Image
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

গাড়িচাপায় বুয়েট শিক্ষার্থী নিহত : মামলা নিতে অনীহার অভিযোগ

গাড়িচাপায় বুয়েট শিক্ষার্থী নিহত : মামলা নিতে অনীহার অভিযোগ

রাজধানীর পূর্বাচলে গাড়ি চাপায় বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা নিতে অসহযোগিতার অভিযোগ করেছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবীর বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ও গণমাধ্যমে ‘হতকাণ্ড’কে দুর্ঘটনা বলে প্রচার করে মামলার মোড় ঘোরানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এমন অভিযোগ করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত বিচারের দাবিতে বিকেল সাড়ে চারটায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর ৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেবেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০ ডিসেম্বর রাতে বুয়েটে একটা প্রোগ্রাম চলাকালীন আমরা কয়েকজন শিক্ষার্থী একত্রে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলাম। এমতাবস্থায় আনুমানিক রাত তিনটার পর আমরা পূর্বাচল নীলা মার্কেটের সামনে ৩০০ ফিট রাস্তায় আমাদের তিন বন্ধু, বুয়েট সিএসই (২০২১) ব্যাচের ছাত্র মোহতাসিম মাসুদ (নজরুল হল), অমিত সাহা (আহসানুল্লাহ হল) এবং মেহেদি হাসান খাঁনের (নজরুল হল) একটি দুর্ঘটনার খবর জানতে পারি। একজন পথচারীর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, আমাদের তিন বন্ধু গুরুতর আহত এবং একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।


ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীরা মাসুদ, অমিত এবং মেহেদির শরীর অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় উল্লেখ করে বলেন, তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে থাকা ফায়ার ব্রিগেডের সাহায্যে আমরা তাদের তিনজনকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুদকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা শুনে এবং ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে আমরা যা জানতে পারি, তা হলো—অমিত, মাসুদ এবং মেহেদিকে পূর্বাচল ৩০০ ফিট নীলা মার্কেট মোড়ের ওপরের টার্নিংয়ে ডিউটিরত পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য দাঁড় করায়। এ সময় পেছন থেকে একটি প্রাইভেট কার বেপরোয়া গতিতে এসে স্থির দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল-সহ তিনজনকে আঘাত করে। এর ফলে তারা তিনজন সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ছিটকে পড়ে।

 

প্রাইভেট কারটি মুবিন আল মামুন (সাদমান) চালাচ্ছিলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন মিরাজুল করিম ও আসিফ চৌধুরী। চালকের পরিচয় দিয়ে তারা বলেন, চালক সাদমান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মামুনের সন্তান। শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে চালকের বাবাকেও সেখানে উপস্থিত দেখতে পায়। পরবর্তী সময়ে তাদের প্রাইভেট কার পর্যবেক্ষণ করে আমরা অ্যালকোহল এবং মদজাতীয় নেশাদ্রব্যের উপস্থিতি পাই।

মামলা নিতে অনীহা প্রকাশের অভিযোগ

রূপগঞ্জ থানায় দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) মামলা নিতে অনীহা প্রকাশের অভিযোগ করে তারা বলেন, ঘটনার পরে পুলিশ প্রাইভেট কারের চালকসহ তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রথমে রূপগঞ্জ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় এবং পরবর্তী সময়ে তাদের রূপগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। এসময় শিক্ষার্থীরাও তাদের সঙ্গে থানায় পৌঁছায়। থানায় ঘটনার বিবরণ জানার পরে কর্তব্যরত এসআই মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করতে থাকেন।

এ সময় আমরা আমাদের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং আনুমানিক সকাল আটটায় আরও একদল শিক্ষার্থী বুয়েটের কতিপয় শিক্ষক, চিফ সিকিউরিটি অফিসার এবং হেড গার্ডসহ থানায় উপস্থিত হন। তখন থানায় কোনো ওসি উপস্থিত ছিলেন না এবং তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বিলম্ব করতে থাকেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর ওসি থানায় উপস্থিত হন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

অভিযুক্তদের মামলার ঘটনাপ্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগ

অভিযুক্তদের পরিবার মামলার ঘটনাপ্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন অভিযোগ করে বুয়েট শিক্ষার্থীরা বলেন, এ সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং চালকের পরিবারের লোকজন বিভিন্নভাবে মামলার ঘটনাপ্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তের মা নানাভাবে শিক্ষার্থীদের মামলা থেকে দূরে থাকতে ক্ষতিপূরণ প্রদানের কথা জানান। এক পর্যায়ে তার সন্তান মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলো শুনে তিনি বলেন, তার সন্তান ড্রাঙ্ক হলেও ওরা এত রাতে ওখানে কী করছিল! এরকম অনভিপ্রেত মন্তব্য এবং প্রভাব খাটানোর চেষ্টায় বুয়েটের আপামর শিক্ষার্থী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়।

শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে মামলার ড্রাফট লেখার কাজ শুরু হয় জানিয়ে তারা বলেন, সড়ক আইন ২০১৮, ১৯৮ এবং ১০৫ ধারায় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নিহত মাসুদের মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়। একই সময়ে কতিপয় শিক্ষার্থীসহ অভিযুক্তদের ডোপ টেস্টের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) পাঠানো হয়। রূপগঞ্জ থানা-পুলিশ গাড়িচালকসহ গ্রেপ্তার এই তিনজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠান। বিচারক আগামী রোববার (২২ ডিসেম্বর) রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আমরা আশা করছি রোববার শুনানির মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চলতে থাকবে।

‘হত্যাকাণ্ড’ প্রমাণিত দাবি

সব ঘটনার সারমর্ম টেনে বুয়েট শিক্ষার্থীরা এটিকে প্রমাণিত ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে বলেন, এটি সুস্পষ্ট যে এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। বরং চালক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে আমাদের একজন সহপাঠীকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং দুজনকে গুরুতর আহত করে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। ইতোমধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, অভিযুক্তদের আইনজীবী গণমাধ্যমে বিভিন্ন রকমের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। একইসঙ্গে কিছু সংবাদমাধ্যমেও এই হত্যাকাণ্ডকে দুর্ঘটনা বলে অপপ্রচারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই এবং দ্রুততম সময়ে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।

সংবাদ মাধ্যম ও আইনজীবীর প্রতি অভিযোগ

সংবাদ মাধ্যমে ও আইনজীবীর প্রতি অভিযোগ করে বুয়েট শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা আগেও দেখেছি প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যরা কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকলে বা সিভিয়ার অফেন্সে যুক্ত থাকলেও পরবর্তী সময়ে প্রভাব খাটিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া থেকে তাদের নিস্তার লাভের দৃষ্টান্ত। আমরা এ ক্ষেত্রেও সেই ধরনের কাহিনি ঘটবে বলে আশংকা করছি। শুরু থেকেই মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে টালবাহানা এবং হত্যাকারীর পরিবারের বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য নিউজমিডিয়ায় দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা আমাদের শংকিত করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই নতুন স্বাধীন বাংলাদেশে এই খুনের ন্যায়বিচার অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হবে, আমরা মাসুদ, অমিত, মেহেদির সহপাঠীরা তাদের সুবিচার প্রাপ্তির ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পাঁচ দফা দাবি

তারা পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে বলেন, আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, সড়কের নিরাপত্তা আইন জোরদার করুন, দেশের বিচারব্যবস্থাকে একটি গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করুন। আর কোনো প্রাণ যেন এভাবে সড়কে কোনো মাতাল, নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির হাতে না ঝড়ে, আর কোনো পরিবার যেনো নিজেদের সন্তানকে না হারান, কোনো মায়ের কোল যেন আর খালি না হয় এই ব্যাপারে দৃষ্টি প্রদানের দায়িত্ব সাধারণ জনগণের পাশাপাশি সরকারেরও। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। অপরাধী যে পরিবারেরই সদস্য হোক না কেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন, এই ব্যাপারটি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হোক।

তাদের দাবিগুলো হলো

১. যেকোনো মূল্যে এই হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণ।

২. আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার অবশ্যই বিবাদীপক্ষকে বহন করতে হবে।

৩. নিহত মাসুদের পরিবারকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে বিবাদীপক্ষকে বাধ্য করতে হবে।

৪. তদন্ত কার্যক্রমে বাধাপ্রদানের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. সড়ক দুর্ঘটনার কারণে আর কারো প্রাণ যেন না যায় এবং সড়কে নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত হয়, সেই ব্যাপারে যথোপযুক্ত ভূমিকা রাখতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

মন্তব্য / প্রেরক

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ, বন্ধ শত শত কারখানা; উৎপাদন ব্যাহত, বাড়ছে শ্রমিক-মালিক অসন্তোষ

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ, বন্ধ শত শত কারখানা; উৎপাদন ব্যাহত, বাড়ছে শ্রমিক-মালিক অসন্তোষ
প্রতীকী ছবি — পোশাক শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ।

মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কালোতালিকা বা হোয়াইট লিস্টের নামে হয়রানি বন্ধের দাবিতে নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। কয়েক দিন ধরে ঢাকা, মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। এতে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে পরিবার পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি ও কালোতালিকাভুক্ত করার মতো পদক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

শিল্পাঞ্চলে অচলাবস্থা, বন্ধ শত শত কারখানা

শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে রাজধানীর মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকেরা।

শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ৩১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। একই সময়ে প্রায় ৭ লাখ শ্রমিক কর্মস্থল ছেড়ে চলে যান বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরবর্তী দিনগুলোতেও বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে কারখানা বন্ধ ও সাধারণ ছুটি ঘোষণার ঘটনা ঘটেছে। ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরেই কয়েক শ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড

আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, সাভার ও আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কোথাও কোথাও কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এসব ঘটনায় শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি স্থানে ভাঙচুর, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন এলাকায় মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। ৩ নভেম্বর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গাজীপুর ও মিরপুরে অন্তত ৮২ জনকে আটক বা গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়।

শ্রমিক নেতাদের আটক ও হয়রানির অভিযোগ

আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক নেতাদের আটক এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শ্রমিকদের একাংশের অভিযোগ, ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করলেই তাঁদের চাকরিচ্যুত করা, মামলায় জড়ানো কিংবা ভবিষ্যতে অন্য কারখানায় চাকরি পেতে বাধা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।

বিশেষ করে শ্রমিকদের কালোতালিকাভুক্ত করা কিংবা হোয়াইট লিস্টের নামে হয়রানির অভিযোগ তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। আন্দোলনকারীরা এসব ব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও চাকরির নিশ্চয়তা দাবি করছেন।

তবে আন্দোলনে সহিংসতা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা জরুরি হয়ে পড়েছে।

নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, ডিসেম্বর থেকে নতুন কাঠামোর উদ্যোগ

শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সরকার ছয় সদস্যের একটি নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ২ নভেম্বর সরকার ও পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয়ে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিকদের দাবি ও মালিকপক্ষের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৪ নভেম্বর মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠকে ডিসেম্বর থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়ে সম্মতি হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। নতুন কাঠামোয় কত টাকা মজুরি নির্ধারণ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তবে শ্রমিকদের আশঙ্কা, তাঁদের প্রত্যাশিত ৩০ হাজার টাকার পরিবর্তে সামান্য মজুরি বৃদ্ধি করা হতে পারে। এ কারণে বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও আলোচনার অগ্রগতির দিকে নজর রাখছেন তাঁরা।

মালিকপক্ষের উদ্বেগ, রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

অন্যদিকে পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে কম দামে পণ্য সরবরাহের চাপের মধ্যে হঠাৎ বড় অঙ্কের মজুরি বৃদ্ধি শিল্পের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, নির্ধারিত সময়ে পণ্য রপ্তানি এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করা প্রয়োজন।

সংকট সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু শ্রমিক ও মালিকপক্ষ নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, রপ্তানি আয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে মালিকপক্ষের বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করে গ্রহণযোগ্য মজুরি কাঠামো নির্ধারণ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, হয়রানিমূলক তালিকা বাতিল এবং শ্রমিক-মালিকের মধ্যে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।

সরকার, শ্রমিক সংগঠন ও পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষের মধ্যে কার্যকর সংলাপই হতে পারে চলমান সংকট সমাধানের প্রধান পথ।

সব মিলিয়ে, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন এখন দেশের শিল্প ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত, শ্রমিকদের প্রত্যাশা এবং মালিকপক্ষের অবস্থানের মধ্যে কতটা সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে দেশের পোশাকশিল্পে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসার বিষয়টি।

প্রতিবেদনের তথ্যসূত্র: রয়টার্স, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বিডিনিউজ২৪ ও বাসস।

মন্তব্য / প্রেরক

বিরামপুরে জাতীয় যুব দিবসে র‍্যালী, আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ ‎

বিরামপুরে জাতীয় যুব দিবসে র‍্যালী, আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ ‎
ফটো: প্রতিনিধি

‎দিনাজপুরের বিরামপুরে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
‎
‎রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়।
‎
‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ তানজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে এবং একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আহসান হায়দার চৌধুরী।
‎
‎সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ হুমায়ুন কবির, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিঞা মোঃ শফিকুল আলম মামুন, পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী রুবেল এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজুসহ অন্যান্য অতিথিরা।
‎
‎বক্তারা যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের উন্নয়নে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও ঋণসুবিধা কাজে লাগিয়ে বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান।
‎
‎অনুষ্ঠানে যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে সহায়তা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

মন্তব্য / প্রেরক

নবাবগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস পালিত, উদ্যোক্তাদের ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ

নবাবগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস পালিত, উদ্যোক্তাদের ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ
ফটো: প্রতিনিধি

“দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।


রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মাঠে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা, উদ্যোক্তাদের ঋণের চেক ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো.সাইফ উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.নাজমুল হুদা,
খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. মাছুমা খাতুন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো ইকবাল হোসেন ও বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, যুব উন্নয়ন থেকে ঋণ গ্রহণকারী ও প্রশিক্ষণার্থী এবং ইলেকট্রনিকস ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ প্রমুখ। এ সময় বক্তারা বলেন, “যুবকরাই দেশের ভবিষ্যৎ। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। দেশের উন্নয়নে দক্ষ ও উদ্যোমী যুবকদের কাজে লাগাতে হবে। বক্তারা যুবসমাজকে মাদক, বেকারত্ব ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে দক্ষতা অর্জন এবং আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্তব্য / প্রেরক

বিরলে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন

বিরলে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন
ফটো: প্রতিনিধি

বিরলে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে র‍্যালি, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ও যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় র‍্যালি শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউল ইসলাম।


উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মাহফুজার রহমান চৌধুরী এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাবুল হোসেন, জামায়াতের সেক্রেটারি আজমীর হোসাইন, জাতীয় ছাত্রশক্তি জেলা শাখার সিনিয়র সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন উপজেলা শাখার সভাপতি নাজমুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) আনিছুর রহমান সরকার, প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. মোঃ রফিকুল ইসলাম, বিরল মহিলা কলেজ এর অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত)  মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। আলোচনা শেষে ১৬ জন প্রশিক্ষিত যুব উদ্যোক্তাকে মোট ১৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

মন্তব্য / প্রেরক

সাথে সংযুক্ত থাকুন

নিউজলেটার

নিউজলেটার বিবরণ

আর্কাইভ

please_select_a_date