টি খালি করে আওয়ালি নদীর ওপারে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। যা সীমান্ত থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে।
বিশ্লেষকদের অনুমান, ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য সম্ভবত লেবাননের এমন সব গ্রাম দখল করা যেখান থেকে সম্ভাব্যভাবে ইসরায়েলে হামলা চালানো হতো। কিন্তু এমনটা করা হবে খুবই একটি স্বল্পমেয়াদি সমাধান। সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক জন রেইন বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রকাশ্য লক্ষ্য হলো নিরাপত্তার একটি কর্ডন স্থাপন করা এবং সেখানে একটি বাফার জোন স্থাপন করা। কিন্তু কীভাবে ইসরায়েল এই অঞ্চলটিকে পুনরুদ্ধার করা থেকে বিরত রাখবে? ২০০৬ সালেও তো এমনটাই হয়েছিল।’
জন রেইন বলেন, ‘বিকল্প হিসেবে আইডিএফ তাদের গোয়েন্দা ঘাঁটিকে সহায়তা দেওয়ার জন্য সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে একগাদা দুর্গ গড়তে পারে ইসরায়েল। তবে এটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। মার্কিন জোট আফগানিস্তানে এমন দুর্গের পরিণতি ভালোভাবেই দেখেছে।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, একটি বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই যে, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারবে না এমন নয়। তারপরও হিজবুল্লাহ তাদের কাছে থাকা মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে অনায়াসে আঘাত হানতে পারবে।
এমনকি হিজবুল্লাহ যদি লিতানি নদীর এপারেও চলে আসে তারপরও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলকে টার্গেট করতে সক্ষম হবে বিশেষ করে হিজবুল্লাহর গ্র্যাড-১২২ মিলিমিটার রকেট তখনো ইসরায়েল পর্যন্ত পৌঁছাবে। এর বাইরে হিজবুল্লাহর কাছে ৪০ কিলোমিটার পাল্লার রকেটের বিপুল মজুত আছে। গোষ্ঠীটির কাছে দূর পাল্লার ফজর রকেট, বিভিন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন আছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমই জানাচ্ছে, গত মঙ্গলবার হিজবুল্লাহর ‘ফাদি-৪’ ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবে আঘাত হেনেছে যাতে দুজন আহত হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা প্রায়শই বলেন, তারা ২০০৬ সালের যুদ্ধের সময় দেশটির ব্যর্থতা একাধিক মূল্যবান পাঠ শিখেছে। কিন্তু অন্যান্য দেশের সামরিক বাহিনীও এই সংঘাত নিয়ে গবেষণা করেছে। যার মধ্যে একজন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এক নির্ভুল উপসংহারে পৌঁছেছেন। তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দিকটি আগের মতোই প্রাসঙ্গিক।
মার্কিন সেই গোয়েন্দা কর্মকর্তা ২০০৬ সালের সংঘাত শেষ হওয়ার পরপরই লিখেছিলেন, ব্যাপক বিধ্বংসী এয়ার পাওয়ার—সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল দেখিয়েছে—কোনো অমৃত নয় বরং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলে সামরিক শক্তি শেষ পর্যন্ত এ ধরনের প্রতিপক্ষকে নত মস্তক হতে বাধ্য করতে পারে।
মন্তব্য / প্রেরক
সর্বশেষ
রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার দাবি। সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্কবার্তা
-
আন্তার্জাতিক ডেস্ক : সম্পাদনা: মেf: রফিকুল ইসলাম সরকার
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।
হুথিদের দাবি অনুযায়ী, হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। একইসঙ্গে সৌদি আরবের রাবিঘ এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনা, দক্ষিণাঞ্চলের আবহা বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইত এলাকার সামরিক স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
বিমান চলাচলে বিঘ্নের দাবি
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, রিয়াদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলার ফলে বিমান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। সোমবার রাতে রিয়াদের আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন এএফপির সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিভিন্ন উন্মুক্ত উৎসের তথ্যেও কয়েকটি ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তন বা বিলম্বের কথা উঠে এসেছে। তবে বিমানবন্দরে হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বা পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম বন্ধের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
সৌদি আকাশসীমা নিয়ে হুথিদের সতর্কবার্তা
হামলার আগে হুথিরা সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকেও সতর্ক করে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বলা হয়, মক্কা ও মদিনার পবিত্র আকাশসীমা বাদে সৌদি আরবের বাকি আকাশসীমাকে তারা সম্ভাব্য হামলার আওতায় বিবেচনা করছে। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সৌদির কঠোর প্রতিক্রিয়া
হুথিদের হামলার দাবির পর সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানায়। সরকারি বিবৃতিতে রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব এলাকায় সৌদি নৌযান লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে সৌদি সরকার দেশের ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব, সম্পদ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সৌদি সরকারের এই অবস্থানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘাতও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে তীব্র হয়েছে। ৫ অক্টোবর সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়। এর পরই সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি সামনে আসে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা
রিয়াদে হামলার দাবি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। সৌদি আরবের পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘও ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রিয়াদ মিশন ৫ অক্টোবর সৌদি আরবে সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি নিয়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি: হুথিরা রিয়াদ বিমানবন্দরসহ একাধিক সৌদি স্থাপনায় হামলার দাবি করলেও বিমানবন্দরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে রিয়াদের আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা এবং সম্ভাব্য বিমান চলাচল বিঘ্নের তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসেছে। ফলে সৌদি-ইয়েমেন সংঘাতের নতুন এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
মন্তব্য / প্রেরক
সর্বশেষ
জাতিসংঘ ‘অকার্যকর সংস্থা’, এর কর্মকর্তারা ‘অহংকারী পরজীবী’: আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট
-
আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তীব্র ভাষায় জাতিসংঘের সমালোচনা করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। তিনি জাতিসংঘকে একটি ‘অকার্যকর সংস্থা’ এবং এর কর্মকর্তাদের ‘অহংকারী পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ভাষণে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলা দেশগুলো কোনো ন্যায্যতা বা পুরস্কার পাচ্ছে না, অন্যদিকে যারা নিয়ম ভঙ্গ করছে তাদেরও কোনো জবাবদিহিতা বা শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিশ্বসংস্থাটি সম্মিলিত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষা করার ক্ষেত্রে তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর পরিবর্তে সেখানে বিশৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনার কাছে যা ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত) নিয়ে যুক্তরাজ্যের সাথে দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখেনি এবং চোখ বন্ধ করে রয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাভিয়ের মিলেই। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান যে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দিকে তাকিয়ে বসে না থেকে আর্জেন্টিনা নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় নিজেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মন্তব্য / প্রেরক
সর্বশেষ
দিনটি ছিল অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। বুলডোজার দিয়ে মাটি সরানোর কাজ করছিলেন এক খনি শ্রমিক। হঠাৎ মাটির নিচে চোখে পড়ে চকচকে একটি বস্তু। প্রথম দেখায় পাথর মনে হলেও কাছে যেতেই বোঝা যায়—এটি কোনো সাধারণ পাথর নয়, বিশাল এক প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড!
ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের রুবি শহরের কাছে সুইফট ক্রিক এলাকায়। খনি শ্রমিক ব্যারি ক্লে মাটি কাটার সময় আবিষ্কার করেন প্রায় ৯ দশমিক ১৪ কেজি ওজনের বিশাল ওই সোনার পিণ্ড। পরবর্তী সময়ে এটি পরিচিতি পায় ‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’ নামে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পিণ্ডটির ওজন ছিল ২৯৪ দশমিক ১০ ট্রয় আউন্স—অর্থাৎ ২০ পাউন্ডের কিছু বেশি। আকারে এটি প্রায় একটি শিশুর মাথার সমান। আবিষ্কারের পর এটি আলাস্কায় পাওয়া সবচেয়ে বড় অক্ষত প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড হিসেবে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
নামকরণে রয়েছে ইতিহাস
আলাস্কার বিখ্যাত ক্লনডাইক সোনার সন্ধানের শতবর্ষ পূর্তিকে স্মরণ করে পিণ্ডটির নাম দেওয়া হয় ‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’। বিশাল আকৃতি, প্রাকৃতিক অবস্থার অক্ষুণ্নতা এবং বিরলতার কারণে এটি দ্রুতই খনি ও সোনার ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেয়।
তৎকালীন হিসাবে, পশ্চিম গোলার্ধে আবিষ্কৃত প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ডগুলোর মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম। এর চেয়ে বড় ‘বুট অব কর্টেজ’ নামের একটি সোনার পিণ্ড ১৯৮৯ সালে মেক্সিকোতে পাওয়া যায়, যার ওজন ছিল প্রায় ২৪ পাউন্ড।
দীর্ঘদিন ব্যক্তিগত মালিকানায়
অবিশ্বাস্য এই আবিষ্কারের পরপরই ব্যারি ক্লে পিণ্ডটি বিক্রি করে দেননি। দুই দশকেরও বেশি সময় এটি ব্যক্তিগত মালিকানায় ছিল।
পরে ২০২১ সালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ক্লের কাছ থেকে পিণ্ডটি সংগ্রহ করেন এক বিক্রেতা। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অবস্থিত হেরিটেজ নিলাম প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এটি নিলামে তোলা হয়।
অনলাইন নিলামে এক সংগ্রাহক ৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে ‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’ কিনে নেন।
শুধু সোনার দামেই নয়, বিরলতাতেও মূল্যবান
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় আকারের এবং তুলনামূলকভাবে অক্ষত অবস্থায় থাকা প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড অত্যন্ত বিরল। ফলে এর মূল্য কেবল এতে থাকা সোনার বাজারদর দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বিরলতার কারণেও সংগ্রাহকদের কাছে এর বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে।
হেরিটেজ নিলামের পক্ষ থেকেও নিলামের আগে জানানো হয়েছিল, ‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’ আলাস্কায় আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় সোনার পিণ্ড।
একজন খনি শ্রমিকের সাধারণ কর্মদিবসে বুলডোজারের নিচে হঠাৎ পাওয়া সেই চকচকে বস্তুটি শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে আলাস্কার খনি ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত আবিষ্কার। মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা সেই সোনার পিণ্ড শুধু ব্যারি ক্লের ভাগ্যই বদলায়নি, বরং স্বর্ণ অনুসন্ধানের ইতিহাসে যোগ করেছে এক বিস্ময়কর অধ্যায়।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্য / প্রেরক
সর্বশেষ
সুইডেনের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে বামঘেঁষা জোট, ফিরতে পারেন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন ১৭৬ আসন পেয়েছে চারদলীয় বিরোধী জোট, ক্রিস্টারসনের জোটের আসন ১৭৩; পদত্যাগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
-
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সম্পাদনায় : মোঃ রফিকুল ইসলাম সরকার, সম্পাদক, ঢাকামোড়২৪.কম
সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে গেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন মধ্য-বামপন্থী বিরোধী জোট। চূড়ান্ত ভোট গণনা শেষে চারদলীয় বিরোধী জোট ৩৪৯ আসনের রিক্সড্যাগে পেয়েছে ১৭৬টি আসন। বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন ডানঘেঁষা জোট পেয়েছে ১৭৩টি আসন।
ফলাফল প্রকাশের পরই প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা জানান।
অল্প ব্যবধানে পাল্টে গেল ক্ষমতার সমীকরণ
সুইডেনের ২০২৬ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দুই শিবিরের মধ্যে ব্যবধান অত্যন্ত কম। ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন জোট।
সুইডিশ নির্বাচন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোট পেয়েছে ১৭৬ আসন এবং ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন সরকারপন্থী চার দলের জোট পেয়েছে ১৭৩ আসন। বিদেশ থেকে আসা ভোটসহ বাকি ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর এই ব্যবধান নিশ্চিত হয়।
তবে আসনসংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও নতুন সরকার গঠন অ্যান্ডারসনের জন্য সরল হবে না। তাঁর সম্ভাব্য মিত্র দলগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ও রাজনৈতিক পার্থক্য রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি আসন সোশাল ডেমোক্র্যাটদের
নির্বাচনে একক দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের সোশাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। দলটি পেয়েছে ৯৯টি আসন। তবে আগের পার্লামেন্টের তুলনায় দলটির আসন কমেছে আটটি।
অ্যান্ডারসন ২০২১ সালে সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর তিনি ক্ষমতা হারান। এবারের নির্বাচনী ফল তাঁকে আবারও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ফেরার সুযোগ তৈরি করেছে।
ফলাফল ঘোষণার পর অ্যান্ডারসন বলেন, সুইডিশ জনগণ দেশের জন্য নতুন দিক বেছে নিয়েছে এবং বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের পক্ষে ভোট দিয়েছে।
সরকার গঠনেই বড় পরীক্ষা অ্যান্ডারসনের
অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে সোশাল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন পার্টি, লেফট পার্টি ও সেন্টার পার্টি। চার দলের রাজনৈতিক অবস্থান এক নয়। বিশেষ করে সেন্টার পার্টি ও লেফট পার্টির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে।
সেন্টার পার্টি জানিয়েছে, তারা এমন কোনো সরকারে যোগ দিতে চায় না যেখানে লেফট পার্টিও সরাসরি অংশীদার থাকবে। ফলে অ্যান্ডারসনকে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সমঝোতার কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে।
রাজনৈতিকভাবে একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে—লেফট পার্টিকে মন্ত্রিসভার বাইরে রেখে পার্লামেন্টে তাদের সমর্থন নিশ্চিত করা। তবে এই সমীকরণ চূড়ান্ত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
ক্রিস্টারসনের জোটে বড় ধাক্কা
উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২২ সাল থেকে তিনদলীয় মধ্য-ডান জোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় ছিল। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে তাদের বাইরে থেকে সুইডেন ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
এবার সেই সমীকরণেও পরিবর্তন এসেছে। সুইডেন ডেমোক্র্যাটরা ৬২টি আসন পেয়েছে—আগের তুলনায় ১১টি কম। দলটি এবার ক্রিস্টারসনের সম্ভাব্য নতুন সরকারে মন্ত্রিসভায় সরাসরি অংশ নেওয়ার প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু নির্বাচনী ফল সেই পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলেছে।
এখন কী হবে?
সুইডেনের সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় পার্লামেন্টের স্পিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। স্পিকার প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থী মনোনয়ন করবেন এবং রিক্সড্যাগে সেই প্রার্থীর বিষয়ে ভোট হবে।
অ্যান্ডারসন এখন সরকার গঠনের জন্য সম্ভাব্য মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করতে পারেন, অথবা কিছু দলের সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার পরিচালনার চেষ্টা করতে পারেন।
তবে কোনো প্রার্থীকে চারবার প্রত্যাখ্যান করা হলে সুইডেনের নিয়ম অনুযায়ী নতুন নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
অভিবাসন ও অপরাধনীতি নিয়ে পরিবর্তনের সম্ভাবনা
নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অভিবাসন ও অপরাধনীতি। ক্রিস্টারসনের সরকার গত চার বছরে অভিবাসন ও অপরাধ দমনে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এসব নীতির কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তনের কথা বলেছে এবং কল্যাণব্যবস্থা, পরিবেশ ও সামাজিক বৈষম্যের বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
তবে সুইডেনের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির বেশ কিছু বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে বিস্তর ঐকমত্য রয়েছে। ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং ন্যাটোর সদস্যপদ তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সুইডেন ২০২৪ সালে ন্যাটোর ৩২তম সদস্য হয়।
ইউরোপীয় রাজনীতিতেও নজর সুইডেনের দিকে
সুইডেনের নির্বাচনের ফল ইউরোপীয় রাজনীতিতেও বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ডানপন্থী ও অভিবাসনবিরোধী দলগুলোর প্রভাব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। সুইডেনে এবার সেই প্রবণতার বিপরীতে মধ্য-বামপন্থী জোট অল্প ব্যবধানে এগিয়ে এসেছে।
তবে মাত্র তিন আসনের ব্যবধানে পাওয়া এই ফলকে সরাসরি একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের চূড়ান্ত চিত্র হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। নতুন সরকার কীভাবে গঠিত হবে এবং কোন দলগুলো মন্ত্রিসভায় থাকবে—তার ওপরই আগামী দিনের রাজনৈতিক দিক অনেকটা নির্ভর করবে।
আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন স্টকহোমে
চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর সুইডেনে শুরু হয়েছে সরকার গঠনের আলোচনা। ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরতে পারবেন কি না, তা এখন নির্ভর করছে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের অভ্যন্তরীণ সমঝোতা এবং পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করার ওপর।
অন্যদিকে ক্রিস্টারসনের পদত্যাগের পর তাঁর জোটও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা করবে। ফলে নির্বাচনে ১৭৬–১৭৩ আসনের ফলাফল প্রকাশ হলেও সুইডেনের পরবর্তী সরকার কেমন হবে, তার চূড়ান্ত উত্তর এখনো বাকি।
তথ্য : ইন্টারনেট
মন্তব্য / প্রেরক
সর্বশেষ
সাম্প্রতিক
নিউজলেটার
নিউজলেটার বিবরণ