Image
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

মফস্বল সাংবাদিকের সকাল-দুপুর-রাত

মফস্বল সাংবাদিকের সকাল-দুপুর-রাত
কমরেড স্বপন (সাংবাদিক)

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এটাকে কেউ কেউ আবার নেশা হিসেবে মানতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সাংবাদিকতা পেশা এমনিতেই চ্যালেঞ্জের, তার উপর মফস্বল সাংবাদিকতা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় সাংবাদিকতায়। "মফস্বলের প্রত্যেকটা সাংবাদিক পরিচিত। সবাই সবাইকে চেনে। বেশ কিছু অঞ্চল আছে যেখানে সাংবাদিকতা বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঝুঁকি তৈরি হয় নানা দিক থেকে। এর মধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল অন্যতম। চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী, সরকারি প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদরা বিভিন্ন সময় মফস্বল সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠে। পাশাপাশি মফস্বলে একজন সাংবাদিক তার পেশাগত কারণে যখন কোন প্রতিকূলতার মাঝে পড়ে তখন তার নিয়োগকারী সংবাদমাধ্যম তাকে সহায়তার জন্য কতটা এগিয়ে আসে সেটি নিয়েও প্রশ্ন আছে। কিছু বড় পত্রিকা আছে যারা সাংবাদিকরা সমস্যায় পড়লে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ দেখে। মামলায় পড়লে কর্তৃপক্ষ সেটা দেখে এবং সহযোগিতা করে। কিন্তু অধিকাংশ পত্রিকা কোন সহযোগিতা করেনা। জেলা পর্যায়ে যেসব সাংবাদিকরা কাজ করছেন, তাদের অনেকেরই প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে কোন নিয়োগপত্র নেই । অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম জেলা প্রতিনিধিদের কোনও মাসিক বেতন দেয় না। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগপত্র এবং মাসিক বেতনের নিশ্চয়তা না থাকলেও খবর পাঠানোর চাপ ঠিকই থাকছে মফস্বল সাংবাদিকদের উপর। ফলে খবরের পেছনে যখন সাংবাদিক ছুটছেন তখন অনেক সময় নিজের নিরাপত্তার দিকে নজর দেবার সুযোগ থাকে না তাদের। পরিস্থিতি মোকাবেলার কোন প্রশিক্ষণও নেই তাদের। সাংবাদিকরা জাতির জাগ্রত বিবেক বলে কথা। তাই সব সময় জাগ্রত থাকতে হয়। দেশ ও দশের পাহারাদারের দায়িত্বে। সঠিক তথ্য দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে গিয়ে অনেক সময় নিজের পরিবারের কথাও ভাবা হয় না। সংসারের টানাপোড়নের মুখেও প্রতিদিন হাসিমুখে সংবাদ সংগ্রহে বেরিয়ে পড়ে মাঠে। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, দুর্যোগের মধ্যেও করে দায়িত্ব পালন। গভীর থেকে সত্য বের করে আনতে কখনো নিজের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কাকে পেছনে ফেলে কাজ করে যায় । ভুলে যায় খাওয়া-দাওয়া। মফস্বল সাংবাদিকরা সবসময়ই ক্ষুধার্ত-নিপীড়িত মানুষের কথা বলে । অন্যায়, অবিচার, অপরাধের কথা তুলে ধরে। আবার সরকারের উন্নয়নের কথাও তুলে ধরে। সব পেশার মানুষদের প্রতি বৈষম্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিকেরা৷ কিন্তু সেই সাংবাদিকেরা যখন নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন, তাদের দাবি আদায়ের রাস্তা খুবই সংকীর্ণ। মফস্বলের সাংবাদিকরা মান সম্মানের প্রশ্নে মুখ ফুটে কারও কাছে বলতেও পারছেন না, আবার চলতেও পারছেন না। মফস্বল সাংবাদিকদের সংসার কিভাবে চলছে? এর উত্তরে কী বলবো? নুন আন্তে পান্তা ফুরায়! নিজের জীবনের অভাব, অনটন, সুখ, দুঃখ, ব্যর্থতা, না বলা যন্ত্রণা মনের গভীরেই চাপা পড়ে থাকে। তা কেউ কোনো দিন জানতে পারেন না। সাংবাদিকতায় জীবন উৎসর্গ করে পড়ন্তবেলায় দুঃসহ জীবন পাড়ি দিতে বাধ্য হন অনেকে। অর্থ সঙ্কটে স্ত্রী ও সন্তানদের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে অপারগ হয়ে ওঠেন। এমনকি বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু বরণ করতে বাধ্য হন। তুচ্ছ তাচ্ছিল্য তির্যক ভাষায় মফস্বলের সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা নিয়ে নানা মন্তব্য। অথচ মফস্বল মানেই সারা বাংলাদেশ। মফস্বলের সাংবাদিকদের খবরে ৮ পৃষ্ঠা, ১২ পৃষ্ঠা, ১৬ পৃষ্ঠা ও ২০ পৃষ্ঠার পত্রিকার পাতা ভরে। পত্রিকাটি পরিপূর্ণ হতে মফস্বলের খবর ছাড়া হবে না। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থাকতে হয় সংবাদের খোঁজে। কখন বাড়ি ফিরবে তাও জানে না। সারাদিন খবরের পেছন পেছন ছুটে। নানান উৎকণ্ঠায় থাকে সাংবাদিকদের পরিবার। কী না কী হয়। মাঝে মাঝে জীবননাশের হুমকিও আসে। হামলাও হয়, মামলাও হয়। বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ডিটেনশনের অপপ্রয়োগ ছাড়াও সাংবাদিকদের ঘায়েল করতে চাঁদাবাজি ও নতুন কালাকানুনের খড়গ ঝুলিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রাখা হচ্ছে। অপ্রিয় সত্য লেখার কারণে অনেক সময় বন্ধুও শত্রু হয়ে যান। আর সমাজবিরোধী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রোষানলে পড়ে নির্ভীক সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা তো অতীতকাল থেকেই চলে আসছে। শত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও নিপীড়িত ও নির্যাতিত, অসহায় মানুষের সংবাদ সাংবাদিকেরা নির্ভীকচিত্তে গণমাধ্যমে তুলে ধরেন। আর কোনো পেশায় এত ঝুঁকি, হয়রানি ও নির্যাতনের নজির আছে কি না, জানা নেই। শুধু সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা, শত নির্যাতনের মধ্যেও এক ধরনের তৃপ্তি আর প্রশান্তি ভুক্তভোগী সাংবাদিককে আরো উৎসাহিত ও উজ্জীবিত করে তোলে। যার পাঠানো সংবাদ প্রায়ই ঝড় তোলে এবং এতে অনেকেই আশান্বিত হয়ে ওঠেন, কিন্তু জীবনের পড়ন্তবেলায়ও নিজেদের খবর চাপা পড়ে থাকে। তারা নিজে দগ্ধ হয়ে সমাজের কল্যাণে অবিরাম আলো জ্বালিয়ে যান। অথচ তার নিজের জীবনের আলো নিভে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। সব চাকরিতেই পদোন্নতি আছে, কিন্তু মফস্বল সাংবাদিকদের না আছে পদোন্নতি, না আছে সুযোগ-সুবিধা। আছে শুধু পদে পদে বাধা আর ঝুঁকির হাতছানি।
বর্তমানে গণমাধ্যমের অনেক অগ্রগতি হয়েছে সত্য, তবে হয়নি মফস্বল সাংবাদিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন। সাংবাদিকতা হচ্ছে আপসহীন ও দুঃসাহসিক একটি মহান দায়িত্ব। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে জীবন দিতে হয়েছে; অনেকে আক্রান্ত হয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যা রহস্য আজো অন্ধকারে তলিয়ে আছে। বরং হত্যাকারীদের কার্যত দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও আইন সহায়তা কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, ১২ বছরে এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন ৩০ সাংবাদিক। এর মধ্যে মফস্বল সাংবাদিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচার হওয়ার নজির খুব কমই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাংবাদিক হত্যার বিচার ঝুলে যাচ্ছে দীর্ঘসূত্রতায়। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও হত্যার ঘটনা বাড়ছে।
আত্মবিশ্বাস, দেশপ্রেম, পাঠকদের প্রতি দায়বদ্ধতা, সততা ও একনিষ্ঠতা ব্যতীত সাংবাদিক এবং সংবাদপত্রের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে না। সাংবাদিকদের ‘জাতির বিবেক’ বলা হয়ে থাকে। তাই জাতির কল্যাণে সাংবাদিক বিশেষত অবহেলিত মফস্বল সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত পরিবেশ সৃষ্টি এবং হয়রানি বন্ধসহ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি। এ বাস্তবতা উপলব্ধি করে তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সদিচ্ছার পরিচয় দিতে হবে।

মন্তব্য / প্রেরক

কুমিল্লা দক্ষিণের আলোকিত মুখ মোঃ ইসহাক মৃধা

কুমিল্লা দক্ষিণের আলোকিত মুখ মোঃ ইসহাক মৃধা
ফটো: প্রতিনিধি


বাংলাদেশের জনগণ বর্তমানে নানানমুখি সংকটের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি করা হচ্ছে সংকটের উত্তরণের নানা উপায় এবং কৌশল। এমন এক সাক্ষাৎকার কুমিল্লার," দক্ষিণ লাকসাম মনোহরগঞ্জ বাসিন্দা মোঃ ইসহাক মৃধা নামক এক তরুণ সমাজসেবক এর সন্ধান বের করে। ইসহাক মৃধা বর্তমানে সর্বত্র ঢাকা ও কুমিলার কল্যাণমুখী কর্মকান্ডের জোয়ার বাইছে। মাটি ও মানুষের সাথে মিশে গিয়ে দক্ষিণ কুমিল্লার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দুস্থ, অসহায় মানুষের অকৃত্রিম ভালবাসায় বন্ধু ও স্বজন শিষ্টাচারের উজ্জ্বলতম আদবের একজন ব্যক্তি হিসেবে স্বয়ংক্রিয় কর্মস্থলেও তিনি সফলতা প্রমাণ দিয়েছেন।

ইসহাক মৃধা বর্তমানে বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

তিনি এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ স্কুল, কলেজ প্রতিষ্ঠায় এক অনন্য ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়াও ঢাকা শহরের বিভিন্ন এতিম, দুস্থ, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের কাছে সহযোগিতার বাড়িয়ে দেন তিনি সবসময়। গরিব এতিম ও অসহায় মানুষের সাথে সুখে দুঃখে সব সময় তিনি পাশে থাকেন বলে এলাকার গরিব দুঃখীর কাছে তিনি একজন দানবীর হিসেবে পরিচিত।
দেশবাসী সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইসহাক মৃধা এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

মন্তব্য / প্রেরক

বিরামপুর ৭নং পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য আবেদন।

বিরামপুর ৭নং পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য আবেদন।
মোস্তাফিজুর রহমান ফিজুল, সাবেক চেয়ারম্যান

মোস্তাফিজুর রহমান ফিজুল চেয়ারম্যান

তারিখ: ১৫/০৩/২০২৬
বরাবর
মাননীয় সংসদ সদস্য
দিনাজপুর–৬
বিষয়: বিরামপুর ৭নং পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য আবেদন।
মাননীয় মহোদয়,
সবিনয় নিবেদন এই যে, দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার ৭নং পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছে। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং চিকিৎসা সেবার অভাবের কারণে এলাকার মানুষ অনেক কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছে।
৭নং পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের প্রধান সমস্যা সমূহ:
1️ অনেক গ্রামের রাস্তা এখনো কাঁচা বা ভাঙা, বর্ষাকালে মানুষের চলাচল খুব কষ্টকর হয়।
2️ অনেক এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির সময় পানি জমে যায় এবং জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
3️ কিছু এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব রয়েছে, অনেক টিউবওয়েলে পানি পাওয়া যায় না।
4️ ইউনিয়নে ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই, অসুস্থ রোগীদের দূরে হাসপাতালে যেতে হয়।
5️ বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা, অনেক যুবক কাজের অভাবে অন্য জায়গায় যেতে বাধ্য হয়।
6️ কিছু এলাকায় মাদক সমস্যা দেখা যায়, যা যুব সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
7️ কৃষকদের জন্য সেচ, সার ও কৃষি সহায়তা সবসময় সহজে পাওয়া যায় না।
8️ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন ও অবকাঠামো দুর্বল, শিক্ষার মান উন্নয়ন প্রয়োজন।
9️ বাজার ও ব্যবসার সুযোগ কম, ফলে স্থানীয় অর্থনীতি খুব বেশি উন্নত নয়।
এই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করলে পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের মানুষের জীবনযাত্রা অনেক উন্নত হবে।
অতএব, মাননীয় মহোদয়ের নিকট আমাদের বিনীত আবেদন এই যে, উপরোক্ত সমস্যাগুলো বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ উপকৃত হবে।
বিনীত নিবেদক
বিরামপুর ৭নং পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নবাসীর পক্ষে
মোস্তাফিজুর রহমান ফিজুল (বি.এ)
সাবেক ৭ নং পলিপ্রয়াগপুর ইউপি চেয়ারম্যান
বিরামপুর, দিনাজপুর।
 
-মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নহে।।

মন্তব্য / প্রেরক

মানিক মিয়া এভিনিউয়ে শহিদ ওসমান হাদীর জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম

মানিক মিয়া এভিনিউয়ে শহিদ ওসমান হাদীর জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম
শহিদ ওসমান হাদীর জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে আজ অনুষ্ঠিত হলো জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ ওসমান হাদীর জানাজা। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষ অংশ নেন। জানাজাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা পরিণত হয় শোক ও শ্রদ্ধার মহাসমুদ্রে।
ওসমান হাদী ছিলেন জুলাই আন্দোলনের একজন সাহসী সংগঠক ও মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। রাজনৈতিক সচেতনতা, স্পষ্ট বক্তব্য এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের কারণে অল্প সময়েই তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
গত ১২ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদী। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা গত ১৮ ডিসেম্বর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবরে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আজ জানাজা শেষে শহিদ ওসমান হাদীর মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর কবরের পাশে দাফন করা হয়। দাফন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আন্দোলনের সহযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনেকে বলেন, শহিদ ওসমান হাদীর আত্মত্যাগ ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে। তার মৃত্যুতে দেশ একজন সাহসী কণ্ঠ ও প্রতিবাদী নেতাকে হারাল—এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার না।

মন্তব্য / প্রেরক

আমার ৭১’র দিনগুলি

আমার ৭১’র দিনগুলি
ফটো : সংগৃহিত

সেদিন ছিল ১৯৭১ সালের মার্চ এর প্রথম সপ্তাহ। আমি তখন ছয় ক্লাস পেরিয়েছি। আমার কিশোর মনে নানা কৌতুহল, কখনও ভয় কখনও যুদ্ধ বিষয়ে জানার আগ্রহ কাজ করছিল।  
বড়দের দেখে বুঝতে পারছিলাম, চারদিকে আতঙ্কের ঘনঘটা ! সবার মনে কি হবে... কি হবে এক উত্তরহীন প্রশ্ন সর্বদাই উঁকি মারছে! স্বাধীনতা আসবে তো? আমি আমার চৌহদ্দির মধ্যে ঘুরে ঘুরে এই বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করছি।  
বাবা একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছেন। সে সময় আমাদের পরিবার বিরামপুরে একটি ব্যবসায়ী (ধান-চাল) পরিবার ছিল। পরিবার বড় ছিল, বিধায় বাবা আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। ফলে, আমাদের নিয়ে বাবা ভারতে আশ্রয় নিলেন।  
মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে ছিলাম বলেই আমাদের বাড়িটি  পাক-হানাদারদের টার্গেট ছিল। তারা আমাদের বাড়িটি পুড়িয়ে দিল। 
ভারতে যাবার পর নানা করুণ কাহিনী দেখতে হযেছে। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভারতে যাবার পথে বাবা গরুর গাড়ীতে ১২বস্তা চাউল নিজ গোডাউন থেকে নেন। পথে দেখলাম, হাজার হাজার নারী-পুরুষ, ছেলে-মেয়ে পায়ে হেঁটে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সীমান্তের ওপারে  যাচ্ছে । এখানে না বললেই নয়, পথিমধ্যেই  ১০ বস্তা চাউল কে বা কাহারা নিয়ে গেল। বাবাও দিয়ে দিলেন। আমাদের বললেন ওদেরও তো খেতে হবে। বাকি ২ বস্তা চাউল, কিছু কাপড় চোপড়সহ গোটগাছ গ্রামে আমার নানার বাড়িতে গিয়ে উঠলাম। দু’দিন পর আবারও রওনা দিলাম নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। প্রথমেই পরিবারের সদস্য সহ পায়ে হেঁটে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের কুমার গ্রামে উপস্থিত হলাম। মাইলের পর মাইল হেঁটে প্রায় সবার পা ফুলে এক  কঠিন অবস্থা! কী আর করা। মাস কয়েক কুমার গ্রামে থেকে আমরা আবারও যাত্রা শুরু করলাম আরও ভেতরে ঠাকুরপুরা পেরিয়ে ত্রিমোহনীতে । হিলি-বালুরঘাট রাস্তার পাশে এক কাকা বাবুর বাসা ভাড়া নিয়ে বাবা শুরু করলেন জীবনের আরেক অধ্যায়।  শুরু করলেন ধানের ব্যবসা। কবে শেষ হবে যুদ্ধ, কবে স্বাধীন দেশ পাবো, সেই চিন্তায় সবাই নিমগ্ন।

বাবা ত্রিমোহনীতে ধান কিনে ইসলাম পুরে পাঠাতেন ট্রাক ভরে। মাঝে মাঝে আমি, দুলাভাই ও বড় ভাই সবাই সাথে ট্রাকে করে ইসলামপুরে যেতাম। ইতোমধ্যে যুদ্ধের ঘনঘটা তীব্রতর হয়েছে।  এদিকে, এলাকার অনেকের সাথেই দেখা সাক্ষাৎ হওযা শুরু হলো । একেক  জনের একেক সমস্যা! বাপ-চাচাসহ অনেকেই স্বাধীনতার পক্ষে স্বক্রিয় ছিলেন। বাবা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। এখানে বলা প্রয়োজন, ত্রিমোহিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব প্রয়াত বিমল বাবু, শ্যাম সুন্দর গোস্বামী, তৈলাক্ত কবিরাজ প্রমুখ এদেশ থেকে পাড়ি দেয়া শরণার্থীদের তাদের উদাত্ত সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এবিষয়টি কোন দিনই ভুলবার নয়।  ভারতীয় বাহিনীর কর্মকর্তারা আমার বাবা বাবা নিয়ামত আলী মন্ডল,  মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ চাচা, মফিজ ম্যানেজার চাচা, নটু শেখ চাচা, রিয়াজ চাচা, আতাউর চাচা, এ্যাডভোকেট মাওলা বক্শ, এ কে এম শাহজাহান ও গোলজার নানাসহ অনেককেই ডেকে নিয়ে প্রায় সময় তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতেন।  এপার বাংলার বিভিন্ন তথ্য নিতেন যা খান-সেনাদের অবস্থানের স্থানগুলো চিহ্নিত করার জন্য ও যদ্ধের কৌশলের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। এভাবে দিন যায়, মাস যায়--লোকজন আজ ওখানে... তো কাল সেখানে। গোলাগুলি চলছে। রেডিওতে এলান আসে ওমুক জায়গায় এত জন খান সেনা নিহত-আহত, এত জন ধরা পড়ল ইত্যাদি।

ভারত যাবার আগের একটি

মন্তব্য / প্রেরক

সাথে সংযুক্ত থাকুন

নিউজলেটার

নিউজলেটার বিবরণ

আর্কাইভ

please_select_a_date